পাঁচ দফা দাবিতে সাজেকে চতুর্থ দফায় সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সোমবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের এই কর্মসূচি চলছে। এতে সড়কে বড় যানবাহনের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, আর খাদ্যসংকটের মধ্যে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
সংগঠন দুটির পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসের সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা। সোমবার সকাল থেকে সড়কে শান্তিপূর্ণভাবেই অবরোধ পালিত হচ্ছে। তবে অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে চলাচলে বাধা তৈরির চেষ্টা করেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে এই সড়কে বড় যানবাহন চলছে না। মাঝেমধ্যে কয়েকটি অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। তাঁর ভাষ্য, এখন পর্যন্ত কোথাও অপ্রীতিকর কিছু ঘটেনি।
এর আগে গত ২২ অক্টোবর থেকে টানা ১০ দিন সাজেকে সড়ক অবরোধ চলে। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল আনা-নেওয়া এবং স্থানীয় মানুষের মৌলিক চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরোধ শিথিল করে সংগঠন দুটি। শিথিলের সময় শেষ হওয়ার পর সোমবার সকাল থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়।
টানা অবরোধে সাজেকের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের সংকটে ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার এক দিনের জন্য অবরোধ শিথিল থাকলেও ওই দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি নামের একটি শ্রমিক সংগঠন খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে অবরোধ ডাকে। ফলে সেদিনও সাজেক সড়কে কোনো পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারেনি।
পরিস্থিতি নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে পাঁচ দফার চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও একটি দাবি নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় আলোচনা অমীমাংসিত থেকে যায়। পরবর্তী আলোচনার জন্য এখনো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















