পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

ঢাকা, ৩ জুন ২০২৬: বাংলাদেশে পাইকারি ও গ্রাহক—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে তা গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

​আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় আইইবি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের পক্ষ থেকে এই নতুন দর ঘোষণা করা হয়। বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন এই মূল্য তালিকা চলতি বছরের ১ জুন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।

​সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে কত চাপ?

​বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকদের কয়েকটি ধাপে (স্ল্যাব) ভাগ করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী বা ‘লাইফ লাইন’ গ্রাহকদের ওপরও এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে।

  • ৫০ ইউনিট পর্যন্ত (লাইফ লাইন): ইউনিটপ্রতি দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ৬৯ পয়সা বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে।
  • শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট: আগের ৫ টাকা ২৬ পয়সার জায়গায় এখন থেকে দিতে হবে ৬ টাকা ১৮ পয়সা (বৃদ্ধি ৯২ পয়সা)।
  • ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট: ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা বাড়িয়ে নতুন দাম করা হয়েছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা
  • ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট: আগের দাম ৭ টাকা ৫৯ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫১ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯ টাকা ১০ পয়সা
  • ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট: ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৬২ পয়সা
  • ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট: আগের ১২ টাকা ৬৭ পয়সার বিদ্যুৎ এখন মিলবে ১৫ টাকা ০১ পয়সায় (বৃদ্ধি ২ টাকা ৩৪ পয়সা)।
  • ৬০০ ইউনিটের ওপরে: সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৭৪ পয়সা বাড়িয়ে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

​কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে নতুন দর

​কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, শুধু আবাসিক খাতেই নয়, বিদ্যুৎ মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি স্পর্শ করেছে উৎপাদনশীল এবং সেবামূলক খাতগুলোকেও।

​কৃষি কাজের জন্য সেচ পাম্পের বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ০৪ পয়সা করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল আগের ৭ টাকা ৫৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯ টাকা ০৫ পয়সা

​ক্ষুদ্রশিল্পের উদ্যোক্তাদের এখন থেকে ইউনিটপ্রতি ১১ টাকা ৭৬ পয়সার বদলে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা গুনতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা এসেছে নির্মাণ খাতে; এখানে ইউনিটপ্রতি দাম ১৫ টাকা ১৫ পয়সা থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ১৮ টাকা ০৯ পয়সা করা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসের বাণিজ্যিক লাইনে ইউনিটপ্রতি খরচ ১৩ টাকা ০১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

​এছাড়া পরিবেশবান্ধব পরিবহনের জন্য ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা এবং রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের ক্ষেত্রে নতুন দাম ১১ টাকা ৪৬ পয়সা করা হয়েছে।

​গ্রাহক ও ব্যবসায়ী মহলের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

আপডেট সময় ০৯:৩৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ঢাকা, ৩ জুন ২০২৬: বাংলাদেশে পাইকারি ও গ্রাহক—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১৯.৮৫ শতাংশ এবং গ্রাহক বা খুচরা পর্যায়ে তা গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

​আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় আইইবি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের পক্ষ থেকে এই নতুন দর ঘোষণা করা হয়। বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন এই মূল্য তালিকা চলতি বছরের ১ জুন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।

​সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে কত চাপ?

​বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকদের কয়েকটি ধাপে (স্ল্যাব) ভাগ করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী বা ‘লাইফ লাইন’ গ্রাহকদের ওপরও এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে।

  • ৫০ ইউনিট পর্যন্ত (লাইফ লাইন): ইউনিটপ্রতি দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ৬৯ পয়সা বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে।
  • শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট: আগের ৫ টাকা ২৬ পয়সার জায়গায় এখন থেকে দিতে হবে ৬ টাকা ১৮ পয়সা (বৃদ্ধি ৯২ পয়সা)।
  • ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট: ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা বাড়িয়ে নতুন দাম করা হয়েছে ৮ টাকা ৫০ পয়সা
  • ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট: আগের দাম ৭ টাকা ৫৯ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫১ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯ টাকা ১০ পয়সা
  • ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট: ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৬০ পয়সা বেড়ে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৬২ পয়সা
  • ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট: আগের ১২ টাকা ৬৭ পয়সার বিদ্যুৎ এখন মিলবে ১৫ টাকা ০১ পয়সায় (বৃদ্ধি ২ টাকা ৩৪ পয়সা)।
  • ৬০০ ইউনিটের ওপরে: সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ইউনিটপ্রতি ২ টাকা ৭৪ পয়সা বাড়িয়ে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

​কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে নতুন দর

​কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, শুধু আবাসিক খাতেই নয়, বিদ্যুৎ মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি স্পর্শ করেছে উৎপাদনশীল এবং সেবামূলক খাতগুলোকেও।

​কৃষি কাজের জন্য সেচ পাম্পের বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ০৪ পয়সা করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়, হাসপাতাল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিল আগের ৭ টাকা ৫৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯ টাকা ০৫ পয়সা

​ক্ষুদ্রশিল্পের উদ্যোক্তাদের এখন থেকে ইউনিটপ্রতি ১১ টাকা ৭৬ পয়সার বদলে ১২ টাকা ৭৩ পয়সা গুনতে হবে। তবে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা এসেছে নির্মাণ খাতে; এখানে ইউনিটপ্রতি দাম ১৫ টাকা ১৫ পয়সা থেকে এক লাফে বাড়িয়ে ১৮ টাকা ০৯ পয়সা করা হয়েছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসের বাণিজ্যিক লাইনে ইউনিটপ্রতি খরচ ১৩ টাকা ০১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

​এছাড়া পরিবেশবান্ধব পরিবহনের জন্য ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকেল) ও ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের বিদ্যুতের দাম ৯ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৩৬ পয়সা এবং রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের ক্ষেত্রে নতুন দাম ১১ টাকা ৪৬ পয়সা করা হয়েছে।

​গ্রাহক ও ব্যবসায়ী মহলের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির এই সময়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।

Share this news as a Photo Card