সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোতে ফের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচাপের তারতম্যের জেরে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জারি করা এই সতর্কবার্তা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা—এই চার সমুদ্রবন্দরকে সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় দিনকয়েক ধরে অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ইতিমধ্যে শক্তি হারিয়েছে। বর্তমানে এটি লঘুচাপ আকারে ভারতের উত্তর উড়িষ্যা, তৎসংলগ্ন বিহার এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে অবস্থান করছে। তবে দুর্বল হয়ে পড়লেও এই লঘুচাপের প্রভাব থেকে এখনই নিস্তার মিলছে না উপকূলীয় জনপদের। এর জেরে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পশ্চিমাংশে বায়ুচাপের পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন উপকূলীয় জেলেরা। আবহাওয়া অধিদপ্তর স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিয়োজিত নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। সাগর উত্তাল থাকা অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জেলে ও নৌযান মালিকদের।
শুধু সমুদ্র নয়, স্থলভাগেও এই লঘুচাপের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতেও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব দেখা যেতে পারে। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগের এই ঝড়ো বাতাসের প্রভাব পড়বে ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে। এসব অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ ও তার প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো পরিস্থিতি নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিবারই এর তীব্রতা ও গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যায়, যে কারণে ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরবর্তী পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রয়োজনে সতর্ক সংকেতের মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে এমন আবহাওয়া পরিস্থিতিতে উপকূলীয় বাসিন্দা, জেলে সম্প্রদায় ও নৌযান পরিচালনাকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যারা সমুদ্র ও নদীপথে চলাচল করেন, তাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে সতর্ক সংকেতের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় ০২:৪০:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোতে ফের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বায়ুচাপের তারতম্যের জেরে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জারি করা এই সতর্কবার্তা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা—এই চার সমুদ্রবন্দরকে সতর্কতার আওতায় রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্যমতে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় দিনকয়েক ধরে অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ইতিমধ্যে শক্তি হারিয়েছে। বর্তমানে এটি লঘুচাপ আকারে ভারতের উত্তর উড়িষ্যা, তৎসংলগ্ন বিহার এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে অবস্থান করছে। তবে দুর্বল হয়ে পড়লেও এই লঘুচাপের প্রভাব থেকে এখনই নিস্তার মিলছে না উপকূলীয় জনপদের। এর জেরে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পশ্চিমাংশে বায়ুচাপের পার্থক্য বেড়ে যাওয়ায় সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন উপকূলীয় জেলেরা। আবহাওয়া অধিদপ্তর স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিয়োজিত নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। সাগর উত্তাল থাকা অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জেলে ও নৌযান মালিকদের।
শুধু সমুদ্র নয়, স্থলভাগেও এই লঘুচাপের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, আজ সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতেও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব দেখা যেতে পারে। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগের এই ঝড়ো বাতাসের প্রভাব পড়বে ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে। এসব অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ ও তার প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়ো পরিস্থিতি নতুন কিছু নয়। তবে প্রতিবারই এর তীব্রতা ও গতিপথ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যায়, যে কারণে ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পরবর্তী পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রয়োজনে সতর্ক সংকেতের মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে এমন আবহাওয়া পরিস্থিতিতে উপকূলীয় বাসিন্দা, জেলে সম্প্রদায় ও নৌযান পরিচালনাকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যারা সমুদ্র ও নদীপথে চলাচল করেন, তাদের আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে সতর্ক সংকেতের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।

Share this news as a Photo Card