শিরোনাম :
আগস্টে শুরু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর পেলের ব্রাজিলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙল ডাচরা, সুইডেনকে ৫-১ গোলে ওড়াল নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের মূল টার্গেট কেন ড. ইউনূস? যাহের আলভীর কারাদণ্ড: মৃত্যুর আগে বন্ধুদের কী বলেছিলেন স্ত্রী ইকরা? মেসি কি আর্জেন্টিনার জার্সি ছেড়ে ব্রাজিলে খেলবেন? লুলার মন্তব্যে শোরগোল বিশ্বকাপ ২০২৬: প্রথম রাউন্ড শেষে নকআউটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? রাত পোহালেই আলজেরিয়া বধের মিশন: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাস কী বলছে? ঢাকার ভেতর আর থাকবে না দূরপাল্লার বাস: চার টার্মিনাল সরানোর মাস্টারপ্ল্যান, কোনটি যাচ্ছে কোথায়? মিরপুরে শেষ বলের নাটকীয়তা: বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সান্ত্বনার জয় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

পুরো ক্রিকেটকেই অসম্মান করছে ভারত : সালমান আগা

এশিয়া কাপের ৪১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারত জয় পেলেও নতুন এক বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হয়েও ট্রফি গ্রহণ করেনি গৌতম গম্ভীরের দল।

বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা। তিনি ভারতীয় দলের আচরণকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। শুধু পাকিস্তান নয়, ভারত পুরো ক্রিকেটকেই অসম্মান করেছে বলে মনে করেন পাকিস্তান অধিনায়ক।

ফাইনালের পর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসেন পাকিস্তানের অধিনায়ক আগা। ভারতের ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়ে আগা বলেন, ‘ভারত যা করেছে এই টুর্নামেন্টে, সেটা খুবই হতাশাজনক। তারা আমাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক না করে আমাদের নয়, ক্রিকেটকেই অসম্মান করেছে। তারা আজ যা করেছে, ভালো দলগুলো এমন আচরণ করে না। আমরা নিজেরা গিয়ে ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলেছি, কারণ সেটা আমাদের দায়িত্ব ছিল। আমরা দাঁড়িয়ে মেডেল নিয়েছি। আমি কঠিন ভাষা ব্যবহার করতে চাই না, কিন্তু তারা খুবই অসম্মানজনক আচরণ করেছে।’

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারায় ভারত। তবে ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয় দেড় ঘণ্টা দেরিতে। এরপর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এর সভাপতি ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত।

এই ঘটনায় ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে ব্যক্তিগতভাবে দোষ দিচ্ছেন না আগা। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের শুরুতে প্রাক-টুর্নামেন্ট প্রেস কনফারেন্সে এবং রেফারির মিটিংয়ে সূর্যকুমার আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেছে। কিন্তু যখন ক্যামেরার সামনে আসে, তখন তারা হ্যান্ডশেক করে না। আমি নিশ্চিত সে নির্দেশনা অনুসরণ করছে। তবে যদি ওর ওপর নির্ভর করত, তাহলে সে আমার সঙ্গে হাত মেলাত।’

আগা মনে করেন, প্রতিপক্ষ দলের পক্ষ থেকে হ্যান্ডশেক এড়িয়ে যাওয়ার এমন ঘটনা ক্রিকেটে নজিরবিহীন। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম আমি এমন কিছু দেখলাম। এই টুর্নামেন্টে যা যা হয়েছে, তা খুবই খারাপ। আমি আশা করি এটা কখনও না কখনও থামবে, কারণ এটা ক্রিকেটের জন্য ভালো না। আজ যা হয়েছে, তা আগের সব ঘটনারই ফলাফল। স্বাভাবিকভাবেই এসিসি প্রেসিডেন্টই বিজয়ী দলকে ট্রফি দেন। আপনি যদি তার কাছ থেকে ট্রফি না নেন, তাহলে সেটা আপনি কীভাবে পাবেন?’

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচেই টসের সময় ও ম্যাচ শেষে হাত মেলায়নি। ফাইনালের শেষেও উপস্থাপনার সময় উভয় দল আলাদা আলাদা হাডলে ছিল । আগা মনে করেন এই আচরণ দুটি দেশের ভক্তদের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে আগা বলেন, ‘আমি শুধু পাকিস্তানের অধিনায়ক না, আমি একজন ক্রিকেটপ্রেমীও। যদি কোনও শিশু ভারত বা পাকিস্তানে বসে এই খেলা দেখে, আমরা তাকে কী বার্তা দিচ্ছি? মানুষ আমাদের রোল মডেল ভাবে, কিন্তু আমরা যদি এমন আচরণ করি, তাহলে সেটা অনুপ্রেরণাদায়ক না। যা হয়েছে, তা হওয়া উচিত ছিল না। তবে আমাকে না জিজ্ঞেস করে যারা দায়ী (ভারত), তাদেরই প্রশ্ন করুন।’

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এই টুর্নামেন্টেই আরও একবার প্রমাণ হলো যে চিরপ্রতিদ্বন্দী এই দুটি রাজনীতি থেকে ক্রিকেটকে আলাদা রাখতে পারেনি। পাকিস্তান অধিনায়ক তো স্পষ্টই জানিয়ে দিলেন এসব বিষয় ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর উদাহরণ তৈরি করছে।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

আগস্টে শুরু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পুরো ক্রিকেটকেই অসম্মান করছে ভারত : সালমান আগা

আপডেট সময় ১১:৩০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এশিয়া কাপের ৪১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ভারত জয় পেলেও নতুন এক বিতর্কের জন্ম নিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হয়েও ট্রফি গ্রহণ করেনি গৌতম গম্ভীরের দল।

বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা। তিনি ভারতীয় দলের আচরণকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। শুধু পাকিস্তান নয়, ভারত পুরো ক্রিকেটকেই অসম্মান করেছে বলে মনে করেন পাকিস্তান অধিনায়ক।

ফাইনালের পর ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আসেন পাকিস্তানের অধিনায়ক আগা। ভারতের ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়ে আগা বলেন, ‘ভারত যা করেছে এই টুর্নামেন্টে, সেটা খুবই হতাশাজনক। তারা আমাদের সঙ্গে হ্যান্ডশেক না করে আমাদের নয়, ক্রিকেটকেই অসম্মান করেছে। তারা আজ যা করেছে, ভালো দলগুলো এমন আচরণ করে না। আমরা নিজেরা গিয়ে ট্রফির সঙ্গে ছবি তুলেছি, কারণ সেটা আমাদের দায়িত্ব ছিল। আমরা দাঁড়িয়ে মেডেল নিয়েছি। আমি কঠিন ভাষা ব্যবহার করতে চাই না, কিন্তু তারা খুবই অসম্মানজনক আচরণ করেছে।’

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারায় ভারত। তবে ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয় দেড় ঘণ্টা দেরিতে। এরপর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)-এর সভাপতি ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত।

এই ঘটনায় ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে ব্যক্তিগতভাবে দোষ দিচ্ছেন না আগা। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টের শুরুতে প্রাক-টুর্নামেন্ট প্রেস কনফারেন্সে এবং রেফারির মিটিংয়ে সূর্যকুমার আমার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করেছে। কিন্তু যখন ক্যামেরার সামনে আসে, তখন তারা হ্যান্ডশেক করে না। আমি নিশ্চিত সে নির্দেশনা অনুসরণ করছে। তবে যদি ওর ওপর নির্ভর করত, তাহলে সে আমার সঙ্গে হাত মেলাত।’

আগা মনে করেন, প্রতিপক্ষ দলের পক্ষ থেকে হ্যান্ডশেক এড়িয়ে যাওয়ার এমন ঘটনা ক্রিকেটে নজিরবিহীন। তিনি বলেন, ‘এই প্রথম আমি এমন কিছু দেখলাম। এই টুর্নামেন্টে যা যা হয়েছে, তা খুবই খারাপ। আমি আশা করি এটা কখনও না কখনও থামবে, কারণ এটা ক্রিকেটের জন্য ভালো না। আজ যা হয়েছে, তা আগের সব ঘটনারই ফলাফল। স্বাভাবিকভাবেই এসিসি প্রেসিডেন্টই বিজয়ী দলকে ট্রফি দেন। আপনি যদি তার কাছ থেকে ট্রফি না নেন, তাহলে সেটা আপনি কীভাবে পাবেন?’

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচেই টসের সময় ও ম্যাচ শেষে হাত মেলায়নি। ফাইনালের শেষেও উপস্থাপনার সময় উভয় দল আলাদা আলাদা হাডলে ছিল । আগা মনে করেন এই আচরণ দুটি দেশের ভক্তদের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে আগা বলেন, ‘আমি শুধু পাকিস্তানের অধিনায়ক না, আমি একজন ক্রিকেটপ্রেমীও। যদি কোনও শিশু ভারত বা পাকিস্তানে বসে এই খেলা দেখে, আমরা তাকে কী বার্তা দিচ্ছি? মানুষ আমাদের রোল মডেল ভাবে, কিন্তু আমরা যদি এমন আচরণ করি, তাহলে সেটা অনুপ্রেরণাদায়ক না। যা হয়েছে, তা হওয়া উচিত ছিল না। তবে আমাকে না জিজ্ঞেস করে যারা দায়ী (ভারত), তাদেরই প্রশ্ন করুন।’

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে এই টুর্নামেন্টেই আরও একবার প্রমাণ হলো যে চিরপ্রতিদ্বন্দী এই দুটি রাজনীতি থেকে ক্রিকেটকে আলাদা রাখতে পারেনি। পাকিস্তান অধিনায়ক তো স্পষ্টই জানিয়ে দিলেন এসব বিষয় ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর উদাহরণ তৈরি করছে।