শিরোনাম :
গুলিবিদ্ধ শাকিলের ফিরে আসার গল্প, এখনো থামেনি কষ্ট হাম চিকিৎসায় ঋণে জর্জরিত দেশের অধিকাংশ পরিবার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা স্থানীয় নির্বাচনে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি ইসি পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখলচেষ্টার অভিযোগ আওয়ামী লীগের নাশকতার সক্ষমতা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবর্জনা মুক্ত দেশ গড়তে সহযোগিতা প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি খাতে দিতে চায় সরকার, শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু বেনজীরকে ফেরাতে সরকারের প্রক্রিয়া শুরু, জানালেন উপদেষ্টা

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

জ্বালানি খাতে ভবিষ্যৎ সংকট এড়াতে এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এই নির্দেশনা দিয়েছেন, যার লক্ষ্য দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং সৌরশক্তির প্রসার ঘটানো।
নির্দেশনাগুলোর প্রথমটি হলো, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোতে ধাপে ধাপে সৌর প্যানেল বসানো। দ্বিতীয়ত, দেশীয়ভাবে সোলার ইনভার্টার তৈরিতে যে কাঁচামাল প্রয়োজন হয়, তা আমদানিতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা। আর তৃতীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎকে সহজলভ্য, লাভজনক ও সাশ্রয়ী করে তুলতে একটি বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে হবে।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আওতাধীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শুরুর দিকে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে থাকা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, সরকারি ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। জনসাধারণের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যেই তিনি বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল বসানোর নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
একই বৈঠকে দেশের দুটি বড় শিল্পগোষ্ঠী পৃথকভাবে উপস্থাপনা তুলে ধরে। আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করার নানা কারিগরি ও কৌশলগত দিক তুলে ধরা হয় উপস্থাপনায়। শিল্পগোষ্ঠী দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে, তেমনি দেশে নতুন কর্মসংস্থানের দুয়ারও খুলে যাবে।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয়, সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হলে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। উপস্থাপনায় দেখানো হয়, সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান কিংবা লিফটের মতো বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও অনায়াসে চালানো সম্ভব, যা বিদ্যুৎ খাতে নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠী দুটির শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য উৎসের দিকে ঝোঁকা এখন সময়ের দাবি। সরকারি পর্যায় থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে বেসরকারি খাতেও সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ যুক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে লোডশেডিং কমানোও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে এই উদ্যোগকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। আগামী দিনে এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়েও নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

বেনজীরকে ফেরাতে সরকারের প্রক্রিয়া শুরু, জানালেন উপদেষ্টা

০২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

আপডেট সময় ১২:৩২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

জ্বালানি খাতে ভবিষ্যৎ সংকট এড়াতে এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে এই নির্দেশনা দিয়েছেন, যার লক্ষ্য দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং সৌরশক্তির প্রসার ঘটানো।
নির্দেশনাগুলোর প্রথমটি হলো, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোতে ধাপে ধাপে সৌর প্যানেল বসানো। দ্বিতীয়ত, দেশীয়ভাবে সোলার ইনভার্টার তৈরিতে যে কাঁচামাল প্রয়োজন হয়, তা আমদানিতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করা। আর তৃতীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুৎকে সহজলভ্য, লাভজনক ও সাশ্রয়ী করে তুলতে একটি বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে হবে।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আওতাধীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, শুরুর দিকে বঙ্গভবন, তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, সচিবালয়ে থাকা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভবন এবং পরিকল্পনা কমিশন ভবনসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, সরকারি ভবনগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে। জনসাধারণের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যেই তিনি বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় সৌর প্যানেল বসানোর নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
একই বৈঠকে দেশের দুটি বড় শিল্পগোষ্ঠী পৃথকভাবে উপস্থাপনা তুলে ধরে। আবাসিক ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপন এবং সেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করার নানা কারিগরি ও কৌশলগত দিক তুলে ধরা হয় উপস্থাপনায়। শিল্পগোষ্ঠী দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে, তেমনি দেশে নতুন কর্মসংস্থানের দুয়ারও খুলে যাবে।
বৈঠকে আরও আলোচনা হয়, সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে হলে এর অর্থনৈতিক ও ব্যবহারিক সুবিধাগুলো ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। উপস্থাপনায় দেখানো হয়, সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান কিংবা লিফটের মতো বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও অনায়াসে চালানো সম্ভব, যা বিদ্যুৎ খাতে নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠী দুটির শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য উৎসের দিকে ঝোঁকা এখন সময়ের দাবি। সরকারি পর্যায় থেকে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে বেসরকারি খাতেও সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ যুক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে লোডশেডিং কমানোও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সার্বিকভাবে এই উদ্যোগকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। আগামী দিনে এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়েও নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Share this news as a Photo Card