অ্যাভোকাডো নয়, হার্ট ও ত্বকের যত্নে সেরা টমেটো

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজকাল অ্যাভোকাডো নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। স্বাস্থ্যকর চর্বি, আঁশ, পটাশিয়াম আর ভিটামিন সি-ই-বি সমৃদ্ধ এই ফলটি খেতে অনেকেই বাড়তি দাম গুনতে রাজি। বাংলাদেশের বাজারেও আমদানি করা অ্যাভোকাডোর কদর বাড়ছে দিন দিন।
কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন একচল্লিশটি ফল ও সবজির পুষ্টিগুণ পর্যালোচনা করে যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতে অ্যাভোকাডোকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে অতি পরিচিত এক সবজি—টমেটো। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরে, প্রতিদিনের তরকারি থেকে সালাদ কিংবা ভর্তায় নিয়মিত ব্যবহৃত এই সবজিটিই নাকি পুষ্টিগুণে সবচেয়ে এগিয়ে।
আকারে-স্বাদে সবজি মনে হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানের হিসেবে টমেটো আসলে ফল, এবং কাঁচা অবস্থাতেও এটি খাওয়া যায়। ভিটামিন এ, সি ও কে-তে ভরপুর টমেটোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো লাইকোপিন নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা থেকেই এর টকটকে লাল রং আসে।
হৃদযন্ত্র সুরক্ষায়: লাইকোপিন মুক্ত মৌলের ক্ষতি থেকে কোষকে রক্ষা করে, ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে এবং উপকারী এইচডিএল বাড়াতে সহায়তা করে। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
হজমশক্তি বাড়ায়: টমেটোতে থাকা আঁশ পেট পরিষ্কার রাখতে এবং হজমপ্রক্রিয়া মসৃণ করতে সহায়ক।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ভিটামিন সি, এ এবং লাইকোপিনের সম্মিলিত প্রভাবে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত হয়, কোষের ক্ষয় রোধ হয়ে নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা মেলে।
ত্বকের উজ্জ্বলতায়: ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে—এই প্রোটিনের ঘাটতিতেই ত্বকে বলিরেখা পড়ে ও বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট হয়। নিয়মিত টমেটো খেলে ত্বক থাকে সজীব ও উজ্জ্বল।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: ক্যালরি কম অথচ পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় সালাদে টমেটো রাখলে শরীর পুষ্টি পায়, ক্যালরি বাড়ে না। এর আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সহায়তা করে।
এ ছাড়া টমেটোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় ডায়াবেটিসের রোগীরাও নিশ্চিন্তে এটি খেতে পারেন। ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, আর লাইকোপিন পরোক্ষভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।
তাই ব্যয়বহুল অ্যাভোকাডোর পেছনে না ছুটে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সহজলভ্য টমেটোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়াই হতে পারে স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনের সহজ সমাধান।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

অ্যাভোকাডো নয়, হার্ট ও ত্বকের যত্নে সেরা টমেটো

আপডেট সময় ০৫:০১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজকাল অ্যাভোকাডো নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। স্বাস্থ্যকর চর্বি, আঁশ, পটাশিয়াম আর ভিটামিন সি-ই-বি সমৃদ্ধ এই ফলটি খেতে অনেকেই বাড়তি দাম গুনতে রাজি। বাংলাদেশের বাজারেও আমদানি করা অ্যাভোকাডোর কদর বাড়ছে দিন দিন।
কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন ভিন্ন কথা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন একচল্লিশটি ফল ও সবজির পুষ্টিগুণ পর্যালোচনা করে যে তালিকা তৈরি করেছে, তাতে অ্যাভোকাডোকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে অতি পরিচিত এক সবজি—টমেটো। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রান্নাঘরে, প্রতিদিনের তরকারি থেকে সালাদ কিংবা ভর্তায় নিয়মিত ব্যবহৃত এই সবজিটিই নাকি পুষ্টিগুণে সবচেয়ে এগিয়ে।
আকারে-স্বাদে সবজি মনে হলেও উদ্ভিদবিজ্ঞানের হিসেবে টমেটো আসলে ফল, এবং কাঁচা অবস্থাতেও এটি খাওয়া যায়। ভিটামিন এ, সি ও কে-তে ভরপুর টমেটোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো লাইকোপিন নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা থেকেই এর টকটকে লাল রং আসে।
হৃদযন্ত্র সুরক্ষায়: লাইকোপিন মুক্ত মৌলের ক্ষতি থেকে কোষকে রক্ষা করে, ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে এবং উপকারী এইচডিএল বাড়াতে সহায়তা করে। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
হজমশক্তি বাড়ায়: টমেটোতে থাকা আঁশ পেট পরিষ্কার রাখতে এবং হজমপ্রক্রিয়া মসৃণ করতে সহায়ক।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: ভিটামিন সি, এ এবং লাইকোপিনের সম্মিলিত প্রভাবে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত হয়, কোষের ক্ষয় রোধ হয়ে নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা মেলে।
ত্বকের উজ্জ্বলতায়: ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে—এই প্রোটিনের ঘাটতিতেই ত্বকে বলিরেখা পড়ে ও বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট হয়। নিয়মিত টমেটো খেলে ত্বক থাকে সজীব ও উজ্জ্বল।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: ক্যালরি কম অথচ পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় সালাদে টমেটো রাখলে শরীর পুষ্টি পায়, ক্যালরি বাড়ে না। এর আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতেও সহায়তা করে।
এ ছাড়া টমেটোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় ডায়াবেটিসের রোগীরাও নিশ্চিন্তে এটি খেতে পারেন। ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে, আর লাইকোপিন পরোক্ষভাবে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে বলে জানাচ্ছেন গবেষকরা।
তাই ব্যয়বহুল অ্যাভোকাডোর পেছনে না ছুটে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সহজলভ্য টমেটোকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়াই হতে পারে স্বাস্থ্যসচেতন জীবনযাপনের সহজ সমাধান।

Share this news as a Photo Card