শিরোনাম :

দীর্ঘ চিকিৎসার পর দেশে ফিরলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রবাসের মাটিতে চিকিৎসার কঠিন পথ পেরিয়ে দেশের মাটিতে ফিরলেন অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ইলিয়াস কাঞ্চন। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে আজ সকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তার এই ফেরার খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সংবাদকর্মী।
জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পীর দেশে ফেরার সংবাদে ভক্ত-অনুরাগীদের মনে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি এই সংক্ষিপ্ত সফরের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ ও কষ্টকর এক সংগ্রামের গল্প। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা যায়, তিনি মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই জটিল অসুস্থতা মোকাবিলায় তাকে বেশ কঠোর চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। রোগের বিস্তার আটকাতে এবং শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে তিনি এখন পর্যন্ত ৬০ বার কেমোথেরাপি নিয়েছেন।
দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার শারীরিক অবয়বে স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। হিথ্রো বিমানবন্দরে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি হুইলচেয়ারে বসে আছেন এবং তার চুল ও দাড়ি একেবারে সাদা হয়ে গেছে। এই ছবি দেখে দেশের ভক্তকুল গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন পর্দায় দেখা এক পরিচিত মুখের এমন পরিবর্তন অনেককেই বিষণ্ণ করে তুলেছে, পাশাপাশি তার প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনার বার্তায় সামাজিক মাধ্যম পূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, লন্ডন থেকে যাত্রার সময় তার সঙ্গে ছিলেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। তবে এই দেশে ফেরা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাকে অচিরেই আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যেতে হবে। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যেই তার লন্ডনে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৫ আগস্ট তার শারীরিক অবস্থা পুনর্মূল্যায়নের জন্য জরুরি ফলো-আপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা তৈরির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এই অভিনেতার অসুস্থতার খবর আগেও সংবাদমাধ্যমে এসেছিল, তবে সাম্প্রতিক এই ছবি ও তথ্য তার শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব নতুনভাবে সামনে এনেছে। আশির দশক থেকে দেশের চলচ্চিত্রে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই তারকা পরবর্তীতে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্তান হারানোর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকে সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনে যুক্ত হন এবং দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই সামাজিক আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছেন।
তার এই স্বল্পকালীন দেশে ফেরার খবরে অনেক ভক্তই আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি পুরোপুরি দেশে ফিরে আসবেন এবং তার কর্মময় জীবনে আবারও সক্রিয় হবেন। একই সঙ্গে তার চিকিৎসার সার্বিক খরচ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে, যেখানে অনেকে তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
আগামী কয়েক দিনের এই সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে তিনি পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে সময় কাটাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তার সূচি বা কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চিকিৎসার এই দীর্ঘ যাত্রায় তার পরিবার, বিশেষ করে সন্তান ও নিকটাত্মীয়রা পাশে থেকে তাকে সহায়তা করছেন বলে জানা যায়।
সবমিলিয়ে, দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের এই পরিচিত মুখের সংক্ষিপ্ত এই প্রত্যাবর্তন একদিকে যেমন স্বজনদের জন্য আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেছে, তেমনি তার আরোগ্যের প্রত্যাশায় সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আগামী দিনগুলোর দিকে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

দীর্ঘ চিকিৎসার পর দেশে ফিরলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

আপডেট সময় ০২:০০:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রবাসের মাটিতে চিকিৎসার কঠিন পথ পেরিয়ে দেশের মাটিতে ফিরলেন অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক ইলিয়াস কাঞ্চন। লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে আজ সকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তার এই ফেরার খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন সংবাদকর্মী।
জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পীর দেশে ফেরার সংবাদে ভক্ত-অনুরাগীদের মনে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি এই সংক্ষিপ্ত সফরের নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘ ও কষ্টকর এক সংগ্রামের গল্প। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা যায়, তিনি মস্তিষ্কের টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই জটিল অসুস্থতা মোকাবিলায় তাকে বেশ কঠোর চিকিৎসাপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। রোগের বিস্তার আটকাতে এবং শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখতে তিনি এখন পর্যন্ত ৬০ বার কেমোথেরাপি নিয়েছেন।
দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় তার শারীরিক অবয়বে স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। হিথ্রো বিমানবন্দরে তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি হুইলচেয়ারে বসে আছেন এবং তার চুল ও দাড়ি একেবারে সাদা হয়ে গেছে। এই ছবি দেখে দেশের ভক্তকুল গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন পর্দায় দেখা এক পরিচিত মুখের এমন পরিবর্তন অনেককেই বিষণ্ণ করে তুলেছে, পাশাপাশি তার প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনার বার্তায় সামাজিক মাধ্যম পূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, লন্ডন থেকে যাত্রার সময় তার সঙ্গে ছিলেন জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স। তবে এই দেশে ফেরা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাকে অচিরেই আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যেতে হবে। চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যেই তার লন্ডনে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ১৫ আগস্ট তার শারীরিক অবস্থা পুনর্মূল্যায়নের জন্য জরুরি ফলো-আপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা তৈরির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এই অভিনেতার অসুস্থতার খবর আগেও সংবাদমাধ্যমে এসেছিল, তবে সাম্প্রতিক এই ছবি ও তথ্য তার শারীরিক অবস্থার গুরুত্ব নতুনভাবে সামনে এনেছে। আশির দশক থেকে দেশের চলচ্চিত্রে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকহৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই তারকা পরবর্তীতে সড়ক দুর্ঘটনায় সন্তান হারানোর ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকে সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনে যুক্ত হন এবং দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই সামাজিক আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকেছেন।
তার এই স্বল্পকালীন দেশে ফেরার খবরে অনেক ভক্তই আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত সুস্থ হয়ে তিনি পুরোপুরি দেশে ফিরে আসবেন এবং তার কর্মময় জীবনে আবারও সক্রিয় হবেন। একই সঙ্গে তার চিকিৎসার সার্বিক খরচ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে, যেখানে অনেকে তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
আগামী কয়েক দিনের এই সংক্ষিপ্ত অবস্থানকালে তিনি পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে সময় কাটাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও তার সূচি বা কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চিকিৎসার এই দীর্ঘ যাত্রায় তার পরিবার, বিশেষ করে সন্তান ও নিকটাত্মীয়রা পাশে থেকে তাকে সহায়তা করছেন বলে জানা যায়।
সবমিলিয়ে, দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের এই পরিচিত মুখের সংক্ষিপ্ত এই প্রত্যাবর্তন একদিকে যেমন স্বজনদের জন্য আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করেছে, তেমনি তার আরোগ্যের প্রত্যাশায় সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন আগামী দিনগুলোর দিকে।

Share this news as a Photo Card