শিরোনাম :
মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যু খুলনায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাইনিজ কুড়াল হাতে পাঁচ যুবকের হামলা ২৪২ রানে অপরাজিত সেঞ্চুরিতে ইতিহাস গড়লেন হৃদয় শিশুদের শিক্ষার মান বাড়াতে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক অভিষেকের বাড়িতে রাত ২টায় সশস্ত্র হামলার অভিযোগ, উড়িয়ে দিল বিজেপি গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা, মিলবে মোবাইল ভাতাও ট্রাকের চাপায় বাবা মা সহ নিহত আট মাসের শিশু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাই লড়ছেন তাওহীদ হৃদয়, ১৫৪ রানে অপরাজিত দল, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পরিচয় একটাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী ‘উই ওয়্যার হিয়ার’: এআইয়ের বিরুদ্ধে মাইক্রোওয়েভ

মেসির শেষ নেই: মধুর সমাপ্তির খোঁজে আর্জেন্টিনা

ফুটবল কি পারবে মেসিকে আরেকবার রাঙাতে?

​ঢাকা — মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে আজ যখন শেষ বাঁশি বাজবে, তখন লিওনেল মেসির জীবন এক ফোঁটাও বদলাবে না। আর্জেন্টিনা জিতুক কিংবা হারুক—ফুটবলের এই জাদুকরের আসলে নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই, হারানোরও নেই। কারণ তিনি ক্যারিয়ারের সব রূপ দেখে ফেলেছেন। বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরে বেদনায় নীল হওয়ার অভিজ্ঞতা যেমন তাঁর আছে, তেমনি ট্রফি ছুঁয়ে পরম আনন্দে ভেসে যাওয়ার গল্পও তিনি নিজে লিখেছেন।

​২০১৪ সালে রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে অশ্রুভেজা চোখে গোল্ডেন বল নিতে যাওয়ার সেই দৃশ্য এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে টাটকা। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে নিয়েও মেসির পা দুটো যেন সেদিন পাথরের মতো ভারী ছিল। স্বপ্নের সেই সোনালী ট্রফির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাঁর মলিন মুখ কোটি ভক্তকে কাঁদিয়েছিল।

​মারাকানার কান্না থেকে লুসাইলের হাসি

​ঠিক আট বছর পর, ২০২২ সালের লুসাইল স্টেডিয়ামে দেখা গেল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। মাথার ওপর জার্সি ঘুরিয়ে ট্রফি জয়ের সেই উদ্দাম উদ্‌যাপন যেন মেসির ক্যারিয়ারের, এমনকি জীবনেরও একমাত্র অপূর্ণতা দূর করে দিয়েছিল। সেবারও তাঁর হাতে উঠেছিল গোল্ডেন বল, তবে এবার আর বিষাদের ছায়া ছিল না, ছিল এক চিলতে চঞ্চল হাসি।

​২০২২ সালের সেই জাদুকরী আসরে মেক্সিকো বা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চোখধাঁধানো গোল, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মলিনাকে দেওয়া সেই অবিশ্বাস্য অ্যাসিস্ট কিংবা ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে সর্পিল দৌড়—বিশ্বকাপ না জিতলেও এই মুহূর্তগুলো চিরকাল অমর হয়ে থাকত। ট্রফি জয় কেবল সেই মহাকাব্যকে এক পূর্ণতা দিয়েছে।

​যিনি অতীত না হয়ে এখনো ঘোরতর বর্তমান

​২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম যখন বলেছিলেন যে, ফ্রান্সের মানুষও মেসির জন্য আর্জেন্টিনার জয় দেখতে চায়—তখন সবাই ধরে নিয়েছিলেন এটাই মেসির শেষ মঞ্চ। খোদ আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও টুর্নামেন্টজুড়ে আকুতি করেছিলেন, “মেসিকে প্রাণভরে উপভোগ করে নিন।” সবাই ভেবেছিল, ফুটবলবিশ্বে মেসি-অধ্যায় বুঝি ওখানেই শেষ।

​কিন্তু পুরো বিশ্বকে বোকা বানিয়ে মেসি আবারও ফিরে এসেছেন বিশ্বকাপের ফাইনালে। মাঠে প্রতিপক্ষকে ছিটকে দেওয়া এই খুদে জাদুকর মাঠের বাইরেও সবার সব হিসেব-নিকেশ ওলটপালট করে দিয়েছেন। তিনি অতীত হওয়ার বদলে এখনো ঘোরতর বর্তমান।

​আজকের ফাইনালের আগে চারদিকে আবারও সেই চেনা উন্মাদনা। রবীন্দ্রনাথ হয়তো লিওনেল মেসিকে নিয়ে গান লেখেননি, তবে আজ কোটি ফুটবল ভক্তের মনে ঠিকই গুঞ্জরিত হচ্ছে সেই সুর—‘মধুর তোমার শেষ যে না পাই…!’ আজ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীরা কি আরও একবার মেসির সেই চিরচেনা হাসিমুখ দেখতে পাবে? উত্তর দেবে সময়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

রান্নার অ্যালুমিনিয়াম হাঁড়িতে সিসার ঝুঁকি, মান যাচাইয়ের ব্যবস্থাই নেই

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

‘উই ওয়্যার হিয়ার’: এআইয়ের বিরুদ্ধে মাইক্রোওয়েভ

০৭ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মেসির শেষ নেই: মধুর সমাপ্তির খোঁজে আর্জেন্টিনা

আপডেট সময় ০৭:২৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ফুটবল কি পারবে মেসিকে আরেকবার রাঙাতে?

​ঢাকা — মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে আজ যখন শেষ বাঁশি বাজবে, তখন লিওনেল মেসির জীবন এক ফোঁটাও বদলাবে না। আর্জেন্টিনা জিতুক কিংবা হারুক—ফুটবলের এই জাদুকরের আসলে নতুন করে পাওয়ার কিছু নেই, হারানোরও নেই। কারণ তিনি ক্যারিয়ারের সব রূপ দেখে ফেলেছেন। বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরে বেদনায় নীল হওয়ার অভিজ্ঞতা যেমন তাঁর আছে, তেমনি ট্রফি ছুঁয়ে পরম আনন্দে ভেসে যাওয়ার গল্পও তিনি নিজে লিখেছেন।

​২০১৪ সালে রিও ডি জেনিরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে অশ্রুভেজা চোখে গোল্ডেন বল নিতে যাওয়ার সেই দৃশ্য এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে টাটকা। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হাতে নিয়েও মেসির পা দুটো যেন সেদিন পাথরের মতো ভারী ছিল। স্বপ্নের সেই সোনালী ট্রফির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাঁর মলিন মুখ কোটি ভক্তকে কাঁদিয়েছিল।

​মারাকানার কান্না থেকে লুসাইলের হাসি

​ঠিক আট বছর পর, ২০২২ সালের লুসাইল স্টেডিয়ামে দেখা গেল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। মাথার ওপর জার্সি ঘুরিয়ে ট্রফি জয়ের সেই উদ্দাম উদ্‌যাপন যেন মেসির ক্যারিয়ারের, এমনকি জীবনেরও একমাত্র অপূর্ণতা দূর করে দিয়েছিল। সেবারও তাঁর হাতে উঠেছিল গোল্ডেন বল, তবে এবার আর বিষাদের ছায়া ছিল না, ছিল এক চিলতে চঞ্চল হাসি।

​২০২২ সালের সেই জাদুকরী আসরে মেক্সিকো বা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চোখধাঁধানো গোল, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মলিনাকে দেওয়া সেই অবিশ্বাস্য অ্যাসিস্ট কিংবা ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগ ভেঙে সর্পিল দৌড়—বিশ্বকাপ না জিতলেও এই মুহূর্তগুলো চিরকাল অমর হয়ে থাকত। ট্রফি জয় কেবল সেই মহাকাব্যকে এক পূর্ণতা দিয়েছে।

​যিনি অতীত না হয়ে এখনো ঘোরতর বর্তমান

​২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম যখন বলেছিলেন যে, ফ্রান্সের মানুষও মেসির জন্য আর্জেন্টিনার জয় দেখতে চায়—তখন সবাই ধরে নিয়েছিলেন এটাই মেসির শেষ মঞ্চ। খোদ আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও টুর্নামেন্টজুড়ে আকুতি করেছিলেন, “মেসিকে প্রাণভরে উপভোগ করে নিন।” সবাই ভেবেছিল, ফুটবলবিশ্বে মেসি-অধ্যায় বুঝি ওখানেই শেষ।

​কিন্তু পুরো বিশ্বকে বোকা বানিয়ে মেসি আবারও ফিরে এসেছেন বিশ্বকাপের ফাইনালে। মাঠে প্রতিপক্ষকে ছিটকে দেওয়া এই খুদে জাদুকর মাঠের বাইরেও সবার সব হিসেব-নিকেশ ওলটপালট করে দিয়েছেন। তিনি অতীত হওয়ার বদলে এখনো ঘোরতর বর্তমান।

​আজকের ফাইনালের আগে চারদিকে আবারও সেই চেনা উন্মাদনা। রবীন্দ্রনাথ হয়তো লিওনেল মেসিকে নিয়ে গান লেখেননি, তবে আজ কোটি ফুটবল ভক্তের মনে ঠিকই গুঞ্জরিত হচ্ছে সেই সুর—‘মধুর তোমার শেষ যে না পাই…!’ আজ মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফুটবলপ্রেমীরা কি আরও একবার মেসির সেই চিরচেনা হাসিমুখ দেখতে পাবে? উত্তর দেবে সময়।

Share this news as a Photo Card