জোরপূর্বক নেওয়া পদত্যাগপত্রের কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট, এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অবিলম্বে স্বপদে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরের গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদকে ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট একদল দুষ্কৃতকারী তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও জোরপূর্বক একটি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিনই তিনি কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং পরবর্তী সময়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেন। গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তাকে স্বপদে বহালের নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় তিনি ২০২৪ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
আদালত সে সময় রুল জারি করার পাশাপাশি পদত্যাগপত্রের কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। সম্প্রতি ২০ আগস্ট বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ ওই রুল নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত রায় দেন। রায়ে বলা হয়, পদত্যাগপত্রটি স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়নি, বরং জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, তাই আইনগতভাবে এর কোনো বৈধতা নেই।
আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া, সভাপতিকে অপসারণ এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের এমপিও বন্ধেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আদালত। রায়ে রিটকারীর পক্ষে আইনি লড়াই করেন আইনজীবী মো. জহুরুল ইসলাম মুকুল ও মানবেন্দ্র রায়, আর বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম রেজাউল ইসলাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























