আফগান-চীনা ক্রিকেট উন্নয়নের নেপথ্য কারিগর বুলবুল

ক্রিকেট ভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর সর্বকালের সেরা টি-টোয়েন্টি প্লেয়ারের খেতাব জিতেছেন রশিদ খান! আর উইজডেন তো রশিদকে এই স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে সেই ২০২০ সালেই। আফগানিস্তানের একজন ক্রিকেটার একটা ফরম্যাটের সেরা ক্রিকেটার, কতখানি অবিশ্বাস্য তা নিশ্চয়ই আর বলে দিতে হবে না।

শুধু রশিদ কেন; অবিশ্বাসের জন্ম তো স্বয়ং আফগানিস্তানই দিয়েছে। যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটা দেশের মানুষ যেখানে জানেই না, পরদিনের সূর্যটা তারা দেখতে পারবে কি না, সেই দেশটা ক্রিকেট খেলছে। আর শুধু খেলছেই না, রীতিমতো রাজ করছে। টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছে, ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ছিল সেরা ছয়ে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও হারিয়েছে ইংল্যান্ডের মতো দলকে! তবে, আফগানদের এই উত্থানের নেপথ্যে অনেক বড় কৃতিত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া আমিনুল ইসলাম বুলবুলের।

আইসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে এশিয়ান অঞ্চলে কাজ করেছেন বুলবুল। সেখানেই দায়িত্ব পড়ে আফগানিস্তানের ক্রিকেট কাঠামো উন্নয়নের। আফগানদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করেছিলেন বুলবুল। শোনা যায়, আফগানিস্তানে যে তিনটা হাই পারফর্ম্যান্স সেন্টার আছে; সেগুলো তৈরির পরিকল্পনাও তার। একসময় যে দেশটায় এগারোজন ক্রিকেটার ছিল না; বুলবুলদের ছোঁয়ায়, সংখ্যাটা পৌঁছেছে লাখে।

চীনা ক্রিকেটের জনকও বলা হয় বুলবুলকে। বলা হয়ে থাকে, চীনে ক্রিকেট খেলা প্রথম ব্যক্তি বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এসিসির হয়ে চীনে ক্রিকেটের আত্মপ্রকাশে কাজ করেন বুলবুল। দেশের একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে চীনের ভাষাও শেখেন। যে দেশটা ব্যাট-বলই চিনতো না; তাদের চেনানো, আগ্রহী করা এমনকি ব্যাট ধরতে পর্যন্ত শিখিয়েছিলেন বুলবুল।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়নও তিনি। ক্যারিয়ার শেষে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়, কোচিংইয়ের লেভেল টু কমপ্লিট করেন; যুক্ত হন নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির কোচিং প্যানেলে। এরপর দেশে ফিরে আবাহনীকে জেতান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।

আবারও দেশে ফিরেছেন বুলবুল, এবার বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বপ্ন সারথী হয়ে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় ক্রিকেটের চাহিদা নিম্নমুখী, দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা; নতুন সভাপতির হাতেই বদলে যাবে দেশের ক্রিকেট। তবে সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন কতখানি হবে, সেই উত্তর মিলবে সময় গড়ালেই।

বিসিবির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ফারুককে!

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিশ্চিত হলে, সবকিছু ইতিবাচক হবে: ভারতীয় হাইকমিশনার

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

আফগান-চীনা ক্রিকেট উন্নয়নের নেপথ্য কারিগর বুলবুল

আপডেট সময় ১১:৩৮:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

ক্রিকেট ভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর সর্বকালের সেরা টি-টোয়েন্টি প্লেয়ারের খেতাব জিতেছেন রশিদ খান! আর উইজডেন তো রশিদকে এই স্বীকৃতি দিয়ে রেখেছে সেই ২০২০ সালেই। আফগানিস্তানের একজন ক্রিকেটার একটা ফরম্যাটের সেরা ক্রিকেটার, কতখানি অবিশ্বাস্য তা নিশ্চয়ই আর বলে দিতে হবে না।

শুধু রশিদ কেন; অবিশ্বাসের জন্ম তো স্বয়ং আফগানিস্তানই দিয়েছে। যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটা দেশের মানুষ যেখানে জানেই না, পরদিনের সূর্যটা তারা দেখতে পারবে কি না, সেই দেশটা ক্রিকেট খেলছে। আর শুধু খেলছেই না, রীতিমতো রাজ করছে। টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছে, ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ছিল সেরা ছয়ে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও হারিয়েছে ইংল্যান্ডের মতো দলকে! তবে, আফগানদের এই উত্থানের নেপথ্যে অনেক বড় কৃতিত্ব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া আমিনুল ইসলাম বুলবুলের।

আইসিসির গেম ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে এশিয়ান অঞ্চলে কাজ করেছেন বুলবুল। সেখানেই দায়িত্ব পড়ে আফগানিস্তানের ক্রিকেট কাঠামো উন্নয়নের। আফগানদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করেছিলেন বুলবুল। শোনা যায়, আফগানিস্তানে যে তিনটা হাই পারফর্ম্যান্স সেন্টার আছে; সেগুলো তৈরির পরিকল্পনাও তার। একসময় যে দেশটায় এগারোজন ক্রিকেটার ছিল না; বুলবুলদের ছোঁয়ায়, সংখ্যাটা পৌঁছেছে লাখে।

চীনা ক্রিকেটের জনকও বলা হয় বুলবুলকে। বলা হয়ে থাকে, চীনে ক্রিকেট খেলা প্রথম ব্যক্তি বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এসিসির হয়ে চীনে ক্রিকেটের আত্মপ্রকাশে কাজ করেন বুলবুল। দেশের একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে চীনের ভাষাও শেখেন। যে দেশটা ব্যাট-বলই চিনতো না; তাদের চেনানো, আগ্রহী করা এমনকি ব্যাট ধরতে পর্যন্ত শিখিয়েছিলেন বুলবুল।

১৯৯৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়নও তিনি। ক্যারিয়ার শেষে পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়, কোচিংইয়ের লেভেল টু কমপ্লিট করেন; যুক্ত হন নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির কোচিং প্যানেলে। এরপর দেশে ফিরে আবাহনীকে জেতান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।

আবারও দেশে ফিরেছেন বুলবুল, এবার বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বপ্ন সারথী হয়ে। সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় ক্রিকেটের চাহিদা নিম্নমুখী, দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা; নতুন সভাপতির হাতেই বদলে যাবে দেশের ক্রিকেট। তবে সেই প্রত্যাশার বাস্তবায়ন কতখানি হবে, সেই উত্তর মিলবে সময় গড়ালেই।

বিসিবির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে ফারুককে!

Share this news as a Photo Card