শিরোনাম :
গুলিবিদ্ধ শাকিলের ফিরে আসার গল্প, এখনো থামেনি কষ্ট হাম চিকিৎসায় ঋণে জর্জরিত দেশের অধিকাংশ পরিবার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্থানীয় নির্বাচনে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি ইসি পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখলচেষ্টার অভিযোগ আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবর্জনা মুক্ত দেশ গড়তে সহযোগিতা প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার, শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু বেনজীরকে ফেরাতে সরকারের প্রক্রিয়া শুরু, জানালেন উপদেষ্টা

সাত জেলায় বন্যার শঙ্কা, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলা এবং সিলেট বিভাগের দুই জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে সতর্কসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পূর্বাভাস সংস্থা। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট উজানের এলাকাগুলোতে আগামী তিন দিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
গত এক দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে তা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং তীরবর্তী নিচু জমি অস্থায়ীভাবে পানির নিচে চলে যেতে পারে। তবে কুশিয়ারা তীরের নিম্নাঞ্চলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আগামী তিন দিন মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের চিত্র কিছুটা উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বেড়েছে, আর তিস্তার পানি এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকলেও তিন দিনের মধ্যে তা বাড়তে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদী কোথাও কোথাও বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার প্রভাবে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদী তীরবর্তী নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে ধরলা নদীর পানিও সতর্কসীমার কাছাকাছি চলে যেতে পারে, ফলে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদী-তীরবর্তী এলাকা সাময়িকভাবে জলমগ্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায়ও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। গত এক দিনে এই নদ-নদীর পানি সমতল বেড়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন ধরে তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল অস্থায়ীভাবে প্লাবিত হতে পারে। তুলনামূলকভাবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি এখনো স্থিতিশীল রয়েছে এবং আগামী তিন দিন এমনই থাকতে পারে, তবে এরপর দুই দিনে সামান্য বৃদ্ধির আভাস রয়েছে।
এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও গত এক দিনে বেড়েছে এবং আগামী তিন দিন তা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর জেরে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার কিছু এলাকায় পানি সতর্কসীমা ছুঁতে পারে এবং নদী তীরবর্তী নিচু জমি সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের পরিস্থিতিও নজরে রাখছে পূর্বাভাস সংস্থা। মুহুরী, সিলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেলেও গোমতী নদীর পানি বরং কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানিও বাড়তির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

বেনজীরকে ফেরাতে সরকারের প্রক্রিয়া শুরু, জানালেন উপদেষ্টা

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

সাত জেলায় বন্যার শঙ্কা, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

আপডেট সময় ১১:৫৩:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে দেশের সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলা এবং সিলেট বিভাগের দুই জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে সতর্কসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পূর্বাভাস সংস্থা। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট উজানের এলাকাগুলোতে আগামী তিন দিন ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
গত এক দিনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে তা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং তীরবর্তী নিচু জমি অস্থায়ীভাবে পানির নিচে চলে যেতে পারে। তবে কুশিয়ারা তীরের নিম্নাঞ্চলে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আগামী তিন দিন মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের চিত্র কিছুটা উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল বেড়েছে, আর তিস্তার পানি এখন পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকলেও তিন দিনের মধ্যে তা বাড়তে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা ও দুধকুমার নদী কোথাও কোথাও বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার প্রভাবে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার নদী তীরবর্তী নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সময়ে ধরলা নদীর পানিও সতর্কসীমার কাছাকাছি চলে যেতে পারে, ফলে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদী-তীরবর্তী এলাকা সাময়িকভাবে জলমগ্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায়ও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। গত এক দিনে এই নদ-নদীর পানি সমতল বেড়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন ধরে তা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল অস্থায়ীভাবে প্লাবিত হতে পারে। তুলনামূলকভাবে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি এখনো স্থিতিশীল রয়েছে এবং আগামী তিন দিন এমনই থাকতে পারে, তবে এরপর দুই দিনে সামান্য বৃদ্ধির আভাস রয়েছে।
এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানিও গত এক দিনে বেড়েছে এবং আগামী তিন দিন তা দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর জেরে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার কিছু এলাকায় পানি সতর্কসীমা ছুঁতে পারে এবং নদী তীরবর্তী নিচু জমি সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের পরিস্থিতিও নজরে রাখছে পূর্বাভাস সংস্থা। মুহুরী, সিলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেলেও গোমতী নদীর পানি বরং কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানিও বাড়তির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

Share this news as a Photo Card