ইসরাইলপন্থি গান বিতর্কে নাটক ছাড়লেন বয় জর্জ

বিতর্কিত একটি গান প্রকাশ করার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী বয় জর্জ। এর জেরে লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডে মঞ্চস্থ হতে যাওয়া জনপ্রিয় মিউজিক্যাল ‘জিসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার’-এর প্রযোজনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
৬৫ বছর বয়সি এই শিল্পীর ব্যবস্থাপক পল কেমসলি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে মঞ্চস্থ হতে যাওয়া ওই নাটকে আর অভিনয় করছেন না বয় জর্জ।
আশির দশকে ‘কালচার ক্লাব’ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন বয় জর্জ, যার প্রকৃত নাম জর্জ অ্যালান ও’ডাউড। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে তিনি নানা সময় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইসরাইল-গাজা যুদ্ধকে ঘিরে তার প্রকাশিত একটি গান নিয়ে।
গানটিতে এমন কিছু পঙক্তি ছিল, যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা এবং সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করার সুর ফুটে ওঠে বলে অভিযোগ ওঠে। গানের ভাষা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে নাটক থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করে।
গানটির শিরোনাম ছিল এমন একটি বাক্যাংশ, যা মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে অনুষ্ঠিত একটি সংগীত উৎসবে হামাসের হামলার পর নিহতদের স্মরণে সংহতি প্রকাশের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় সাড়ে বারোশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এরপর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর লাগাতার অভিযানে গাজায় সত্তর হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমনকি গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অন্তত বারোশর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
চলতি আগস্ট মাসের ৩ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত ওই মিউজিক্যালে ‘কিং হেরোড’ চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল বয় জর্জের। তবে গান নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, গানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছিল।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বয় জর্জ প্রশ্ন তোলেন, কোনো গানে নির্দিষ্ট একটি শব্দ ব্যবহার করা নিয়ে কেন এত আপত্তি উঠছে এবং হঠাৎ করে সেই শব্দটি নিয়ে মানুষের মধ্যে কেন এত অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে শিল্পীর ব্যবস্থাপক কেমসলি বলেন, বয় জর্জ কখনো নিজের ব্যক্তিগত মতামত বা বিশ্বাস প্রকাশ করতে দ্বিধা করেননি এবং এই সাহসিকতার জন্য তিনি সবসময় তাকে সম্মান করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নাটকের সার্বিক পরিবেশ যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণেই এই মুহূর্তে তার সরে দাঁড়ানোকে যুক্তিসংগত মনে করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ইসরাইল-গাজা সংঘাত নিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পীদের অবস্থান প্রকাশ্যে আসার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে খ্যাতনামা তারকাদের এ ধরনের মন্তব্য বা সৃষ্টিকর্ম নিয়ে জনমনে বিভাজন ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বয় জর্জের এই সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই একটি সংযোজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

স্থানীয় নির্বাচনে সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পায়নি ইসি

০৩ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইসরাইলপন্থি গান বিতর্কে নাটক ছাড়লেন বয় জর্জ

আপডেট সময় ০৩:১৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

বিতর্কিত একটি গান প্রকাশ করার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী বয় জর্জ। এর জেরে লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডে মঞ্চস্থ হতে যাওয়া জনপ্রিয় মিউজিক্যাল ‘জিসাস ক্রাইস্ট সুপারস্টার’-এর প্রযোজনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
৬৫ বছর বয়সি এই শিল্পীর ব্যবস্থাপক পল কেমসলি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে মঞ্চস্থ হতে যাওয়া ওই নাটকে আর অভিনয় করছেন না বয় জর্জ।
আশির দশকে ‘কালচার ক্লাব’ ব্যান্ডের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন বয় জর্জ, যার প্রকৃত নাম জর্জ অ্যালান ও’ডাউড। দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে তিনি নানা সময় আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইসরাইল-গাজা যুদ্ধকে ঘিরে তার প্রকাশিত একটি গান নিয়ে।
গানটিতে এমন কিছু পঙক্তি ছিল, যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা এবং সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করার সুর ফুটে ওঠে বলে অভিযোগ ওঠে। গানের ভাষা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে, যা শেষ পর্যন্ত তাকে নাটক থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করে।
গানটির শিরোনাম ছিল এমন একটি বাক্যাংশ, যা মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে অনুষ্ঠিত একটি সংগীত উৎসবে হামাসের হামলার পর নিহতদের স্মরণে সংহতি প্রকাশের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় প্রায় সাড়ে বারোশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এরপর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর লাগাতার অভিযানে গাজায় সত্তর হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমনকি গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অন্তত বারোশর বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
চলতি আগস্ট মাসের ৩ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত ওই মিউজিক্যালে ‘কিং হেরোড’ চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল বয় জর্জের। তবে গান নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, গানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি করা হয়েছিল।
নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বয় জর্জ প্রশ্ন তোলেন, কোনো গানে নির্দিষ্ট একটি শব্দ ব্যবহার করা নিয়ে কেন এত আপত্তি উঠছে এবং হঠাৎ করে সেই শব্দটি নিয়ে মানুষের মধ্যে কেন এত অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে শিল্পীর ব্যবস্থাপক কেমসলি বলেন, বয় জর্জ কখনো নিজের ব্যক্তিগত মতামত বা বিশ্বাস প্রকাশ করতে দ্বিধা করেননি এবং এই সাহসিকতার জন্য তিনি সবসময় তাকে সম্মান করেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নাটকের সার্বিক পরিবেশ যাতে ব্যাহত না হয়, সে কারণেই এই মুহূর্তে তার সরে দাঁড়ানোকে যুক্তিসংগত মনে করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে ইসরাইল-গাজা সংঘাত নিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পীদের অবস্থান প্রকাশ্যে আসার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে খ্যাতনামা তারকাদের এ ধরনের মন্তব্য বা সৃষ্টিকর্ম নিয়ে জনমনে বিভাজন ও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বয় জর্জের এই সিদ্ধান্ত সেই ধারাবাহিকতারই একটি সংযোজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card