জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল: ঘরের মাঠে ট্রফি খোয়ালো সদ্যপুস্করিনী, চ্যাম্পিয়ন গাইবান্ধা

জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল: ঘরের মাঠে ট্রফি খোয়ালো সদ্যপুস্করিনী, চ্যাম্পিয়ন গাইবান্ধা

ঘরের মাঠে হাজারো দর্শকের করতালির মাঝেও শেষরক্ষা হলো না। জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ওমেন্স ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-২০২৬ এর বাছাই পর্বের ফাইনালে এক চরম নাটকীয়তার সাক্ষী হলো দেশের তৃণমূল ফুটবল। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক সদ্যপুস্করিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে গাইবান্ধা জেলা মহিলা দল।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় সদ্যপুস্করিনী ক্লাবের নিজস্ব মাঠে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। শিরোপার লড়াই দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠজুড়ে স্বাগতিক দর্শকদের উল্লাসের পরিবর্তে নেমে আসে নীরবতা ও তীব্র হতাশা

​আক্রমণ বনাম রক্ষণ: প্রথমার্ধের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

​ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে সদ্যপুস্করিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের কিশোরী ফুটবলাররা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে তারা। তবে ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ বা নিজেদের মাঠের সুবিধা পেয়েও গোলমুখের সামনে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন ফরোয়ার্ডরা। প্রথমার্ধেই গোল করার অন্তত তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে স্বাগতিক দল।

​অন্যদিকে, গাইবান্ধা জেলা মহিলা দল শুরু থেকেই কৌশলী ফুটবল উপহার দেয়। সদ্যপুস্করিনীর মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে তারা রক্ষণভাগকে করে তোলে নিশ্ছিদ্র। রক্ষণ মজবুত রেখে মূলত ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ বা পাল্টা আক্রমণের কৌশলে এগোতে থাকে গাইবান্ধার মেয়েরা। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

​একটি ভুল এবং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ

​দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও ম্যাচের লাগাম ধরার চেষ্টা করে সদ্যপুস্করিনী। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাদের খেলায় সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচের মাঝপথে স্বাগতিক রক্ষণভাগের একটি ছোট ভুলের চড়া মূল্য দিতে হয় দলকে। ডিফেন্ডারদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে গোল আদায় করে নেয় গাইবান্ধার স্ট্রাইকাররা।

​১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সদ্যপুস্করিনী। তবে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে পরিকল্পনাহীন ফুটবলের কারণে সমতাসূচক গোলটি আর পাওয়া হয়নি তাদের। শেষ পর্যন্ত ওই এক গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই জয়ের উল্লাসে মাতে গাইবান্ধা জেলা মহিলা দল।

​সমর্থকদের হতাশা ও ক্ষোভ

​দীর্ঘ প্রস্তুতি ও ঘরের মাঠে উপচে পড়া সমর্থনের পরও এমন হারে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। খেলা শেষে মাঠ ছাড়ার সময় অনেক দর্শকই দলের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

​স্থানীয় এক ফুটবল অনুরাগী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “দল দীর্ঘদিন ধরে অনুশীলন করছে, অথচ ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে তাদের খেলায় কোনো পরিকল্পনা ছিল না। গোল করার দারুণ কিছু সুযোগ নষ্ট হয়েছে স্রেফ অভিজ্ঞতার অভাবে।”

​ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায়ের এই টুর্নামেন্টে সদ্যপুস্করিনীর খেলায় সম্ভাবনার আলো থাকলেও ফাইনালে চাপ সামলাতে না পারার মানসিকতাই তাদের পরাজয়ের মূল কারণ। তবে এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে কিশোরী ফুটবলাররা আগামীতে আরও ঘুরে দাঁড়াবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের।

 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল: ঘরের মাঠে ট্রফি খোয়ালো সদ্যপুস্করিনী, চ্যাম্পিয়ন গাইবান্ধা

আপডেট সময় ০৮:০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবল: ঘরের মাঠে ট্রফি খোয়ালো সদ্যপুস্করিনী, চ্যাম্পিয়ন গাইবান্ধা

ঘরের মাঠে হাজারো দর্শকের করতালির মাঝেও শেষরক্ষা হলো না। জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ ওমেন্স ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-২০২৬ এর বাছাই পর্বের ফাইনালে এক চরম নাটকীয়তার সাক্ষী হলো দেশের তৃণমূল ফুটবল। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক সদ্যপুস্করিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে গাইবান্ধা জেলা মহিলা দল।

গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় সদ্যপুস্করিনী ক্লাবের নিজস্ব মাঠে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। শিরোপার লড়াই দেখতে মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠজুড়ে স্বাগতিক দর্শকদের উল্লাসের পরিবর্তে নেমে আসে নীরবতা ও তীব্র হতাশা

​আক্রমণ বনাম রক্ষণ: প্রথমার্ধের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

​ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে সদ্যপুস্করিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের কিশোরী ফুটবলাররা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কবজায় নিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে তারা। তবে ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ বা নিজেদের মাঠের সুবিধা পেয়েও গোলমুখের সামনে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন ফরোয়ার্ডরা। প্রথমার্ধেই গোল করার অন্তত তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট করে স্বাগতিক দল।

​অন্যদিকে, গাইবান্ধা জেলা মহিলা দল শুরু থেকেই কৌশলী ফুটবল উপহার দেয়। সদ্যপুস্করিনীর মুহুর্মুহু আক্রমণ সামলাতে তারা রক্ষণভাগকে করে তোলে নিশ্ছিদ্র। রক্ষণ মজবুত রেখে মূলত ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ বা পাল্টা আক্রমণের কৌশলে এগোতে থাকে গাইবান্ধার মেয়েরা। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।

​একটি ভুল এবং ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ

​দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও ম্যাচের লাগাম ধরার চেষ্টা করে সদ্যপুস্করিনী। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে তাদের খেলায় সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যাচের মাঝপথে স্বাগতিক রক্ষণভাগের একটি ছোট ভুলের চড়া মূল্য দিতে হয় দলকে। ডিফেন্ডারদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে গোল আদায় করে নেয় গাইবান্ধার স্ট্রাইকাররা।

​১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সদ্যপুস্করিনী। তবে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে পরিকল্পনাহীন ফুটবলের কারণে সমতাসূচক গোলটি আর পাওয়া হয়নি তাদের। শেষ পর্যন্ত ওই এক গোলের ব্যবধান ধরে রেখেই জয়ের উল্লাসে মাতে গাইবান্ধা জেলা মহিলা দল।

​সমর্থকদের হতাশা ও ক্ষোভ

​দীর্ঘ প্রস্তুতি ও ঘরের মাঠে উপচে পড়া সমর্থনের পরও এমন হারে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। খেলা শেষে মাঠ ছাড়ার সময় অনেক দর্শকই দলের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

​স্থানীয় এক ফুটবল অনুরাগী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “দল দীর্ঘদিন ধরে অনুশীলন করছে, অথচ ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে তাদের খেলায় কোনো পরিকল্পনা ছিল না। গোল করার দারুণ কিছু সুযোগ নষ্ট হয়েছে স্রেফ অভিজ্ঞতার অভাবে।”

​ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, অনূর্ধ্ব-১৪ পর্যায়ের এই টুর্নামেন্টে সদ্যপুস্করিনীর খেলায় সম্ভাবনার আলো থাকলেও ফাইনালে চাপ সামলাতে না পারার মানসিকতাই তাদের পরাজয়ের মূল কারণ। তবে এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে কিশোরী ফুটবলাররা আগামীতে আরও ঘুরে দাঁড়াবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের।

 

Share this news as a Photo Card