মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানি জাতির উদ্দেশে ট্রাম্পের কঠোর ভাষার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) সচিব মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর বলেছেন, তেহরান কোনো ধরনের হুমকি বা অসম্মানজনক বক্তব্য মেনে নেবে না। প্রয়োজনে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সোমবার (৬ জুলাই) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জনে ‘যে কোনো উপায়ে’ সফল হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা হয় একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, অথবা বিষয়টির চূড়ান্ত সমাধান করব। আর সেটি করা খুব কঠিন হবে না।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশের পরই ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন।
যুলঘাদর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এখন ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানিকে হুমকি দিচ্ছেন। অথচ অতীতেও তিনি ইরানের হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতাকে মুছে ফেলার মতো বক্তব্য দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টার ফল ছিল ব্যর্থতা, অসহায়ত্ব এবং শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তা।
তিনি আরও বলেন, ইরানের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয় এতটাই গভীর যে বাইরের কোনো শক্তির হুমকি দেশটির জনগণকে ভীত করতে পারে না। ইরানিরা বহু শতাব্দী ধরে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে।
যুলঘাদরের ভাষায়, ‘ইরানিরা হুমকির ভাষায় অভ্যস্ত নয়। তাই ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্মানের সঙ্গে কথা বলুন। অন্যথায়, আমরা আপনাদের এমন ভাষায় জবাব দেব, যা আপনারা বুঝতে বাধ্য হবেন।’
ইরানি কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র কোনো বিদেশি চাপ, সামরিক ভয়ভীতি বা রাজনৈতিক হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। তাদের দাবি, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইরান সবসময় দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং তার জবাবে তেহরানের কড়া প্রতিক্রিয়া—দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনও পুরোপুরি নিরসন হয়নি।
এদিকে তেহরান আবারও জানিয়েছে, যে কোনো আগ্রাসন, চাপ বা ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জবাব তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় দৃঢ়, পরিকল্পিত এবং যথাযথ উপায়ে দেবে। একই সঙ্গে ইরান বলছে, পারস্পরিক সম্মান ও কূটনৈতিক সংলাপই বিরোধ নিরসনের একমাত্র কার্যকর পথ। তবে হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরানকে নত করা সম্ভব নয় বলেও দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা পুনরায় দাবি করেছেন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 






















