ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেষ সময়ে কেমন ছিলেন খালেদা জিয়া?

বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তিনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার ও এফ এম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, কেমন ছিল খালেদা জিয়ার শারীরিক শেষাবস্থা।

আজ সকাল অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আমরা গত ১ মাস তাকে চিকিৎসা দিয়েছি। মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে ওনার চিকিৎসা দিয়েছি। সুস্থতার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। খালেদা জিয়ার কিডনি ভালো ছিল, কিন্তু ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছে। সেই ইনফেকশন তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। এক পর্যায়ে হার্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে ডাক্তার এফ এম সিদ্দিকী বলেছেন, ফুসফুসে ইনফেকশন হওয়ার পর খালেদা জিয়ার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। খালেদা জিয়ার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। এজন্য ওষুধে কাজ করছিল না। সোমবার রাত ১১টার দিকে একবার খালেদা জিয়ার হার্ট ফাংশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ডাক্তারদের একের পর এক চিকিৎসা দেওয়ার ফলে হার্ট ফাংশন আবার ফিরে আসে। কিন্তু এরপরে রাতে আবারও হার্ট ফাংশন বন্ধ হয়ে গেলে আস্তে আস্তে তিনি নিস্তেজ হয়ে যান। তখন তার পরিবারের সবাই ছিলেন এবং আমরা ক্লিনিক্যাল ডেথ ঘোষণা করি। এখানে আর কোনো কনফিউশন নেই।

মৃত্যুকালে হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন—জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শামিলা রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ সব আত্মীয়স্বজন।

আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। মৃত্যুকালে এই নেত্রীর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

শেষ সময়ে কেমন ছিলেন খালেদা জিয়া?

আপডেট সময় ০১:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তিনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার ও এফ এম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, কেমন ছিল খালেদা জিয়ার শারীরিক শেষাবস্থা।

আজ সকাল অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। আমরা গত ১ মাস তাকে চিকিৎসা দিয়েছি। মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে ওনার চিকিৎসা দিয়েছি। সুস্থতার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। খালেদা জিয়ার কিডনি ভালো ছিল, কিন্তু ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছে। সেই ইনফেকশন তার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। এক পর্যায়ে হার্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

অন্যদিকে ডাক্তার এফ এম সিদ্দিকী বলেছেন, ফুসফুসে ইনফেকশন হওয়ার পর খালেদা জিয়ার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। খালেদা জিয়ার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়েছিল। এজন্য ওষুধে কাজ করছিল না। সোমবার রাত ১১টার দিকে একবার খালেদা জিয়ার হার্ট ফাংশন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ডাক্তারদের একের পর এক চিকিৎসা দেওয়ার ফলে হার্ট ফাংশন আবার ফিরে আসে। কিন্তু এরপরে রাতে আবারও হার্ট ফাংশন বন্ধ হয়ে গেলে আস্তে আস্তে তিনি নিস্তেজ হয়ে যান। তখন তার পরিবারের সবাই ছিলেন এবং আমরা ক্লিনিক্যাল ডেথ ঘোষণা করি। এখানে আর কোনো কনফিউশন নেই।

মৃত্যুকালে হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন—জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান, ছোট ছেলের বউ শামিলা রহমান সিঁথি, ছোট ভাই শামীম এসকান্দার, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ সব আত্মীয়স্বজন।

আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। মৃত্যুকালে এই নেত্রীর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।