কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নিখোঁজের প্রায় ছয় দিন পর ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দিনাজপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মনিকা (ছদ্মনাম) নামে ২০ বছর বয়সী এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, নিখোঁজ কিশোরীকে দিনাজপুরে এক আত্মীয়ের বাসায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে কিশোরীর ভাষ্য, মনিকার প্ররোচনায় তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি নিজেই তার কাছে চলে যান। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার একটি ইউনিয়ন থেকে ফুলকুমারি (ছদ্মনাম) নামের ওই কিশোরী নিখোঁজ হলে প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণের মামলা করা হয়। এরপর কিশোরীকে উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন একটি মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় পৌঁছায় পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সিমটি কেনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মনিকার সন্ধান পাওয়া যায়।
পরে গোয়েন্দা নজরদারি এবং দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের চেম্বার থেকে মনিকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৬ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে তাকে ভূরুঙ্গামারী থানায় নিয়ে আসে পুলিশের একটি দল।
পুলিশ জানায়, মনিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিখোঁজ কিশোরীর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এ সময় দিনাজপুরের এক নারী পুলিশকে জানান, মনিকাকে আরও দুই কিশোরীর সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন। ওই তথ্যের সূত্র ধরে মনিকার নিকট ও দূরসম্পর্কের আত্মীয়দের বাসায় তল্লাশি চালানো হয়।
একপর্যায়ে মনিকার দূরসম্পর্কের ফুফাতো বোন ফাতেমার (ছদ্মনাম) বাসা থেকে ফুলকুমারিকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে ওই বাসায় কিশোরীকে রাখা হয়েছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফুলকুমারি জানায়, মনিকার প্ররোচনায় তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি নিজেই তার কাছে চলে গিয়েছিলেন। তবে কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পেছনের প্রকৃত ঘটনা ও মামলার অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের পুরো অভিযান নিবিড়ভাবে তদারকি করা হয়েছে। প্রায় ছয় দিনের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে কিশোরীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মনিকা নিজেকে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং লিঙ্গান্তর-সংক্রান্ত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারের মাধ্যমে অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
**(কিশোরী ও অভিযুক্তের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ বিবেচনায় প্রতিবেদনে তাঁদের ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় শনাক্ত হতে পারে—এমন কোনো ছবি বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।)
নুরুল আমিন, স্টাফ রিপোর্টার 

























