ভারত থেকে আসাদুজ্জামান কামালকে ফেরত চায় বাংলাদেশ, দিল্লিকে চিঠি
ঢাকা:
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে নতুন করে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে এক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি জানান, বাংলাদেশের আদালতে আসাদুজ্জামান খান কামালের বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পলাতক আসামি হিসেবে ভারতে অবস্থান করছেন। কূটনৈতিক প্রটোকল এবং দুই দেশের বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) অনুযায়ী তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, এটি একটি নিয়মিত কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ। ভারতে আত্মগোপনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রেও একইভাবে আলাদা আলাদা চিঠি এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে।
’ইতিবাচক সাড়ার প্রত্যাশা’
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালের শেষ দিকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে প্রত্যর্পণের আওতায় আনতে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের কাছে নতুন করে এই বিষয়ে তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠি পাঠানোর নির্দিষ্ট তারিখ না জানালেও প্রতিমন্ত্রী জানান, অত্যন্ত সম্প্রতি এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং শুধু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দিষ্ট করেই এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ভারতের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, “আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং আমরা অপেক্ষা করছি। আমরা অবশ্যই আশা করব যে ভারত ইতিবাচক সাড়া দেবে। দুই দেশের ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার স্বার্থেই তারা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই আইনি প্রক্রিয়ার রূপরেখা বাস্তবায়ন করছে। যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত, তাদের ফিরিয়ে এনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা জনগণের দাবিরই প্রতিফলন।
প্রত্যর্পণ চুক্তির আইনি দিক
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের আন্দোলন ও সহিংসতায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিচার সম্পন্ন হয়। বিচারে ট্রাইব্যুনাল তাদের সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার পর থেকেই পলাতক এই নেতাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরুর পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে ২০১৩ সালে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অনুচ্ছেদগুলো ব্যবহার করছে ঢাকা।
বর্তমানে ভারতে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা অবস্থান করছেন বলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতে আত্মগোপনে থাকা প্রত্যেক সাজাপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত আসামির জন্য পৃথক পৃথক আবেদন ও চিঠি পাঠানো হচ্ছে, যেন আইনি জটিলতা তৈরি না হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পলাতকদের ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর না করা পর্যন্ত কূটনৈতিক চ্যানেলে এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 





















