ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ আগস্ট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৪ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই দিন ধার্য করে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অভিযুক্ত অন্যরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাতজন আসামির প্রত্যেকেই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ আরও কয়েকজন প্রসিকিউটর।
মামলার সাতাশতম সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়া তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার এবং ইশরাত জাহান। জেরা শেষে আদালত যুক্তিতর্কের দিন নির্ধারণ করে।
এর পূর্বে গত ২৬ জুলাই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন একজন সাংবাদিক, নাম আশরাফ কায়সার। নিজের জবানবন্দিতে তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের একটি চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহও বর্ণনা করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই মামলায় প্রথম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছিল গত ২৭ এপ্রিল, তখন যুক্তিতর্কের জন্যও একটি দিন ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের জবানবন্দি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তদন্ত কর্মকর্তাও পুনরায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছিল আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে অভিযুক্তরা একযোগে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের রাস্তায় নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে তারা সহিংসতার পরিকল্পনা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র হামলা চালানো, কঠোর দমন-পীড়ন পরিচালনা এবং সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হত্যাকাণ্ড, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তিযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে প্রসিকিউশন পক্ষ।
মামলাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে, কারণ এতে ক্ষমতাচ্যুত দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন দমনে সরাসরি ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরপর রায় ঘোষণার দিকে এগিয়ে যাবে মামলাটি, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জিভেরও পেসমেকার হয়? নাক ডাকা ও স্লিপ অ্যাপনিয়া দূর করবে নতুন যন্ত্র

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ

৩১ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, যুক্তিতর্ক ৪ আগস্ট

আপডেট সময় ০২:২৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ৪ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আজ রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই দিন ধার্য করে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অভিযুক্ত অন্যরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। সাতজন আসামির প্রত্যেকেই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ আরও কয়েকজন প্রসিকিউটর।
মামলার সাতাশতম সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়া তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার এবং ইশরাত জাহান। জেরা শেষে আদালত যুক্তিতর্কের দিন নির্ধারণ করে।
এর পূর্বে গত ২৬ জুলাই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন একজন সাংবাদিক, নাম আশরাফ কায়সার। নিজের জবানবন্দিতে তিনি আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের একটি চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহও বর্ণনা করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই মামলায় প্রথম দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছিল গত ২৭ এপ্রিল, তখন যুক্তিতর্কের জন্যও একটি দিন ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু প্রসিকিউশনের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের জবানবন্দি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তদন্ত কর্মকর্তাও পুনরায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছিল আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্ট মাসে আন্দোলন দমনের লক্ষ্যে অভিযুক্তরা একযোগে নির্দেশনা, প্ররোচনা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের রাস্তায় নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি একাধিক বৈঠকে তারা সহিংসতার পরিকল্পনা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র হামলা চালানো, কঠোর দমন-পীড়ন পরিচালনা এবং সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষ ফলাফল হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হত্যাকাণ্ড, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তিযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে প্রসিকিউশন পক্ষ।
মামলাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে, কারণ এতে ক্ষমতাচ্যুত দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন দমনে সরাসরি ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরপর রায় ঘোষণার দিকে এগিয়ে যাবে মামলাটি, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

Share this news as a Photo Card