দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

ইরানে হামলায় সমর্থন দিতে পারে সৌদি-আমিরাত

ইরানকে চাপে রাখতে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু কর্মকর্তা সমর্থন দিতে পারেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত রক্তক্ষয়ী হবে এবং এতে আরও দেশ জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন কূটনীতিকরা।

ইরান নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক ইউরোপীয় কূটনীতিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, শুরুতে অনেকে মনে করেছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক চাপ মূলত তেহরানকে আলোচনায় বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল।

কিন্তু গত মঙ্গলবার জেনেভায় সর্বশেষ বৈঠক শেষ হওয়ার পর কূটনীতিকদের ধারণা বদলেছে। তাদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারসহ নিজেদের ‘মূল অবস্থান’ থেকে ইরান সরে আসতে প্রস্তুত নয়।

ওই কূটনীতিকের ভাষায়, ‘ইরানিরা প্রযুক্তিগত জটিলতায় আলোচনা ডুবিয়ে দিতে এবং মূল বিষয়গুলো বিলম্বিত করতে চাইছিল। প্রচলিত কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সংলাপকে এগিয়ে নেওয়া হতো, কিন্তু ট্রাম্পের সেই ধৈর্য নেই।’

সামরিক চাপ: আশ্বস্ত থেকে উদ্বিগ্ন
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো শুরুতে অঞ্চলের কিছু কর্মকর্তাকে আশ্বস্ত করেছিল। তারা ভেবেছিলেন, এটি কেবল চাপ সৃষ্টির উপায়।

তবে এখন যখন ইঙ্গিত মিলছে, ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন উদ্বেগ বাড়ছে।

ইউরোপীয় ওই কূটনীতিক সৌদি-আমিরাতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কিছু পক্ষ হয়তো ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা সমর্থন করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ রক্তক্ষয়ী হবে এবং ইচ্ছা করে বা ভুল হিসাবের কারণে আরও দেশ এতে জড়িয়ে পড়তে পারে।’

আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও আমিরাত ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত সুবিধা খুঁজতে পারে। তবে তারা সরাসরি বড় যুদ্ধ চায় না। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও তেলের বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বড় ধাক্কা দিতে পারে।

কূটনীতিকদের আশঙ্কা, চাপ প্রয়োগের কৌশল যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তার পরিণতি হতে পারে বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

ইরানে হামলায় সমর্থন দিতে পারে সৌদি-আমিরাত

আপডেট সময় ০৭:২১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইরানকে চাপে রাখতে লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলায় সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু কর্মকর্তা সমর্থন দিতে পারেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত রক্তক্ষয়ী হবে এবং এতে আরও দেশ জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন কূটনীতিকরা।

ইরান নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক ইউরোপীয় কূটনীতিক দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, শুরুতে অনেকে মনে করেছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক চাপ মূলত তেহরানকে আলোচনায় বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল।

কিন্তু গত মঙ্গলবার জেনেভায় সর্বশেষ বৈঠক শেষ হওয়ার পর কূটনীতিকদের ধারণা বদলেছে। তাদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারসহ নিজেদের ‘মূল অবস্থান’ থেকে ইরান সরে আসতে প্রস্তুত নয়।

ওই কূটনীতিকের ভাষায়, ‘ইরানিরা প্রযুক্তিগত জটিলতায় আলোচনা ডুবিয়ে দিতে এবং মূল বিষয়গুলো বিলম্বিত করতে চাইছিল। প্রচলিত কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সংলাপকে এগিয়ে নেওয়া হতো, কিন্তু ট্রাম্পের সেই ধৈর্য নেই।’

সামরিক চাপ: আশ্বস্ত থেকে উদ্বিগ্ন
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো শুরুতে অঞ্চলের কিছু কর্মকর্তাকে আশ্বস্ত করেছিল। তারা ভেবেছিলেন, এটি কেবল চাপ সৃষ্টির উপায়।

তবে এখন যখন ইঙ্গিত মিলছে, ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন উদ্বেগ বাড়ছে।

ইউরোপীয় ওই কূটনীতিক সৌদি-আমিরাতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘কিছু পক্ষ হয়তো ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা সমর্থন করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ রক্তক্ষয়ী হবে এবং ইচ্ছা করে বা ভুল হিসাবের কারণে আরও দেশ এতে জড়িয়ে পড়তে পারে।’

আঞ্চলিক ভারসাম্যের প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব ও আমিরাত ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় কৌশলগত সুবিধা খুঁজতে পারে। তবে তারা সরাসরি বড় যুদ্ধ চায় না। কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও তেলের বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বড় ধাক্কা দিতে পারে।

কূটনীতিকদের আশঙ্কা, চাপ প্রয়োগের কৌশল যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তার পরিণতি হতে পারে বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট

Share this news as a Photo Card