জাপানে ১০ বছর ধরে কমছে জন্মহার, বিপাকে সরকার

জাপানে নবজাতক জন্মের সংখ্যা টানা দশ বছরের মতো হ্রাস পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে জাপানে মোট শিশুর জন্ম হয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ৮০৯ জন। যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই জন্মহার হ্রাসের ধারা গত ১০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। যদিও ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হ্রাসের হার ছিল প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ২০২৫ সালে তা কিছুটা ধীর হয়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রাথমিক পরিসংখ্যানে জাপানে বসবাসরত জাপানি নাগরিক, বিদেশি নাগরিক ও বিদেশে অবস্থানরত জাপানি নাগরিকদের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের শেষের দিকে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান আসবে। তখন শুধু জাপানি নাগরিকদের মধ্যে জন্মের সংখ্যা আরও কম হতে পারে।

জাপানের জন্য এই জনসংখ্যাগত সংকট এখন একটি ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জন্মহার হ্রাসের এই গতি জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাসের চেয়েও অন্তত ১৫ বছর এগিয়ে আছে। অর্থাৎ ২০৪০ সালের দিকে জন্মহার কমে যে পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা এখনই ঘটে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তরুণদের দেরিতে বিয়ে করা, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সংকট মোকাবিলাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বেবিসিটারদের জন্য ট্যাক্স ছাড়, অফিসগুলোতে চাইল্ডকেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো এবং প্রসবকালীন চিকিৎসা খরচ কমানোর মতো বেশ কিছু নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ও শিগেরু ইশিবাও বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন সমমূল্যের ‘অভূতপূর্ব’ শিশু সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো বড় সুফল দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, জন্মহার হ্রাসের পাশাপাশি ২০২৫ সালে জাপানে মৃত্যুর সংখ্যাও জন্মের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল (প্রায় ১৬ লাখ)। যা দেশটির জনসংখ্যাকে আরও সংকুচিত করে তুলছে। বর্তমানে জাপানের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিশ্চিত হলে, সবকিছু ইতিবাচক হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

জাপানে ১০ বছর ধরে কমছে জন্মহার, বিপাকে সরকার

আপডেট সময় ০২:৩২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাপানে নবজাতক জন্মের সংখ্যা টানা দশ বছরের মতো হ্রাস পেয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে জাপানে মোট শিশুর জন্ম হয়েছে ৭ লাখ ৫ হাজার ৮০৯ জন। যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই জন্মহার হ্রাসের ধারা গত ১০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। যদিও ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হ্রাসের হার ছিল প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ২০২৫ সালে তা কিছুটা ধীর হয়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এই প্রাথমিক পরিসংখ্যানে জাপানে বসবাসরত জাপানি নাগরিক, বিদেশি নাগরিক ও বিদেশে অবস্থানরত জাপানি নাগরিকদের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের শেষের দিকে চূড়ান্ত পরিসংখ্যান আসবে। তখন শুধু জাপানি নাগরিকদের মধ্যে জন্মের সংখ্যা আরও কম হতে পারে।

জাপানের জন্য এই জনসংখ্যাগত সংকট এখন একটি ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জন্মহার হ্রাসের এই গতি জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাসের চেয়েও অন্তত ১৫ বছর এগিয়ে আছে। অর্থাৎ ২০৪০ সালের দিকে জন্মহার কমে যে পর্যায়ে যাওয়ার কথা ছিল, তা এখনই ঘটে গেছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তরুণদের দেরিতে বিয়ে করা, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয় ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সংকট মোকাবিলাকে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বেবিসিটারদের জন্য ট্যাক্স ছাড়, অফিসগুলোতে চাইল্ডকেয়ার সেন্টার স্থাপনের জন্য কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো এবং প্রসবকালীন চিকিৎসা খরচ কমানোর মতো বেশ কিছু নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন।

এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ও শিগেরু ইশিবাও বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন সমমূল্যের ‘অভূতপূর্ব’ শিশু সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো বড় সুফল দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, জন্মহার হ্রাসের পাশাপাশি ২০২৫ সালে জাপানে মৃত্যুর সংখ্যাও জন্মের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ছিল (প্রায় ১৬ লাখ)। যা দেশটির জনসংখ্যাকে আরও সংকুচিত করে তুলছে। বর্তমানে জাপানের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছরের বেশি, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।

Share this news as a Photo Card