রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজের ৬ দিন পর কিশোরের মাটিচাপা লাশ উদ্ধার, মায়ের পরকীয়ার জেরে হত্যার অভিযোগ
চট্টগ্রাম, ২২ মে ২০২৬:
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর মো. মফিজ (১৫) নামের এক কিশোরের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকার একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় শ্মশানের চিতাখোলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে ধারণা করছে।
এই ঘটনার পেছনে নিহত কিশোরের মায়ের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের (পরকীয়া) জের থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে নিহত মফিজের মা রুবি আক্তারকে ইতিমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
যেভাবে উদ্ধার হলো মরদেহ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার দুধপুকুরিয়া (পূর্ব পাহাড়) গ্রামের বাসিন্দা মো. আবু মুছার ছেলে মো. মফিজ বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর সে বাড়ি ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। কোনো উপায় না দেখে মফিজের পিতা আবু মুছা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের ছয় দিন পর, গতকাল ২২ মে সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা দুধপুকুরিয়া এলাকার পূর্ব পাহাড়স্থ শ্মশানের চিতাখোলার ভেতর নতুন মাটি খোঁড়া একটি অংশ দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ মফিজের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মফিজের পিতা ও দাদা লাশটি শনাক্ত করেন।
আত্মহত্যার সাথে রহস্যজনক যোগসূত্র
কিশোর মফিজ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ একটি গভীর রহস্যের ইঙ্গিত পেয়েছে। মফিজের লাশ উদ্ধারের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ২১ মে (বৃহস্পতিবার) একই এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে মাহবুব আলম ওরফে মাকু আলম (৩৮) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মাহবুব আলমের এই আত্মহত্যার ঘটনার সাথে কিশোর মফিজ হত্যাকাণ্ডের একটি নিবিড় মনস্তাত্ত্বিক বা প্রত্যক্ষ যোগসূত্র থাকতে পারে। স্থানীয় মহলে গুঞ্জন রয়েছে, মায়ের সাথে মাহবুবের এই সম্পর্কের বিষয়টি মফিজ জেনে যাওয়াতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর সেই অপরাধবোধ বা ধরা পড়ার ভয় থেকে মাহবুব আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে পুলিশ এখনই চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
তদন্ত ও এলাকার পরিস্থিতি
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দীন আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আপাতদৃষ্টে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “গত বৃহস্পতিবার ঘটে যাওয়া মাহবুব আলমের আত্মহত্যার সাথে এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য ভিকটিমের মাকে আমরা হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। ব্যাপক ও নিখুঁত তদন্তের পরই ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচিত হবে।”
এই চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো রাঙ্গুনিয়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্মশানের মতো পবিত্র স্থানে মরদেহ মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা প্রকৃত হোতাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















