সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে পিআইও’র মিথ্যা মামলা

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের দুর্নীতি ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ এবং গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পিআইও’র দ্রুত অপসারণ দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানানো হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৭ এপ্রিল রাত ১০টায় সরকারি বিধি বহির্ভূতভাবে অফিস পরিচালনা করছিলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ এত রাতে অফিস করার কারণ জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে উল্টো হুমকি প্রদান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে একটি ‘সাজানো’ চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়।
এই মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন ও সাংবাদিক জিয়াউর রহমান। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদ রানীশংকৈল উপজেলা সভাপতি সোহরাব হোসেন ও
 সাধারণ সম্পাদক, জাফর আলী ও সাংবাদিক রাকিব ফেরদৌস সহ ৫ জন কে  আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার ।
এসময় ছাত্র অধিকার পরিষদের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি জাহিদ অভিযোগ করে বলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার বিগত সরকারের আমল থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই পিআইও
উপজেলা ডাকবাংলোতে প্রায় এক মাস অবস্থান করে ১৪,৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।  দুদকেও ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে  বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও প্রকাশ্যে অফিসে বসে ধূমপান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তথ্য প্রদান না করে সাংবাদিকদের হয়রানি করার দীর্ঘ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গ্রেপ্তারকৃত নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আমার এই কঠিন সময়ে আমার পাশে আমার স্বামীর থাকা  সবচাইতে জরুরি ছিল। অথচ একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সাজানো ও মিথ্যা মামলায় আমার স্বামী আজ কারাগারে। আমি এই অন্যায়ের তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে আমার স্বামীর মুক্তি ও ওই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আক্রোশে নিরপরাধ রাজনৈতিক নেতা ও কলম যোদ্ধাদের হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না। তারা অবিলম্বে পিআইও নুরুন্নবী সরকারকে রাণীশংকৈল থেকে অপসারণ এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিশ্চিত হলে, সবকিছু ইতিবাচক হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে পিআইও’র মিথ্যা মামলা

আপডেট সময় ০৭:০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নবী সরকারের দুর্নীতি ও জনবিচ্ছিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ এবং গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পিআইও’র দ্রুত অপসারণ দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির জোরালো দাবি জানানো হয়। এসময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৭ এপ্রিল রাত ১০টায় সরকারি বিধি বহির্ভূতভাবে অফিস পরিচালনা করছিলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার। গণঅধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ এত রাতে অফিস করার কারণ জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে উল্টো হুমকি প্রদান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে একটি ‘সাজানো’ চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়।
এই মামলায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন ও সাংবাদিক জিয়াউর রহমান। এছাড়াও গণঅধিকার পরিষদ রানীশংকৈল উপজেলা সভাপতি সোহরাব হোসেন ও
 সাধারণ সম্পাদক, জাফর আলী ও সাংবাদিক রাকিব ফেরদৌস সহ ৫ জন কে  আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার ।
এসময় ছাত্র অধিকার পরিষদের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি জাহিদ অভিযোগ করে বলেন পিআইও নুরুন্নবী সরকার বিগত সরকারের আমল থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই পিআইও
উপজেলা ডাকবাংলোতে প্রায় এক মাস অবস্থান করে ১৪,৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ না করায় তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নিকট লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।  দুদকেও ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে  বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার তথ্যও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও প্রকাশ্যে অফিসে বসে ধূমপান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া এবং তথ্য প্রদান না করে সাংবাদিকদের হয়রানি করার দীর্ঘ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গ্রেপ্তারকৃত নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, আমার এই কঠিন সময়ে আমার পাশে আমার স্বামীর থাকা  সবচাইতে জরুরি ছিল। অথচ একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সাজানো ও মিথ্যা মামলায় আমার স্বামী আজ কারাগারে। আমি এই অন্যায়ের তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে আমার স্বামীর মুক্তি ও ওই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আক্রোশে নিরপরাধ রাজনৈতিক নেতা ও কলম যোদ্ধাদের হয়রানি মেনে নেওয়া হবে না। তারা অবিলম্বে পিআইও নুরুন্নবী সরকারকে রাণীশংকৈল থেকে অপসারণ এবং গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানান তারা।

Share this news as a Photo Card