ইহরাম অবস্থায় নারীরা অলংকার পরতে পারবে কী?

হজ-ওমরাহর ইহরামে নারীদের জন্য সোনা-রুপা বা অন্য কোনো ধাতুর তৈরি অলংকার ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয়, জায়েজ। প্রখ্যাত তাবেঈ নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের (রা.) স্ত্রী ও মেয়েরা ইহরাম অবস্থায় সোনা-রুপার অলংকার ব্যবহার করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১৪৪১৪)

তাই যারা নিয়মিত নাকে ও কানে সোনা-রুপা বা অন্য কোনো ধাতুর তৈরি অলংকার পরিধান করেন, তারা ইহরাম অবস্থায়ও ওইসব অলংকার পরিধান করতে পারেন যদি সেগুলো পরপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো না হয়।

তবে মনে রাখতে হবে, হজ ও ওমরাহর ইহরাম বাঁধার পর শরীরের সাজসজ্জা যেমন চুলে তেল দেওয়া বা সিঁথি করা ইত্যাদি নিষিদ্ধ। চুল আঁচড়ানোও অপছন্দনীয় বা মাকরুহ। সুগন্ধি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। মেহেদি, লিপস্টিকসহ অন্যান্য প্রসাধনী ঘ্রাণমুক্ত হলেও ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

এক নজরে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো
নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য নিষিদ্ধ কাজ আটটি:
১. মাথার চুল, গোঁফ, দাড়ি, শরীরের অন্যান্য জায়গার লোম মুণ্ডন করা, ছোট করা কিংবা উঠিয়ে ফেলা।
২. ইহরামের অবস্থায় নখ কাটা বা নখ উঠিয়ে ফেলা। তবে কোনো নখ ভেঙ্গে গেলে কষ্টদায়ক অংশটুকু কেটে ফেলে দিলে কোনো অসুবিধা নেই।
৩. ইহরাম অবস্থায় ইহরামের কাপড়ে, শরীরে অথবা শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে এমন কিছুতে সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৪. বিয়ে করা, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বা অভিভাবক বা উকিল হয়ে কাউকে বিয়ে দেওয়া।
৫. যৌন কামনার সঙ্গে চুম্বন করা, স্পর্শ করা কিংবা জড়িয়ে ধরা। যৌন আবেদন সৃষ্টি করে এমন কথাবার্তা বলা বা রসিকতা করা।
৬. যৌন মিলন করা।
৭. নিজে শিকার করা বা কাউকে শিকার করতে সহযোগিতা করা।
৮. ক্ষতিকর নয় এমন কীট-পতঙ্গ, পশু-পাখি মারা।

ইহরাম অবস্থায় শুধু পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ যেসব কাজ
১. মাথা ঢাকা। পুরুষের জন্য ইহরাম অবস্থায় এমন কিছু দিয়ে মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ যা মাথার সাথে লেগে থাকে যেমন পাগড়ি, বিভিন্ন প্রকারের টুপি ও রুমাল ইত্যাদি। তবে এমন কিছু দিয়ে মাথা ঢাকা যায়, যা মাথার সাথে লেগে থাকে না যেমন, ছাতা, গাড়ির ছাদ, তাঁবু ইত্যাদি।
২. সেলাই করা কাপড় পরা। পুরুষদের জন্য ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা কাপড় পরা নিষিদ্ধ। সেলাইকৃত কাপড়ের অর্থ হলো, এমন কাপড় যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের অবয়ব অনুযায়ী তৈরি করা হয় যেমন জুব্বা, পাঞ্জাবি, পাজামা, প্যান্ট, গেঞ্জি, আণ্ডারওয়্যার, মোজা, হাত বা পায়ের মোজা।
৩. পায়ের পাতার ওপরের অংশ ঢেকে যায় এমন জুতা পরা।

ইহরাম অবস্থায় নারীর জন্য নিষিদ্ধ যেসব কাজ
ইহরাম অবস্থায় নারীর জন্য সেলাই করা পোশাক, মাথা ঢাকা ইত্যাদি বৈধ হলেও দুটি কাজ নিষিদ্ধ:
১. হাত মোজা পরা।
২. নেকাব পরিধান করা। তবে পরপুরুষ সামনে চলে এলে ওড়না ঝুলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য চেহারা আবৃত করা যবে।

বলাবাহুল্য, এ দুটি কাজ পুরুষের জন্যও নিষিদ্ধ। কিন্তু পুরুষদের জন্য যেহেতু সেলাইকৃত যে কোনো পোশাক নিষিদ্ধ, মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ তাই এগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইহরাম অবস্থায় নারীরা অলংকার পরতে পারবে কী?

আপডেট সময় ১০:৫৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ মে ২০২৫

হজ-ওমরাহর ইহরামে নারীদের জন্য সোনা-রুপা বা অন্য কোনো ধাতুর তৈরি অলংকার ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয়, জায়েজ। প্রখ্যাত তাবেঈ নাফে (রহ.) থেকে বর্ণিত রয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের (রা.) স্ত্রী ও মেয়েরা ইহরাম অবস্থায় সোনা-রুপার অলংকার ব্যবহার করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ১৪৪১৪)

তাই যারা নিয়মিত নাকে ও কানে সোনা-রুপা বা অন্য কোনো ধাতুর তৈরি অলংকার পরিধান করেন, তারা ইহরাম অবস্থায়ও ওইসব অলংকার পরিধান করতে পারেন যদি সেগুলো পরপুরুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো না হয়।

তবে মনে রাখতে হবে, হজ ও ওমরাহর ইহরাম বাঁধার পর শরীরের সাজসজ্জা যেমন চুলে তেল দেওয়া বা সিঁথি করা ইত্যাদি নিষিদ্ধ। চুল আঁচড়ানোও অপছন্দনীয় বা মাকরুহ। সুগন্ধি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। মেহেদি, লিপস্টিকসহ অন্যান্য প্রসাধনী ঘ্রাণমুক্ত হলেও ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

এক নজরে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজগুলো
নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য নিষিদ্ধ কাজ আটটি:
১. মাথার চুল, গোঁফ, দাড়ি, শরীরের অন্যান্য জায়গার লোম মুণ্ডন করা, ছোট করা কিংবা উঠিয়ে ফেলা।
২. ইহরামের অবস্থায় নখ কাটা বা নখ উঠিয়ে ফেলা। তবে কোনো নখ ভেঙ্গে গেলে কষ্টদায়ক অংশটুকু কেটে ফেলে দিলে কোনো অসুবিধা নেই।
৩. ইহরাম অবস্থায় ইহরামের কাপড়ে, শরীরে অথবা শরীরের সঙ্গে লেগে থাকে এমন কিছুতে সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৪. বিয়ে করা, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া বা অভিভাবক বা উকিল হয়ে কাউকে বিয়ে দেওয়া।
৫. যৌন কামনার সঙ্গে চুম্বন করা, স্পর্শ করা কিংবা জড়িয়ে ধরা। যৌন আবেদন সৃষ্টি করে এমন কথাবার্তা বলা বা রসিকতা করা।
৬. যৌন মিলন করা।
৭. নিজে শিকার করা বা কাউকে শিকার করতে সহযোগিতা করা।
৮. ক্ষতিকর নয় এমন কীট-পতঙ্গ, পশু-পাখি মারা।

ইহরাম অবস্থায় শুধু পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ যেসব কাজ
১. মাথা ঢাকা। পুরুষের জন্য ইহরাম অবস্থায় এমন কিছু দিয়ে মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ যা মাথার সাথে লেগে থাকে যেমন পাগড়ি, বিভিন্ন প্রকারের টুপি ও রুমাল ইত্যাদি। তবে এমন কিছু দিয়ে মাথা ঢাকা যায়, যা মাথার সাথে লেগে থাকে না যেমন, ছাতা, গাড়ির ছাদ, তাঁবু ইত্যাদি।
২. সেলাই করা কাপড় পরা। পুরুষদের জন্য ইহরাম অবস্থায় সেলাই করা কাপড় পরা নিষিদ্ধ। সেলাইকৃত কাপড়ের অর্থ হলো, এমন কাপড় যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের অবয়ব অনুযায়ী তৈরি করা হয় যেমন জুব্বা, পাঞ্জাবি, পাজামা, প্যান্ট, গেঞ্জি, আণ্ডারওয়্যার, মোজা, হাত বা পায়ের মোজা।
৩. পায়ের পাতার ওপরের অংশ ঢেকে যায় এমন জুতা পরা।

ইহরাম অবস্থায় নারীর জন্য নিষিদ্ধ যেসব কাজ
ইহরাম অবস্থায় নারীর জন্য সেলাই করা পোশাক, মাথা ঢাকা ইত্যাদি বৈধ হলেও দুটি কাজ নিষিদ্ধ:
১. হাত মোজা পরা।
২. নেকাব পরিধান করা। তবে পরপুরুষ সামনে চলে এলে ওড়না ঝুলিয়ে কিছুক্ষণের জন্য চেহারা আবৃত করা যবে।

বলাবাহুল্য, এ দুটি কাজ পুরুষের জন্যও নিষিদ্ধ। কিন্তু পুরুষদের জন্য যেহেতু সেলাইকৃত যে কোনো পোশাক নিষিদ্ধ, মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ তাই এগুলো উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না।

 

Share this news as a Photo Card