শিরোনাম :
হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮১৮ ৪ বছরে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ১৬ আগস্ট টেকনাফে দিনে দুপুরে বাস থামিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০ আগস্ট, ভোটগ্রহণের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হলো রাজধানীর নদী দূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বিতর্কিত আয়ের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইলেন ফিফা প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প, ফাঁসকারীদের হুঁশিয়ারি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ

পাস হলো ৫টি সংশোধনী বিল

নির্দলীয় নির্বাচন: কাগজে বাস্তব হলেও মাঠে কি সম্ভব?

নিজস্ব প্রতিবেদক | চলমানবার্তা ১২ এপ্রিল ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বাতিল করে জাতীয় সংসদে একযোগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। আইনি কাঠামোতে এই আমূল পরিবর্তনের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত সব স্তরে দলীয় মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক পথ বন্ধ হলো। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের দলীয় সংস্কৃতি ও প্রভাবের কারণে ‘অনানুষ্ঠানিক মনোনয়ন’ ও প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা মাঠপর্যায়ে রয়েই গেছে।

আইনি পরিবর্তন ও পাসের প্রেক্ষাপট গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘ইউনিয়ন পরিষদ’, ‘উপজেলা’, ‘জেলা পরিষদ’, ‘পৌরসভা’ এবং ‘সিটি কর্পোরেশন’ সংশোধন বিল-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর এগুলো কার্যকর আইনে পরিণত হবে। নতুন আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো কোনো প্রার্থীকে দলীয় প্রতীক বা সমর্থন দিতে পারবে না। সব প্রার্থীই ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দলীয় প্রতীকের নেতিবাচক ইতিহাস ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে জবাবদিহিতার যুক্তিতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রথা চালু করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর ফলাফল ছিল বিপরীত। স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন-বাণিজ্য, সহিংসতা এবং তীব্র সামাজিক বিভক্তি লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে যোগ্য ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।

যোগ্য প্রার্থী ফেরার সম্ভাবনা নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্দলীয় ব্যবস্থা ফিরলে স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। নির্বাচনব্যবস্থা ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার এই আইনি রূপ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের শঙ্কা: ‘অদৃশ্য মনোনয়ন’ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, কেবল আইন পরিবর্তনই স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন ফেরানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন:

“রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মনোনয়ন দেবে না; কিন্তু অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থী ঠিকই থাকতে পারে। এমনটা হলে যোগ্য ব্যক্তিরা আগের মতোই নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে থাকবেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, সরকার যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সদিচ্ছা দেখায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো যদি অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত থাকে, তবেই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে আগুন, পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ

০৫ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পাস হলো ৫টি সংশোধনী বিল

আপডেট সময় ০৬:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

নির্দলীয় নির্বাচন: কাগজে বাস্তব হলেও মাঠে কি সম্ভব?

নিজস্ব প্রতিবেদক | চলমানবার্তা ১২ এপ্রিল ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বাতিল করে জাতীয় সংসদে একযোগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। আইনি কাঠামোতে এই আমূল পরিবর্তনের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত সব স্তরে দলীয় মনোনয়নের আনুষ্ঠানিক পথ বন্ধ হলো। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের দলীয় সংস্কৃতি ও প্রভাবের কারণে ‘অনানুষ্ঠানিক মনোনয়ন’ ও প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা মাঠপর্যায়ে রয়েই গেছে।

আইনি পরিবর্তন ও পাসের প্রেক্ষাপট গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘ইউনিয়ন পরিষদ’, ‘উপজেলা’, ‘জেলা পরিষদ’, ‘পৌরসভা’ এবং ‘সিটি কর্পোরেশন’ সংশোধন বিল-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর এগুলো কার্যকর আইনে পরিণত হবে। নতুন আইন অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো কোনো প্রার্থীকে দলীয় প্রতীক বা সমর্থন দিতে পারবে না। সব প্রার্থীই ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

দলীয় প্রতীকের নেতিবাচক ইতিহাস ২০১৫ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে জবাবদিহিতার যুক্তিতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের প্রথা চালু করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে এর ফলাফল ছিল বিপরীত। স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন-বাণিজ্য, সহিংসতা এবং তীব্র সামাজিক বিভক্তি লক্ষ্য করা যায়। এর ফলে যোগ্য ও সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।

যোগ্য প্রার্থী ফেরার সম্ভাবনা নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্দলীয় ব্যবস্থা ফিরলে স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। নির্বাচনব্যবস্থা ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার এই আইনি রূপ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের শঙ্কা: ‘অদৃশ্য মনোনয়ন’ সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, কেবল আইন পরিবর্তনই স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন ফেরানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন:

“রাজনৈতিক দলগুলো হয়তো এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মনোনয়ন দেবে না; কিন্তু অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থী ঠিকই থাকতে পারে। এমনটা হলে যোগ্য ব্যক্তিরা আগের মতোই নির্বাচনী মাঠ থেকে দূরে থাকবেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, সরকার যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সদিচ্ছা দেখায় এবং রাজনৈতিক দলগুলো যদি অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তার থেকে বিরত থাকে, তবেই এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে।

Share this news as a Photo Card