সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জকিগঞ্জের কসকনকপুর ইউনিয়ন। কোলাহলমুক্ত শান্ত এই জনপদের এক প্রান্তে প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে আছে এক জলাধার তার নাম ‘ফুলের দিঘী’। স্থানীয়দের কাছে এর পরিচিতি কেবল একটি জলাশয় হিসেবে নয়, বরং এর সাথে জড়িয়ে রয়েছে ‘গায়েবী দিঘী’ হিসেবে শত বছরের অমীমাংসিত রহস্য আর লোককথা!
ফুলের দিঘীর পাড়ে পা রাখলেই মনে হবে কোনো নিপুণ শিল্পীর আঁকা সবুজ ক্যানভাস এটি। চারপাশজুড়ে বিছানো ঘন সবুজ ঘাসের বিস্তীর্ণ প্রান্তর। ঘাসগুলো এতো সজীব যে, সেখানে হাঁটলে মনে হয় সবুজ গালিচায় পা ডুবছে। দিঘীর চারধারে গাছ ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে আছে প্রহরীর মতো। তপ্ত দুপুরে সেই ছায়ায় বসে জল ও বাতাসের মিতালি দেখার অভিজ্ঞতা এক অনন্য প্রশান্তি এনে দেয়। সবুজ ঘাসের এ প্রান্তরে অনেকেই গরু চরিয়ে থাকেন।
দিনের বিভিন্ন সময়ে দিঘীটির রূপ বদলায় ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে। ভোরের প্রথম আলো যখন শান্ত জলের বুকে পড়ে, তখন পুরো দিঘী যেন সোনালি আভায় চিকচিক করে ওঠে। আবার বিকেল গড়িয়ে গোধূলি আসতেই রক্তিম আকাশের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে টলটলে পানিতে।
ফুলের দিঘীকে ঘিরে স্থানীয় লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে রোমাঞ্চকর নানা গল্প। অনেকের মুখে শোনা যায়, বহু বছর আগে এই দিঘী থেকে অলৌকিকভাবে বিয়ের থালা-বাসন, সাজসজ্জার সামগ্রী এমনকি গয়নাও উঠে আসত। প্রয়োজন শেষে সেগুলো আবার দিঘীর জলেই হারিয়ে যেত। এই গায়েবী রহস্যের কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি না থাকলেও এখানকার মানুষের বিশ্বাসে দিঘীটি আজও এক অলৌকিক স্থান।
এখানে বাইরের পর্যটকদের ভিড় খুব একটা নেই। তবে স্থানীয়দের জন্য এটি অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র। দিনের অবসরে কেউ একা নির্জনে সময় কাটাতে, আবার কেউবা সপরিবারে ছবি তুলতে এখানে আসেন। বিভিন্ন উৎসবে দিঘীর পাড়ে বাড়ে মানুষের আনাগোনা। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি এখন স্মার্টফোনের ক্যামেরায় বন্দি করার মতো এক চমৎকার ‘ফটোজেনিক’ স্পট।
যাবেন যেভাবে:
সিলেট জেলা শহর থেকে ফুলের দিঘী দেখতে যেতে হলে প্রথমে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের ‘ইউনিয়ন অফিস বাজার’ পর্যন্ত বাসে যেতে হবে। বাজার থেকে সহজেই পাওয়া যাবে অটোরিকশা। অটোরিক্সায় করে সরাসরি পৌঁছে যাওয়া যাবে ফুলের দিঘীতে।
যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি মুছে দিতে প্রকৃতির সাহচর্য যাদের পছন্দ, তাদের জন্য ‘ফুলের দিঘী’ হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। লোককথা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এই মেলবন্ধনে মিলবে মন ও মগজের শান্তির পরশ!
আবীর আল নাহিয়ান, জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি 

























