আর মাত্র একটি দিনের অপেক্ষা। এরপরই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আয়োজন, বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল। নকআউট পর্বের একের পর এক ঝলমলে পারফরম্যান্স দেখিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে অপেক্ষায় আছে স্পেন। আর্জেন্টিনার এই সাফল্যযাত্রায় সবচেয়ে বড় নাম, দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি।
২০২২ বিশ্বকাপেই শিরোপা জিতে ক্যারিয়ারের সব অপূর্ণতা ঘুচিয়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। তাই এবারের বিশ্বকাপটা তার জন্য অনেকটাই বোনাসের মতো। তারপরও ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে শিরোপা জিতে বিদায়টা রাঙিয়ে তোলার তাড়না তো থেকেই যায়। প্রশ্ন উঠছিল, ফাইনালের আগে কি তাহলে কোনো বাড়তি চাপ অনুভব করছেন মেসি? সেই প্রশ্নের জবাব খোদ মেসির মুখ থেকেই মিলেছে।
নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের প্রাক্কালে কোচ লিওনেল স্কালোনি ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে সঙ্গে নিয়ে এক অনুষ্ঠানে হাজির হন মেসি। সেখানেই প্রথমবারের মতো ফাইনাল ঘিরে নিজের অনুভূতির কথা খোলাসা করেন আর্জেন্টাইন এই তারকা।
স্পেনের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে মেসি জানিয়ে দিয়েছেন, তার দল কখনও চাপ নিয়ে ভাবেনি, বরং খেলাটাকে উপভোগ করেই বেড়ে উঠেছে তারা। এ প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকেই অনেক আবেগ আর আনন্দ নিয়ে ফুটবল খেলেছি। কোথায় খেলছি, সেটা কখনও বড় বিষয় ছিল না। স্কুল, রাস্তা কিংবা ক্লাব— সব জায়গাতেই আমরা খেলাটাকে উপভোগ করেছি।’
চাপ প্রসঙ্গে আরও খোলামেলা মেসি বলেন, ‘আমরা কখনও চাপ নিয়ে ভাবিনি। বিষয়টিকে খুব স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছি। আমরা প্রতিযোগিতামূলক একটি দল, জিততে চাই আমরা। তবে এটি একটি দলগত খেলা। প্রতিপক্ষও খেলে, তাই সবসময় জেতা সম্ভব হয় না। ছোটবেলা থেকেই শিখেছি, জয়ের চেয়ে হারের সংখ্যাই বেশি আসে জীবনে, আর সেই শিক্ষাই আমাকে একজন মানুষ এবং একজন খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলেছে।’
মেসির এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয়, বয়স কিংবা অর্জনের পাহাড় জমলেও তার মানসিকতায় বদল আসেনি। ছেলেবেলায় রাস্তায়, স্কুলের মাঠে যে আনন্দ নিয়ে বল নিয়ে ছুটতেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বিশাল মঞ্চেও সেই একই মানসিকতা ধরে রাখতে চান তিনি। জয়-পরাজয়কে জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নেওয়ার এই দর্শনই তাকে এত বছর ধরে চাপমুক্ত রেখে সেরাটা দিতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
আর্জেন্টিনা শিবিরে এখন উৎসবের আমেজ। কোচ স্কালোনির অধীনে গড়া এই দলটি বিশ্বকাপ ধরে রাখার লড়াইয়ে নেমেছে পুরোপুরি ছন্দে থেকে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের নির্ভরতা আর মেসির অভিজ্ঞতা— এই দুইয়ের মিশেলে আরও একটি শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। অন্যদিকে স্পেনও প্রস্তুত সব শক্তি নিয়ে ফাইনালের লড়াইয়ে নামতে।
সব মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা এখন আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার। নিউ জার্সির মাঠে যখন বাজবে রেফারির বাঁশি, তখন মাঠের চারপাশে থাকবে কোটি কোটি দর্শকের নিঃশ্বাস আটকে রাখা উত্তেজনা। মেসির শেষ বিশ্বকাপ যাত্রা কি আরেকটি শিরোপা দিয়েই শেষ হবে, নাকি স্পেন লিখবে নতুন গল্প— তার উত্তর মিলবে খুব শিগগিরই।
এস কে চন্দন 




















