শিরোনাম :

গাজায় শান্তি প্রস্তাবের মধ্যেই ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৯

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি ফেরাতে নতুন একটি পরিকল্পনার কথা জানানোর পরও থামছে না সেখানকার সহিংসতা। রোববার গাজা উপত্যকার একাধিক অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা বলে জানা গেছে।
গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি আবাসিক টাওয়ারে চালানো বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন—একজন যুবক, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী শিশুসন্তান। স্থানীয় একটি হাসপাতালের চিকিৎসক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও পৃথক একটি হামলায় একই পরিবারের তিনজন—স্বামী, স্ত্রী ও তাদের কন্যাসন্তান—প্রাণ হারিয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন। মধ্য গাজার একটি বসতবাড়িতে হামলায় নিহত হয়েছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি, আর কাছাকাছি এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ভাইও পৃথক হামলায় মারা যান।
উত্তর গাজার একটি শরণার্থী শিবিরকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলায় প্রাণ হারান একজন। খান ইউনিসের একটি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে হামলায় নিহত হন একজন, আহত হন পাঁচজন। গাজা সিটির আরেকটি অংশে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে ড্রোন হামলায় দুইজন এবং একটি গাড়িতে চালানো পৃথক হামলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগের দিন মধ্য গাজায় একটি হাসপাতাল-সংলগ্ন ওষুধের গুদামে হামলা চালানো হয়। এতে দুটি গুদাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায় এবং আরও দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে অসুস্থতাকেই যুদ্ধের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, হামলার মাত্র কয়েক মিনিট আগে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিস্ফোরণের ফলে সেখানে বড় একটি গর্তের সৃষ্টি হয় এবং আশপাশের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে বহু মানুষ ঘরছাড়া হতে বাধ্য হন।
সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, গত দুই দিনে যুদ্ধবিমান নিচু দিয়ে উড়ে একাধিক আবাসিক ভবন, বসতবাড়ি ও বেসামরিক মানুষের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাসিন্দাদের আগাম কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।
গত শুক্রবার ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গাজায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায় বাস্তবায়নে একটি নতুন রূপরেখা ঘোষণা করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামাস ইতিমধ্যে এই পরিকল্পনায় সম্মতি জানিয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তা মেনে নেয়নি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামাস সম্পূর্ণরূপে অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতেই ইসরায়েল হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে। তারা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েলকে বাধ্য করা হয়।
এ প্রসঙ্গে শান্তি বোর্ডের প্রধান দূত মন্তব্য করেছেন, উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধবিরতির রূপরেখা কার্যকর করার মতো পরিবেশ তৈরিতে মধ্যস্থতাকারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, শান্তি আলোচনার অগ্রগতি এখনো সহিংসতা থামাতে পারেনি, আর প্রতিদিনই বাড়ছে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে আজ বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

০১ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গাজায় শান্তি প্রস্তাবের মধ্যেই ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১৯

আপডেট সময় ১০:৪৪:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় শান্তি ফেরাতে নতুন একটি পরিকল্পনার কথা জানানোর পরও থামছে না সেখানকার সহিংসতা। রোববার গাজা উপত্যকার একাধিক অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা বলে জানা গেছে।
গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি আবাসিক টাওয়ারে চালানো বিমান হামলায় একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন—একজন যুবক, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী শিশুসন্তান। স্থানীয় একটি হাসপাতালের চিকিৎসক সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও পৃথক একটি হামলায় একই পরিবারের তিনজন—স্বামী, স্ত্রী ও তাদের কন্যাসন্তান—প্রাণ হারিয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও তিনজন। মধ্য গাজার একটি বসতবাড়িতে হামলায় নিহত হয়েছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি, আর কাছাকাছি এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ভাইও পৃথক হামলায় মারা যান।
উত্তর গাজার একটি শরণার্থী শিবিরকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে চালানো হামলায় প্রাণ হারান একজন। খান ইউনিসের একটি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে হামলায় নিহত হন একজন, আহত হন পাঁচজন। গাজা সিটির আরেকটি অংশে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে ড্রোন হামলায় দুইজন এবং একটি গাড়িতে চালানো পৃথক হামলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
এর আগের দিন মধ্য গাজায় একটি হাসপাতাল-সংলগ্ন ওষুধের গুদামে হামলা চালানো হয়। এতে দুটি গুদাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায় এবং আরও দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস করার মধ্য দিয়ে অসুস্থতাকেই যুদ্ধের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, হামলার মাত্র কয়েক মিনিট আগে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিস্ফোরণের ফলে সেখানে বড় একটি গর্তের সৃষ্টি হয় এবং আশপাশের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন করে বহু মানুষ ঘরছাড়া হতে বাধ্য হন।
সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, গত দুই দিনে যুদ্ধবিমান নিচু দিয়ে উড়ে একাধিক আবাসিক ভবন, বসতবাড়ি ও বেসামরিক মানুষের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাসিন্দাদের আগাম কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা অবস্থান করছিলেন।
গত শুক্রবার ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গাজায় যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায় বাস্তবায়নে একটি নতুন রূপরেখা ঘোষণা করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, হামাস ইতিমধ্যে এই পরিকল্পনায় সম্মতি জানিয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তা মেনে নেয়নি।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, হামাস সম্পূর্ণরূপে অস্ত্র সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ভেস্তে দিতেই ইসরায়েল হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে। তারা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে চুক্তি বাস্তবায়নে ইসরায়েলকে বাধ্য করা হয়।
এ প্রসঙ্গে শান্তি বোর্ডের প্রধান দূত মন্তব্য করেছেন, উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধবিরতির রূপরেখা কার্যকর করার মতো পরিবেশ তৈরিতে মধ্যস্থতাকারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, শান্তি আলোচনার অগ্রগতি এখনো সহিংসতা থামাতে পারেনি, আর প্রতিদিনই বাড়ছে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ।

Share this news as a Photo Card