ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ছিল বাজেট অধিবেশন। তবে কার্যক্রমের পরিধি কেবল বাজেট অনুমোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল দ্রুত পাস, বিরোধী দলের ওয়াকআউট এবং নানা রাজনৈতিক ইস্যু—সব মিলিয়ে অধিবেশনটি হয়ে ওঠে বহুমাত্রিক আলোচনার কেন্দ্র।
২৬ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। বাজেটের সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন ৩১৬ জন সংসদ সদস্য। একই সময়ে সংসদে পাস হয় ১০টি বিল এবং সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ তৈরির জন্য বিশেষ কমিটিসহ মোট ১১টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর জন্য জমা পড়া ২৭৮টি প্রশ্নের মধ্যে ৩৫টির উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। অন্যদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উদ্দেশে জমা দেওয়া ৫ হাজার ৩১টি প্রশ্নের মধ্যে ৩ হাজার ৪৭৪টির উত্তর দেওয়া হয়েছে।
অধিবেশনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক। বিশেষ করে শেষ দিনে ‘ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ বিল’ উত্থাপন ও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পাস করানো নিয়ে বিরোধী দল তীব্র আপত্তি তোলে। তাদের অভিযোগ, বিলটি যথাযথ নোটিশ ছাড়াই আনা হয়েছে এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো কিংবা জনমত যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিলটি সংসদে উত্থাপন থেকে পাস পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয় প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বিলটি দ্রুত পাস করতে হলেও ভবিষ্যতে বিরোধী দলের যৌক্তিক সংশোধনী প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে।
এ অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে রয়েছে ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ বিল, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, জুয়া প্রতিরোধ বিল, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল। নতুন আইনগুলোতে অনলাইন জুয়া দমন, সাইবার মাধ্যমে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি, ডিজিটাল প্রশ্নফাঁস রোধ এবং বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে একীভূত করার মতো বিভিন্ন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
অধিবেশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল সংবিধান সংশোধনের জন্য ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন। বিরোধী দল শুরু থেকেই সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল। সেই অবস্থান থেকে তারা কমিটিতে অংশ নেয়নি এবং প্রস্তাব উত্থাপনের সময় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে। পরে সরকারি দল জানায়, ভবিষ্যতে বিরোধী দল চাইলে তাদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।
সংসদীয় জবাবদিহি জোরদারের অংশ হিসেবে অর্থ, আইন, পরিকল্পনা, শিল্প, বাণিজ্য, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, পানিসম্পদ ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ নয়টি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলের একজন সদস্যকে দেওয়া হয়েছে, যা সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাজেটের পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার, আওয়ামী লীগের বিচার, মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্য এবং কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির স্মরণেও সংসদে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সব মিলিয়ে বাজেট অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়িয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন রাজনৈতিক বিতর্ক, আইন প্রণয়নের গতি এবং সংবিধান সংশোধনকে ঘিরে মতপার্থক্যের কারণে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত সংসদ অধিবেশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিরোনাম :
বাজেট ছাপিয়ে আলোচনায় বিশেষ কমিটি ও বিল পাস
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০২:৫৬:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
- 17
ট্যাগস
তড়িঘড়ি বিল পাস এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউট ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় বা বাজেট অধিবেশনে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাসের পাশাপাশি সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি বাজেট ছাপিয়ে আলোচনায় বিশেষ কমিটি ও বিল পাস
জনপ্রিয় সংবাদ



























