নিয়ম মেনে খেয়েও রক্তে বাড়ছে খারাপ কোলেস্টেরল? জানুন আসল কারণ ও প্রতিকার

বাহ্যিক সুস্থতা কিংবা খাবারে চরম কড়াকড়ি—কোনো কিছুই যেন কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। তেল-মসলা বা বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার পরও অনেকের রক্তে ধরা পড়ছে উচ্চমাত্রার খারাপ কোলেস্টেরল। সাম্প্রতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমীক্ষা বলছে, শুধু ডায়েট বা খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার বেশ কিছু সূক্ষ্ম ভুলই এই স্বাস্থ্যঝুঁকির মূল কারণ।

​অসচেতন জীবনযাত্রা ও কায়িক পরিশ্রমের অভাব

​আধুনিক জীবনযাত্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে কাজ করার অভ্যাস লিপোপ্রোটিন লাইপেজ নামক একটি বিশেষ এনজাইমের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে জমা হওয়া ট্রাইগ্লিসারাইড বা চর্বি সহজে ভাঙতে পারে না। নিয়মিত কায়িক পরিশ্রমের অভাবে অলক্ষ্যেই খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL) জমতে থাকে রক্তনালিতে।

​ইনসুলিন রেজিসট্যান্স ও থাইরয়েডের সমস্যা

​দেহে রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে বা ইনসুলিন রেজিসট্যান্স তৈরি হলে লিভারের পক্ষে অতিরিক্ত চর্বি অপসারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পেটে মেদ জমার পাশাপাশি ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা দ্রুত বাড়ে। এ ছাড়া থাইরয়েডের ঘাটতি বা হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলেও শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ধীরগতির হয়ে যায়, যা রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়িয়ে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

​উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক চাপ

​উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালির দেয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা চর্বি জমতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ ও অনিয়মিত ঘুমও শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট করে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: ২০ বছর বয়সের পর থেকেই রক্তের লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে পরিবারে হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করা এবং কায়িক পরিশ্রম বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নিয়ম মেনে খেয়েও রক্তে বাড়ছে খারাপ কোলেস্টেরল? জানুন আসল কারণ ও প্রতিকার

আপডেট সময় ০৬:০১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

বাহ্যিক সুস্থতা কিংবা খাবারে চরম কড়াকড়ি—কোনো কিছুই যেন কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। তেল-মসলা বা বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার পরও অনেকের রক্তে ধরা পড়ছে উচ্চমাত্রার খারাপ কোলেস্টেরল। সাম্প্রতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমীক্ষা বলছে, শুধু ডায়েট বা খাওয়াদাওয়ার অনিয়ম নয়, বরং আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার বেশ কিছু সূক্ষ্ম ভুলই এই স্বাস্থ্যঝুঁকির মূল কারণ।

​অসচেতন জীবনযাত্রা ও কায়িক পরিশ্রমের অভাব

​আধুনিক জীবনযাত্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে কাজ করার অভ্যাস লিপোপ্রোটিন লাইপেজ নামক একটি বিশেষ এনজাইমের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে রক্তে জমা হওয়া ট্রাইগ্লিসারাইড বা চর্বি সহজে ভাঙতে পারে না। নিয়মিত কায়িক পরিশ্রমের অভাবে অলক্ষ্যেই খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল (LDL) জমতে থাকে রক্তনালিতে।

​ইনসুলিন রেজিসট্যান্স ও থাইরয়েডের সমস্যা

​দেহে রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে বা ইনসুলিন রেজিসট্যান্স তৈরি হলে লিভারের পক্ষে অতিরিক্ত চর্বি অপসারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পেটে মেদ জমার পাশাপাশি ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা দ্রুত বাড়ে। এ ছাড়া থাইরয়েডের ঘাটতি বা হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলেও শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ধীরগতির হয়ে যায়, যা রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়িয়ে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

​উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক চাপ

​উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালির দেয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা চর্বি জমতে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ ও অনিয়মিত ঘুমও শরীরের হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট করে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: ২০ বছর বয়সের পর থেকেই রক্তের লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে পরিবারে হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করা এবং কায়িক পরিশ্রম বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

Share this news as a Photo Card