শিরোনাম :
পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ কে এই খাইরুল দেওয়ান ? শুক্রবার সারা ভারতে জুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির ভেনিস উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও বিতর্কের জেরে জামাত নেতা গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, ইসি-স্পিকারকে চিঠি শাহজাদপুরে ১৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

অসুস্থ খরগোশকে বাঁচাতে চিকিৎসকের দ্বারে সিনহা

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে দেখা গেল এক হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য। পাঁচ বছরের ছোট্ট সিনহা মনি বুকের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছে তার প্রিয় পোষা খরগোশ ‘মন্টু’কে। খরগোশটি অসুস্থ, চোখ বন্ধ করে নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে আছে। আর তার ছোট্ট মালিকের চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ—প্রিয় সঙ্গীকে সুস্থ করে তুলতেই সে ছুটে এসেছে প্রাণিচিকিৎসকের কাছে।
শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামে নানা জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে বড় হচ্ছে সিনহা। জন্মের পরই প্রসবজনিত জটিলতায় মাকে হারায় সে। এরপর থেকে নানা-নানির স্নেহেই বেড়ে ওঠা। নাতনির মুখে হাসি ফোটাতে দেড় বছর আগে ভালুকা থেকে একটি ছোট্ট খরগোশ এনে দেন নানা। সেই খরগোশই আজ পরিবারের একজন সদস্যের মতো।
সিনহার দেওয়া নাম ‘মন্টু’। নাম ধরে ডাকলেই কোলে উঠে আসে সে। দিনের বড় একটি সময় কাটে দুজনের একসঙ্গে। কখনো ভাত, কখনো ঘাস, আবার কখনো নিজের হাতে চিপসও খাওয়ায় সিনহা। শুধু খরগোশ নয়, ‘ঝন্টু’ নামে একটি বিড়ালছানাও রয়েছে তার। দুই প্রাণীকে ঘিরেই শিশুটির ছোট্ট পৃথিবী।
কয়েক দিন ধরে মন্টু ঠিকমতো খাচ্ছে না। দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিনহার ধারণা, কেউ হয়তো খরগোশটির কোমরে আঘাত করেছে। প্রিয় সঙ্গীর এমন অবস্থা দেখে সে নিজেও খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা দেখাতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার খালা জামিয়া আক্তার কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে ভাগনিকে সঙ্গে করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
সেখানে ভেটেরিনারি সার্জন গোলাম মুরশেদ প্রথমে শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তাকে আশ্বস্ত করেন। পরে খরগোশটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানান, কোমরে ব্যথার লক্ষণ রয়েছে। তবে হাড় ভেঙেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এক্স-রে করতে হবে। আপাতত ওষুধ দেওয়া হয়েছে। দুই দিন পর্যবেক্ষণে রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, প্রতিদিনই অনেকেই পোষা প্রাণীর চিকিৎসা করাতে আসেন। তবে এত অল্প বয়সী একটি শিশুর প্রাণীর প্রতি এমন আন্তরিকতা ও মমতা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এমন দৃশ্য চিকিৎসকদেরও আবেগাপ্লুত করে।
শিশু ও পোষা প্রাণীর এই সম্পর্ক শুধু ভালোবাসার নয়, দায়িত্ববোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। ছোট্ট সিনহার একটাই প্রত্যাশা—তার প্রিয় মন্টু যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার আগের মতো দৌড়ে এসে তার কোলে ওঠে। আর সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছে পাঁচ বছরের এই শিশু।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

অসুস্থ খরগোশকে বাঁচাতে চিকিৎসকের দ্বারে সিনহা

আপডেট সময় ০৪:০৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে বুধবার দুপুরে দেখা গেল এক হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য। পাঁচ বছরের ছোট্ট সিনহা মনি বুকের সঙ্গে জড়িয়ে রেখেছে তার প্রিয় পোষা খরগোশ ‘মন্টু’কে। খরগোশটি অসুস্থ, চোখ বন্ধ করে নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে আছে। আর তার ছোট্ট মালিকের চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ—প্রিয় সঙ্গীকে সুস্থ করে তুলতেই সে ছুটে এসেছে প্রাণিচিকিৎসকের কাছে।
শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের খিলপাড়া গ্রামে নানা জয়নাল আবেদীনের বাড়িতে বড় হচ্ছে সিনহা। জন্মের পরই প্রসবজনিত জটিলতায় মাকে হারায় সে। এরপর থেকে নানা-নানির স্নেহেই বেড়ে ওঠা। নাতনির মুখে হাসি ফোটাতে দেড় বছর আগে ভালুকা থেকে একটি ছোট্ট খরগোশ এনে দেন নানা। সেই খরগোশই আজ পরিবারের একজন সদস্যের মতো।
সিনহার দেওয়া নাম ‘মন্টু’। নাম ধরে ডাকলেই কোলে উঠে আসে সে। দিনের বড় একটি সময় কাটে দুজনের একসঙ্গে। কখনো ভাত, কখনো ঘাস, আবার কখনো নিজের হাতে চিপসও খাওয়ায় সিনহা। শুধু খরগোশ নয়, ‘ঝন্টু’ নামে একটি বিড়ালছানাও রয়েছে তার। দুই প্রাণীকে ঘিরেই শিশুটির ছোট্ট পৃথিবী।
কয়েক দিন ধরে মন্টু ঠিকমতো খাচ্ছে না। দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিনহার ধারণা, কেউ হয়তো খরগোশটির কোমরে আঘাত করেছে। প্রিয় সঙ্গীর এমন অবস্থা দেখে সে নিজেও খাওয়া-দাওয়ায় অনীহা দেখাতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তার খালা জামিয়া আক্তার কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে ভাগনিকে সঙ্গে করে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
সেখানে ভেটেরিনারি সার্জন গোলাম মুরশেদ প্রথমে শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তাকে আশ্বস্ত করেন। পরে খরগোশটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জানান, কোমরে ব্যথার লক্ষণ রয়েছে। তবে হাড় ভেঙেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে এক্স-রে করতে হবে। আপাতত ওষুধ দেওয়া হয়েছে। দুই দিন পর্যবেক্ষণে রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, প্রতিদিনই অনেকেই পোষা প্রাণীর চিকিৎসা করাতে আসেন। তবে এত অল্প বয়সী একটি শিশুর প্রাণীর প্রতি এমন আন্তরিকতা ও মমতা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এমন দৃশ্য চিকিৎসকদেরও আবেগাপ্লুত করে।
শিশু ও পোষা প্রাণীর এই সম্পর্ক শুধু ভালোবাসার নয়, দায়িত্ববোধেরও এক অনন্য উদাহরণ। ছোট্ট সিনহার একটাই প্রত্যাশা—তার প্রিয় মন্টু যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার আগের মতো দৌড়ে এসে তার কোলে ওঠে। আর সেই অপেক্ষাতেই দিন গুনছে পাঁচ বছরের এই শিশু।

Share this news as a Photo Card