হরমুজ প্রণালিতে নৌমাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার বরাতে জানা গেছে, প্রতিটি ট্যাংকারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছিল। এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম ট্যাংকারটি মাইনে আঘাত লেগে বিস্ফোরিত হয় এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় ট্যাংকারটিও মাইনের আঘাতে জ্বলতে থাকে। জাহাজ দুটির নাম এবং তেলের উৎস সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য মেলেনি।
ইরানের দাবি, জাহাজ দুটি নিজেদের অবস্থান শনাক্তকরণ ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ রেখে এমন পথে চলার চেষ্টা করছিল, যেখানে তেহরানের অনুমতি ছিল না। আইআরজিসির আরও দাবি, ট্যাংকার দুটির একটি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টায় ছিল। এসব দাবি ইরানি পক্ষের বক্তব্য হিসেবেই উল্লেখ করা হলো; যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিক্রিয়া মূল প্রতিবেদনে নেই।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে তেহরান। এই জলপথ দিয়ে চলাচলের আগে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে বলা হয়েছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ছে। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ওমান উপসাগরে তাদের ঘোষিত নিষিদ্ধ এলাকায় দুটি ট্যাংকারে আগুন লাগে। শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, সৌদি আরবের উপকূলের কাছেও দুটি ট্যাংকারে হামলার খবর দিয়েছেন সামুদ্রিক পর্যবেক্ষকেরা।
নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর, রোববার, হরমুজ প্রণালি ও আশপাশে ছয়টি জাহাজ হামলার শিকার হয়। যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ।
তেহরানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে তারা হামলা জোরদার করছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ৮ অক্টোবর হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২ কোটি ৮ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছিল। ১১ অক্টোবর তা কমে দাঁড়ায় ২৯ লাখ ব্যারেলে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। দেশটিতে স্থলসেনা পাঠানোরও কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের আশা, ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ শেষ করতে একটি চুক্তি হতে পারে।
শিরোনাম :
হরমুজে মাইনে আঘাত, আগুনে পুড়ল দুই তেলবাহী ট্যাংকার
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৯:৪১:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- 24
জনপ্রিয় সংবাদ





















