বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ফি নেবে না হুথিরা

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ধরনের টোল বা ফি আদায়ের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এমন পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তারা তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে এবং স্পষ্ট করেছে যে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে চলাচল আগের মতোই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অব্যাহত থাকবে।
শনিবার (১ আগস্ট) হুথি-নিয়ন্ত্রিত হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার বা এইচওসিসি এক বিবৃতির মাধ্যমে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের পরিচালিত ‘সেফ ট্রানজিট সার্ভিস’ পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবামূলক একটি উদ্যোগ, যার বিনিময়ে কোনো অর্থ আদায় করা হয় না। কেউ যদি জাহাজ চলাচলের বিনিময়ে অর্থ দাবি করে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইয়েমেন কিংবা এইচওসিসির প্রতিনিধিত্ব করছে না।
এই বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও একটি স্পষ্ট আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পরিশোধ কিংবা কোনো ধরনের তথ্য হস্তান্তর থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাদের। এর মধ্য দিয়ে হুথি কর্তৃপক্ষ বোঝাতে চেয়েছে, নৌপথ সংক্রান্ত যেকোনো আর্থিক লেনদেনের দাবি ভুয়া এবং প্রতারণামূলক হতে পারে।
এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে একটি প্রতিবেদন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর ফি বসানোর বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি তেহরান সফরকালে হুথি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য একটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায় ইরানি কর্মকর্তারা সহযোগিতা করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে হুথিদের সাম্প্রতিক বিবৃতি সেই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দিল।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ, যা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই নৌপথ। এই রুটে টোল আরোপ করা হলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে সৌদি আরব, কারণ হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশটি সম্প্রতি এই বিকল্প পথের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়িয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুথিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছিল। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য হামলার মাত্রা কমে এলেও এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।
এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরব সম্প্রতি ১৪টি দেশকে নিয়ে একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সব মিলিয়ে, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মানুষের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণে প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশ মির্জা ফখরুলের

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে ফি নেবে না হুথিরা

আপডেট সময় ১১:৩২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ধরনের টোল বা ফি আদায়ের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এমন পরিকল্পনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তারা তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে এবং স্পষ্ট করেছে যে এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে চলাচল আগের মতোই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অব্যাহত থাকবে।
শনিবার (১ আগস্ট) হুথি-নিয়ন্ত্রিত হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার বা এইচওসিসি এক বিবৃতির মাধ্যমে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাদের পরিচালিত ‘সেফ ট্রানজিট সার্ভিস’ পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবামূলক একটি উদ্যোগ, যার বিনিময়ে কোনো অর্থ আদায় করা হয় না। কেউ যদি জাহাজ চলাচলের বিনিময়ে অর্থ দাবি করে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইয়েমেন কিংবা এইচওসিসির প্রতিনিধিত্ব করছে না।
এই বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক শিপিং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও একটি স্পষ্ট আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পরিশোধ কিংবা কোনো ধরনের তথ্য হস্তান্তর থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাদের। এর মধ্য দিয়ে হুথি কর্তৃপক্ষ বোঝাতে চেয়েছে, নৌপথ সংক্রান্ত যেকোনো আর্থিক লেনদেনের দাবি ভুয়া এবং প্রতারণামূলক হতে পারে।
এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে একটি প্রতিবেদন, যেখানে দাবি করা হয়েছিল ইরান-সমর্থিত হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর ফি বসানোর বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি তেহরান সফরকালে হুথি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য একটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায় ইরানি কর্মকর্তারা সহযোগিতা করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে হুথিদের সাম্প্রতিক বিবৃতি সেই দাবিকে সরাসরি খারিজ করে দিল।
বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ, যা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে। এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই নৌপথ। এই রুটে টোল আরোপ করা হলে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে সৌদি আরব, কারণ হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশটি সম্প্রতি এই বিকল্প পথের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়িয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুথিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছিল। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কিছুদিনের জন্য হামলার মাত্রা কমে এলেও এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।
এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরব সম্প্রতি ১৪টি দেশকে নিয়ে একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এই জোটের মূল উদ্দেশ্য হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগর অঞ্চলে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সব মিলিয়ে, আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Share this news as a Photo Card