কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ আহরণ বন্ধ, অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার রোধ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দুধকুমার নদে সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস ও ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত টানা ছয় ঘণ্টা এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় কয়েক কিলোমিটার অবৈধ চায়না ও দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশের বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন এবং মা ইলিশ রক্ষায় দেশব্যাপী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারীর দুধকুমার নদে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুধকুমার নদের সামাদের ঘাট থেকে আন্ধারিঝাড়ের ধাউরারকুঠি পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদে অবৈধভাবে ব্যবহৃত কয়েক কিলোমিটার চায়না ও দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি আইপিএস ও ব্যাটারি ব্যবহার করে বৈদ্যুতিক শকের মাধ্যমে মাছ শিকার এবং জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনসহ মৎস্য বিভাগের প্রতিনিধি, পুলিশ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দুধকুমার নদটি সরু ও চরবেষ্টিত হওয়ায় দূর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন জেলে সরে যান। ফলে এ অভিযানে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মৎস্য প্রজাতির বংশবিস্তার নিশ্চিত করা, নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের পাশাপাশি জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতনতা এবং সহযোগিতা জরুরি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দুধকুমার নদে ইলিশসহ দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব।
নুরুল আমিন, স্টাফ রিপোর্টার 

























