শিরোনাম :
কুড়িগ্রামের সীমান্ত দিয়ে চোরাই মোবাইলের রমরমা বাণিজ্য, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
-
নুরুল আমিন, স্টাফ রিপোর্টার - আপডেট সময় ০৩:১৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- 2
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন দেশে প্রবেশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব হ্যান্ডসেট বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বৈধ মোবাইল ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে, সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব। পাশাপাশি অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেটের ব্যবহার নিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা-উদ্বেগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন দুর্গম পথ ব্যবহার করে এসব মোবাইল ফোন দেশে আনা হচ্ছে। নাগেশ্বরী পৌরসভার কলেজ মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও বিএসসি মোড় এলাকায় অবৈধ মোবাইল ফোনের লেনদেন চলে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আসাদ মোড় এলাকায় প্রশাসনের অভিযানে নামিদামি ব্র্যান্ডের অর্ধশতাধিক হ্যান্ডসেট উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাঁশজানি, ভোটহাট, ধলডাঙ্গা ও শালঝোড় সীমান্ত এলাকায় চোরাই মোবাইল ফোনের ব্যবসার সঙ্গে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন জড়িত রয়েছেন। তবে এ সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া নাগেশ্বরীর কচাকাটা, ফুলবাড়ী, রৌমারী ও উলিপুরের বিভিন্ন সীমান্তপথ ব্যবহার করেও অবৈধভাবে মোবাইল ফোন দেশে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব এলাকায় চোরাচালানের বিস্তার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, নদীবেষ্টিত দুর্গম এলাকা ও সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারিরা এ ধরনের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে। শুল্ক ও প্রযোজ্য কর পরিশোধ না করে আনা মোবাইল ফোন তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হওয়ায় বৈধ আমদানিকারক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।
বৈধ পথে আমদানি করা মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক, কর ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়। বিপরীতে, চোরাই পথে আনা ফোন এসব ব্যয় এড়িয়ে বাজারে বিক্রির সুযোগ পেলে বৈধ ব্যবসায়ীরা মূল্য প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন। একই সঙ্গে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় অবৈধ মোবাইল ফোনের উৎস শনাক্ত, সরবরাহব্যবস্থা অনুসন্ধান এবং বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চোরাই পথে আনা মোবাইল ফোনের উৎস, আমদানি-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও নিবন্ধন যাচাই করা জরুরি। যথাযথ নথিপত্রের অভাবে কোনো হ্যান্ডসেটের মালিকানা বা সরবরাহের ধারাবাহিকতা শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। ফলে অপরাধ তদন্তের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে অনিবন্ধিত প্রতিটি হ্যান্ডসেট অপরাধে ব্যবহৃত হয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী নিবন্ধন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়ায় এ ধরনের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের দাবি, শুধু সীমান্তে নজরদারি বাড়ালেই হবে না; অবৈধ মোবাইল ফোনের সরবরাহব্যবস্থা, মজুত ও বিক্রয়কেন্দ্রগুলোকেও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
চোরাই মোবাইল ফোনের প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শুল্ক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মোবাইল ফোনের প্রবেশ ও বিক্রি বন্ধ করা গেলে একদিকে সরকারি রাজস্ব সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
জনপ্রিয় সংবাদ

























