ডীন ও বিভাগীয় প্রধানের বহিষ্কারের দাবিতে খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে অবস্থিত খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে (KYAU) সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে ঘিরে আইন বিভাগ ও যমুনা হলের ছাত্র-ছাত্রীরা গতকাল ১৬ নভেম্বর রোববার সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক সপ্তাহের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থীদের অতর্কিত হামলার অভিযোগ তুলে তারা এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে আহত শিক্ষার্থীদের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ২০, ২১ ও ২৪ ব্যাচের আহতদের ছবি তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন—এ ধরনের সহিংসতা শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং দাবি জানান—অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন—এই সহিংসতার প্রত্যক্ষ মদদদাতা হলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন মোস্তফা মাহমুদ হাসান ও বিভাগীয় প্রধান মোঃ মোতাহার হোসেন। তারা দাবি করেন, এই দুইজনকে দ্রুত বহিষ্কার না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরবে না। শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন যে এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তা তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মানববন্ধনে আইন বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা আরও জানান, এ সহিংসতায় তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করেন—ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্র-শিক্ষকদের বহিষ্কার, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় যে কমিটি গঠন করেছে, সেটি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ—ট্রেজারার ও ভারপ্রাপ্ত ভিসি আহসানউল্লাহ হাবিব তদন্ত কমিটিতে থাকলে বা বিচারক হলে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে সন্দেহ তৈরি হবে। শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন মোস্তফা মাহমুদ হাসান ট্রেজারার আহসানউল্লাহ হাবিবের আপন ভাগ্নে, এবং ট্রেজারারের রেফারেন্সেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছেন বলে অনেকেই দাবি করছেন।
এই কারণে অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন—“মামা-ভাগ্নের প্রহসনের বিচার মানবে না সাধারণ শিক্ষার্থীরা।” শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এমন প্রভাবশালী সম্পর্কের কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি পুনর্বার দাবি জানান—সহিংসতা প্রতিরোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত তদন্ত ও বিচার না হলে তারা পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এদিকে মানববন্ধন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সর্বোচ্চ পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন—বিচার নিশ্চিত না হলে তারা আবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনার বিচার এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিশ্চিত হলে, সবকিছু ইতিবাচক হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ডীন ও বিভাগীয় প্রধানের বহিষ্কারের দাবিতে খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

আপডেট সময় ১২:৫২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে অবস্থিত খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ে (KYAU) সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনাকে ঘিরে আইন বিভাগ ও যমুনা হলের ছাত্র-ছাত্রীরা গতকাল ১৬ নভেম্বর রোববার সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক সপ্তাহের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থীদের অতর্কিত হামলার অভিযোগ তুলে তারা এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে আহত শিক্ষার্থীদের ছবি সম্বলিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করা হয়, যেখানে ২০, ২১ ও ২৪ ব্যাচের আহতদের ছবি তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন—এ ধরনের সহিংসতা শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং দাবি জানান—অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন—এই সহিংসতার প্রত্যক্ষ মদদদাতা হলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন মোস্তফা মাহমুদ হাসান ও বিভাগীয় প্রধান মোঃ মোতাহার হোসেন। তারা দাবি করেন, এই দুইজনকে দ্রুত বহিষ্কার না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরবে না। শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসন যে এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তা তাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মানববন্ধনে আইন বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা আরও জানান, এ সহিংসতায় তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করেন—ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্র-শিক্ষকদের বহিষ্কার, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং একটি নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় যে কমিটি গঠন করেছে, সেটি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ—ট্রেজারার ও ভারপ্রাপ্ত ভিসি আহসানউল্লাহ হাবিব তদন্ত কমিটিতে থাকলে বা বিচারক হলে নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে সন্দেহ তৈরি হবে। শিক্ষার্থীরা জানান, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন মোস্তফা মাহমুদ হাসান ট্রেজারার আহসানউল্লাহ হাবিবের আপন ভাগ্নে, এবং ট্রেজারারের রেফারেন্সেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছেন বলে অনেকেই দাবি করছেন।
এই কারণে অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন—“মামা-ভাগ্নের প্রহসনের বিচার মানবে না সাধারণ শিক্ষার্থীরা।” শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এমন প্রভাবশালী সম্পর্কের কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি পুনর্বার দাবি জানান—সহিংসতা প্রতিরোধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত তদন্ত ও বিচার না হলে তারা পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এদিকে মানববন্ধন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সর্বোচ্চ পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন—বিচার নিশ্চিত না হলে তারা আবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনার বিচার এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

Share this news as a Photo Card