চার বছর আগে নিজের বাসায় র্যাবের আকস্মিক অভিযান ও পরবর্তী গ্রেপ্তারের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। ওই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ ও ‘বিশেষ মহলের স্বার্থে’ করা হয়েছিল দাবি করে তিনি রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন তুলেছেন—তাঁর হারিয়ে যাওয়া সম্মান ও মানসিক শান্তি কি আর কখনো ফিরে পাওয়া সম্ভব?
গতকাল শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ বিবৃতিতে পরীমনি তাঁর জীবনের এই অন্ধকার অধ্যায়টি নিয়ে প্রথমবার বিস্তারিত মুখ খোলেন।
‘অন্যায্য গ্রেপ্তারের শিকার’
পরীমনি তাঁর স্ট্যাটাসে সম্প্রতি একটি অনলাইন টক শোতে র্যাবের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তার স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে জানান, তৎকালীন র্যাব মহাপরিচালকের নির্দেশেই তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি লেখেন, “সেই ঘটনার কারণে আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে টানা ২৮ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল।”
গ্রেপ্তারের পর যেভাবে তাঁর চরিত্র ও নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ‘বেদনাদায়ক অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।
প্রতিশোধ নয়, চান ন্যায়বিচার
অতীতের এই ক্ষত নিয়ে কোনো প্রতিশোধ নিতে চান না জানিয়ে পরীমনি বলেন, “আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন।” সমস্ত গ্লানি মুছে সন্তান, পরিবার ও ভক্তদের ভালোবাসা নিয়ে ‘মুক্ত আকাশের পরীর মতো’ সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৪ আগস্ট বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মাদক মামলার পাশাপাশি সাভারের বোট ক্লাবের ঘটনা কেন্দ্রিক মামলাগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 





















