“হিম হিম শীতের বাতাস, উষ্ণতায় ছড়ায় পিঠা পুলির সুবাস” কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকালে স্বাপ্নিক প্রিপারেটরি স্কুলে আয়োজন করা হয় পিঠা উৎসব-২০২৬ এর এক বর্ণিল অনুষ্ঠান। সকাল ৯:০০ টায় স্বাপ্নিক প্রিপারেটরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক সুব্রত মালাকার পিঠা উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন।
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার খামারগ্রামে অবস্থিত স্বাপ্নিক প্রিপারেটরি স্কুল ক্যাম্পাসে এ উপলক্ষে ৮ টি স্টল স্থাপন করা হয়। প্রতিটি স্টল সাজানো হয় প্রায় ৫০ রকমের নানা পিঠা-পুলি ও শীতের বাহারি খাবার দিয়ে। উৎসবজুড়ে ছিল ঐতিহ্যবাহী বাঙালি শীতকালীন খাবারের সমাহার, যা উপস্থিত সকলের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও আগত অতিথিদের খেজুরের রসসহ গুড়, বাতাসা, খৈ, মুড়ি এবং চিড়ার মোয়া দিয়ে আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করা হয়। পিঠা উৎসবকে ঘিরে শিশুদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের আনন্দ এবং অতিথিদের উপস্থিতি স্কুল ক্যাম্পাসকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন।
আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন ফাউন্ডেশন, বেলকুচি উপজেলা শাখা’র সাধারণ সম্পাদক কাওছার আহমদ জয়, কোষাধ্যক্ষ রেজাউল হক, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক মুহসিন আলম মুহিন, স্বাপ্নিকের পৃষ্ঠপোষক এস.এম মাহমুদুল হাসান বাদলসহ স্কুলের সকল ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকবৃন্দ। অতিথিবৃন্দ স্কুলের এমন শিক্ষাবান্ধব ও সংস্কৃতিমনস্ক আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় ঐতিহ্য চর্চায় এ ধরনের উৎসবের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সকাল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন বিকেল ৫:০০ টা পর্যন্ত মনোমুগ্ধকর পরিবেশ বজায় রেখে সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়। স্বাপ্নিক শিক্ষা পরিবারের সহকারি প্রধান শিক্ষক মুজাহিদ হোসেনসহ সকল শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক সুব্রত মালাকার জানান, স্বাপ্নিক প্রিপারেটরি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, স্বাপ্নিক শিক্ষা পরিবারের উদ্যোগে এ ধরনের সুন্দর আয়োজন প্রতি বছরই নিত্য নতুন সাজ ও পরিকল্পনায় আরও বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে।
এ আয়োজনের মাধ্যমে শীতের ঐতিহ্যবাহী পিঠা সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সমাজের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হলো বলে মনে করেন উপস্থিত সকলে।
মোঃ জুবায়ের হোসাইন, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি 


























