নীরব বিদায়ে শেষ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অধ্যায়

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ছেন। তাঁর এই বিদায় অনেকটাই নীরব, যা দেশের বেশ কয়েকজন সাবেক রাষ্ট্রপতির বিদায়ের সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ১৭ জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, কেউ রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ বিদায় নিয়েছেন কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় আয়োজন ছাড়াই।

বাংলাদেশের সংবিধান বা প্রচলিত আইনে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের জন্য বাধ্যতামূলক কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নেই। তবে ২০২৩ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে বঙ্গভবনে গার্ড অব অনার, লালগালিচা সংবর্ধনা এবং আনুষ্ঠানিক বিদায়ের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে এমন আয়োজন ছিল প্রথম।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে অধিকাংশ রাষ্ট্রপতির বিদায় নীরব হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক বাস্তবতাই বড় কারণ। ১৯৯১ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় প্রতিবারই ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। ফলে এক দলের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির বিদায় হয়েছে প্রতিপক্ষ দলের শাসনামলে। এমন পরিস্থিতিতে বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় আয়োজন দেখা যায়নি।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। তাঁর মেয়াদকালেই ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং একই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ইতিহাসও নানা নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় নিহত হন। রাজনৈতিক অভ্যুত্থান, সামরিক শাসন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদের চরিত্রও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হয়ে মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে কেন্দ্রীভূত হয়।
এদিকে মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের পর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে পরামর্শ চলছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গভবনে আরেকটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নীরব বিদায়ে শেষ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অধ্যায়

আপডেট সময় ০১:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ছেন। তাঁর এই বিদায় অনেকটাই নীরব, যা দেশের বেশ কয়েকজন সাবেক রাষ্ট্রপতির বিদায়ের সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ১৭ জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, কেউ রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ বিদায় নিয়েছেন কোনো আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় আয়োজন ছাড়াই।

বাংলাদেশের সংবিধান বা প্রচলিত আইনে রাষ্ট্রপতির বিদায়ের জন্য বাধ্যতামূলক কোনো রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান নেই। তবে ২০২৩ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদকে বঙ্গভবনে গার্ড অব অনার, লালগালিচা সংবর্ধনা এবং আনুষ্ঠানিক বিদায়ের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে এমন আয়োজন ছিল প্রথম।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে অধিকাংশ রাষ্ট্রপতির বিদায় নীরব হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক বাস্তবতাই বড় কারণ। ১৯৯১ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় প্রতিবারই ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। ফলে এক দলের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির বিদায় হয়েছে প্রতিপক্ষ দলের শাসনামলে। এমন পরিস্থিতিতে বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে ঘিরে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় আয়োজন দেখা যায়নি।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। তাঁর মেয়াদকালেই ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং একই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির ইতিহাসও নানা নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় নিহত হন। রাজনৈতিক অভ্যুত্থান, সামরিক শাসন, অন্তর্বর্তী সরকার এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদের চরিত্রও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হয়ে মূলত সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে কেন্দ্রীভূত হয়।
এদিকে মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের পর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে পরামর্শ চলছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে বঙ্গভবনে আরেকটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

Share this news as a Photo Card