শিরোনাম :
পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ কে এই খাইরুল দেওয়ান ? শুক্রবার সারা ভারতে জুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির ভেনিস উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও বিতর্কের জেরে জামাত নেতা গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, ইসি-স্পিকারকে চিঠি শাহজাদপুরে ১৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল্ডেন বুটের লড়াই

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই আনুষ্ঠানিকতা বলে মনে করেন। ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর খেলোয়াড়দের আগ্রহও অনেক সময় কমে যায়। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও সেমিফাইনালে হারের পর বলেছিলেন, তাঁর দলের কেউই এই ম্যাচ খেলতে চায় না; একই অবস্থা ফ্রান্স শিবিরেও। কারণ, দুই দলই চেয়েছিল ফাইনালে জায়গা করে নিতে।
তবে দর্শকদের কাছে গুরুত্ব কম থাকলেও এই ম্যাচের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে কয়েকজন ফুটবলারের জন্য। কারণ, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও বিশ্বকাপের মোট গোলসংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং সেটিই প্রভাব ফেলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে।
বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনেরই গোল আটটি। তবে একটি বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় আপাতত এগিয়ে আছেন মেসি। নরওয়ের আর্লিং হলান্ড সাত গোল করলেও তাঁর দল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেওয়ায় আর গোল বাড়ানোর সুযোগ নেই।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের গোল ছয়টি করে। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের রয়েছে পাঁচটি করে গোল। ফলে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই নয়, গোল্ডেন বুটের সমীকরণও বদলে দিতে পারে।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, এই ম্যাচ অনেকবারই গোল্ডেন বুট নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১০ সালে জার্মানির টমাস মুলার, ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকর, ১৯৯০ সালে ইতালির সালভাতোরে শিলাচি এবং ১৯৩৮ সালে ব্রাজিলের লিওনিদাস—তাঁরা সবাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন।
এ ছাড়া ১৯৭৪ সালে পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো, ১৯৬৬ সালে পর্তুগালের ইউসেবিও এবং ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও এই ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও তাঁদের ক্ষেত্রে ওই গোল ছাড়াও গোল্ডেন বুট নিশ্চিত ছিল।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একাধিক খেলোয়াড় সমান গোল করলে প্রথমে দেখা হয় কার অ্যাসিস্ট বেশি। অ্যাসিস্টও সমান হলে বিবেচনায় আসে কে কম সময় মাঠে থেকে সেই গোল করেছেন। অর্থাৎ গোল্ডেন বুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্রমানুসারে বিবেচিত হয়—সর্বোচ্চ গোল, সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট এবং সবচেয়ে কম খেলার সময়।
এই সমীকরণে এখনো দৌড়ে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম ও উসমান দেম্বেলে। তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রতিটি গোলই বদলে দিতে পারে গোল্ডেন বুটের হিসাব। এরপর ফাইনালে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি, যেখানে তাঁর সামনে থাকবে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আরেকটি বড় অর্জন নিশ্চিত করার সুযোগ।
ফলে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু সান্ত্বনার লড়াই নয়; এটি হতে পারে ব্যক্তিগত গৌরবের মঞ্চও। আর সে কারণেই ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে গোলের পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের সমীকরণের দিকেও।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল্ডেন বুটের লড়াই

আপডেট সময় ০৩:১২:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই আনুষ্ঠানিকতা বলে মনে করেন। ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর খেলোয়াড়দের আগ্রহও অনেক সময় কমে যায়। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও সেমিফাইনালে হারের পর বলেছিলেন, তাঁর দলের কেউই এই ম্যাচ খেলতে চায় না; একই অবস্থা ফ্রান্স শিবিরেও। কারণ, দুই দলই চেয়েছিল ফাইনালে জায়গা করে নিতে।
তবে দর্শকদের কাছে গুরুত্ব কম থাকলেও এই ম্যাচের আলাদা তাৎপর্য রয়েছে কয়েকজন ফুটবলারের জন্য। কারণ, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও বিশ্বকাপের মোট গোলসংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং সেটিই প্রভাব ফেলে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে।
বর্তমানে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে আছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনেরই গোল আটটি। তবে একটি বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় আপাতত এগিয়ে আছেন মেসি। নরওয়ের আর্লিং হলান্ড সাত গোল করলেও তাঁর দল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নেওয়ায় আর গোল বাড়ানোর সুযোগ নেই।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের গোল ছয়টি করে। ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারসাবালের রয়েছে পাঁচটি করে গোল। ফলে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু ব্রোঞ্জ পদকের লড়াই নয়, গোল্ডেন বুটের সমীকরণও বদলে দিতে পারে।
বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, এই ম্যাচ অনেকবারই গোল্ডেন বুট নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১০ সালে জার্মানির টমাস মুলার, ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকর, ১৯৯০ সালে ইতালির সালভাতোরে শিলাচি এবং ১৯৩৮ সালে ব্রাজিলের লিওনিদাস—তাঁরা সবাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন।
এ ছাড়া ১৯৭৪ সালে পোল্যান্ডের গ্রেজেগোর্জ লাতো, ১৯৬৬ সালে পর্তুগালের ইউসেবিও এবং ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনও এই ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও তাঁদের ক্ষেত্রে ওই গোল ছাড়াও গোল্ডেন বুট নিশ্চিত ছিল।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একাধিক খেলোয়াড় সমান গোল করলে প্রথমে দেখা হয় কার অ্যাসিস্ট বেশি। অ্যাসিস্টও সমান হলে বিবেচনায় আসে কে কম সময় মাঠে থেকে সেই গোল করেছেন। অর্থাৎ গোল্ডেন বুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে ক্রমানুসারে বিবেচিত হয়—সর্বোচ্চ গোল, সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট এবং সবচেয়ে কম খেলার সময়।
এই সমীকরণে এখনো দৌড়ে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম ও উসমান দেম্বেলে। তাই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের প্রতিটি গোলই বদলে দিতে পারে গোল্ডেন বুটের হিসাব। এরপর ফাইনালে মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি, যেখানে তাঁর সামনে থাকবে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আরেকটি বড় অর্জন নিশ্চিত করার সুযোগ।
ফলে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু সান্ত্বনার লড়াই নয়; এটি হতে পারে ব্যক্তিগত গৌরবের মঞ্চও। আর সে কারণেই ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে গোলের পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের সমীকরণের দিকেও।

Share this news as a Photo Card