শিরোনাম :
আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৩ জেলার ৭০ চরমপন্থি চার মাসে রপ্তানি আয় ১৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ ১০ মিনিটে হামলার হুমকি ট্রাম্পের, পাল্টা আক্রমণের জবাবের নির্দেশ খামেনির সিসিটিভিতে তাহসিফের সাথে দেখা যাওয়া নারীকে গ্রেফতার মজুরির দাবিতে উত্তাল সাভার-গাজীপুর, মিরপুরে সংঘর্ষ, ৮০ কারখানায় ছুটি বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে চান ডেসটিনির রফিকুল আমীন শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা পাকিস্তানের সোমবার থেকে নিবন্ধন ছাড়া সড়কে নামতে পারবে না ই-রিকশা পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে ছয় সদস্যের বোর্ড ঘোষণা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে : এএফইডি

মহাখালী বাস টার্মিনালের ইজারা বারবার আটকে কে

মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালের ইজারা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। চলতি বছরে টানা তিন দফা দরপত্র আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত ইজারাদার খুঁজে পায়নি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কোথাও দরপত্রের শিডিউল বিক্রি হয়নি, কোথাও শিডিউল কিনেও জমা পড়েনি দরপ্রস্তাব। আবার যে কয়েকটি প্রস্তাব জমা পড়েছে, সেগুলোর মূল্য ছিল নির্ধারিত ভিত্তিমূল্যের অনেক নিচে।
ডিএনসিসির কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি কেবল ব্যবসায়িক অনীহা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে দরপত্র প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে ভবিষ্যতে ভিত্তিমূল্য কমানোর সুযোগ তৈরির চেষ্টা হতে পারে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একাধিকবার দরপত্র ব্যর্থ হলে ভিত্তিমূল্য পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এবার টার্মিনালটির ইজারার ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। ডিএনসিসির হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০টি বাস থেকে টোল, লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ফি, শৌচাগারের আয় এবং টার্মিনালের ৯৭টি দোকান ও টিকিট কাউন্টারের ভাড়া মিলিয়ে বছরে সম্ভাব্য রাজস্বের ভিত্তিতেই এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে একই টার্মিনাল ইজারা হয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকায়।
তবে দরপত্রে অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, বর্তমান ভিত্তিমূল্যে ইজারা নিলে লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি। তাঁদের ভাষ্য, ভ্যাট, কর, ব্যাংক সুদ এবং পরিচালন ব্যয় মিলিয়ে প্রকৃত বিনিয়োগ অনেক বেড়ে যায়। তাই ভিত্তিমূল্য পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে কেউ কেউ দরপত্র জমা দেননি, আবার কেউ ভিত্তিমূল্যের অর্ধেকেরও কম দর প্রস্তাব করেছেন।
দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিডিউল কিনলেও ইচ্ছাকৃতভাবে দরপ্রস্তাব জমা দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, বর্তমান দামে ইজারা নেওয়া আর্থিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়।
গত ১৪ মার্চ আগের ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে টার্মিনালটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করছে ডিএনসিসি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত টোল ও শৌচাগার থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫৪ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যদিও কর্মকর্তাদের মতে, জনবলসংকটের কারণে খাস ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য সব রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, বেসরকারি ইজারাদার থাকলে রাজস্ব আদায় আরও বেশি হতে পারে।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নিয়মের বাইরে কম দামে ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। তিন দফা দরপত্র ব্যর্থ হওয়ার পর প্রয়োজন হলে বিধি অনুযায়ী ভিত্তিমূল্য পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে এখন প্রশ্ন একটাই—মহাখালী বাস টার্মিনালের ইজারা কি বর্তমান মূল্যেই হবে, নাকি নতুন দর নির্ধারণের পর আবার শুরু হবে পুরো প্রক্রিয়া।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৩ জেলার ৭০ চরমপন্থি

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে : এএফইডি

০১ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মহাখালী বাস টার্মিনালের ইজারা বারবার আটকে কে

আপডেট সময় ০২:০১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালের ইজারা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। চলতি বছরে টানা তিন দফা দরপত্র আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত ইজারাদার খুঁজে পায়নি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কোথাও দরপত্রের শিডিউল বিক্রি হয়নি, কোথাও শিডিউল কিনেও জমা পড়েনি দরপ্রস্তাব। আবার যে কয়েকটি প্রস্তাব জমা পড়েছে, সেগুলোর মূল্য ছিল নির্ধারিত ভিত্তিমূল্যের অনেক নিচে।
ডিএনসিসির কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি কেবল ব্যবসায়িক অনীহা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে দরপত্র প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে ভবিষ্যতে ভিত্তিমূল্য কমানোর সুযোগ তৈরির চেষ্টা হতে পারে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী একাধিকবার দরপত্র ব্যর্থ হলে ভিত্তিমূল্য পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।
এবার টার্মিনালটির ইজারার ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। ডিএনসিসির হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১০০টি বাস থেকে টোল, লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ফি, শৌচাগারের আয় এবং টার্মিনালের ৯৭টি দোকান ও টিকিট কাউন্টারের ভাড়া মিলিয়ে বছরে সম্ভাব্য রাজস্বের ভিত্তিতেই এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে একই টার্মিনাল ইজারা হয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকায়।
তবে দরপত্রে অংশ নেওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, বর্তমান ভিত্তিমূল্যে ইজারা নিলে লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি। তাঁদের ভাষ্য, ভ্যাট, কর, ব্যাংক সুদ এবং পরিচালন ব্যয় মিলিয়ে প্রকৃত বিনিয়োগ অনেক বেড়ে যায়। তাই ভিত্তিমূল্য পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে কেউ কেউ দরপত্র জমা দেননি, আবার কেউ ভিত্তিমূল্যের অর্ধেকেরও কম দর প্রস্তাব করেছেন।
দরপত্রে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের ঘনিষ্ঠ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিডিউল কিনলেও ইচ্ছাকৃতভাবে দরপ্রস্তাব জমা দেয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, বর্তমান দামে ইজারা নেওয়া আর্থিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়।
গত ১৪ মার্চ আগের ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে টার্মিনালটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করছে ডিএনসিসি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত টোল ও শৌচাগার থেকে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫৪ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যদিও কর্মকর্তাদের মতে, জনবলসংকটের কারণে খাস ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য সব রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, বেসরকারি ইজারাদার থাকলে রাজস্ব আদায় আরও বেশি হতে পারে।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নিয়মের বাইরে কম দামে ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। তিন দফা দরপত্র ব্যর্থ হওয়ার পর প্রয়োজন হলে বিধি অনুযায়ী ভিত্তিমূল্য পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে এখন প্রশ্ন একটাই—মহাখালী বাস টার্মিনালের ইজারা কি বর্তমান মূল্যেই হবে, নাকি নতুন দর নির্ধারণের পর আবার শুরু হবে পুরো প্রক্রিয়া।

Share this news as a Photo Card