নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নদী তীরে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এই অঞ্চলের প্রথম ব্যবসা কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিনের চরম অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে আজ ধ্বংসের মুখে এই বাণিজ্যিক এলাকা এবং আত্রাইয়ের প্রাচীনতম প্রধান সড়কটি (জাতআমরুল রেলিব্রাদার্স তিনমাথা মোড় হতে বিহারীপুর তিনমাথা মোড়)। দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কটি এখন খানাখন্দকে ভরে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ মো: রেজাউল ইসলাম রেজু এমপির হাত ধরেই এই রাস্তায় প্রথম ইট সোলিং (এইচবিবি) করা হয়। পরবর্তীতে আবারও বিএনপি সরকারের আমলেই রাস্তাটি কার্পেটিং বা পাকা করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও চরম অবহেলার কারণে রাস্তাটির কোনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে সরকারি খাতা থেকে যেন এই প্রাচীন সড়কটির অস্তিত্বই হারিয়ে গেছে।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা যাতায়াত করে। বর্ষাকালে কাদা-পানি ভেঙে অত্যন্ত কষ্ট করে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা শত শত মানুষ প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সড়কটি চলাচলের একেবারেই অযোগ্য হয়ে পড়ায় কোনো যানবাহন এই পথে আসতে চায় না। ফলে ক্রেতার অভাবে এখানকার প্রথম ও প্রাচীন ব্যবসা কেন্দ্রের দোকানপাটগুলো আজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের ছাত্র রবিউল আওয়াল জানায়, এই রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে আমাদের প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। রাস্তাটা মেরামত হলে আমাদের জন্য স্কুলে যেতে অনেক সুবিধা হবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম সাফি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবত এখানে ব্যবসা করছি। এই রাস্তার কখনো সংস্কার কাজ হয় নাই। একটু বৃষ্টি হলেই কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে আমাদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। রাস্তা ভাঙাচোরার কারণে এলাকায় কোনো গাড়িঘোড়া আসতে চায় না।
আরেক ব্যবসায়ী মোঃ শামীম হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস এবং দাখিল মাদ্রাসা আছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত এই রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণকে যাতায়াতের জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়।
আত্রাই ব্যবসায়ী বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে। অথচ এই রাস্তার দুই পাশেই গড়ে উঠেছিল আত্রাইয়ের প্রধান ব্যবসায়ী কেন্দ্র। রাস্তার এমন বেহাল দশার কারণে এখানকার ব্যবসায়ীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যেন দ্রুত এই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্যের হাত ধরেই এক সময় এই রাস্তার প্রথম পাকা করণের কাজ হয়েছিল। আমরা এলাকাবাসী এবং ব্যবসায়ী মহলের আকুল আবেদন, মাননীয় এমপি মহোদয় উনার নিজের হাতে তৈরি এই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য যেন দ্রুত ও জোর পদক্ষেপ নেন।
এ বিষয়ে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। মূলত বিগত সময়ে সড়কটির সরকারি আইডি রেকর্ডভুক্ত বা সংযুক্ত না থাকায় টেকনিক্যাল কারণে এর সংস্কার প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সড়কটির বর্তমান অবস্থা ও আইডি সংক্রান্ত বিষয়ে এলজিইডি সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে অতি দ্রুত এই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করা যায়।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শেখ মো: রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, আত্রাই নদী তীরে গড়ে ওঠা প্রথম সড়ক এটি, যার দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসায়ী দোকানপাট। এ রাস্তাটি প্রথম আমার হাত ধরে ১৯৯৪ সালে ইট সোলিং (এইচবিবি) এবং পরবর্তীতে পাকা করণ হয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও এ রাস্তাটির কোনো সংস্কার না করায়, রাস্তাটির আইডি নাম্বার পর্যন্ত সরকারি রেকর্ডে সংযুক্ত হয়নি।
তিনি আরও বলেন, রাস্তাটির এই বেহাল দশার কারণে সাধারণ পেশাজীবী মানুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ী সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া এখানে অবস্থিত সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য আগত সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ সড়কটি যাতে অত্যন্ত দ্রুত সংস্কার করা হয়, সেজন্য আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
আখতার রহমান, রাজশাহী 
















