দীর্ঘ পঁয়ত্রিশ বছর পর দেশের রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। বক্তব্য শুরুর মুহূর্তেই সাময়িক মাইক বিভ্রাটের মুখে পড়েন প্রধান নির্বাচন কমিশনার তথা নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠার পর তিনি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন এবং সংসদ সদস্যদের সামনে ভোটগ্রহণের নিয়মাবলী তুলে ধরেন।
এরপর নির্বাচনি সহায়ক কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের আসনে আসনে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেন। প্রত্যেক সদস্য নিজ আসনে বসেই পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটে ভোট প্রদান করেন। ভিড় এড়াতে ধাপে ধাপে ব্যালট বিতরণ করা হয়, আর তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হয় কেন্দ্রে।
প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তাঁর পর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সরকারদলীয় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোট দেন।
এবারের নির্বাচনে মুখোমুখি লড়ছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্যের ভোটাধিকার থাকলেও অসুস্থতাজনিত কারণে ভোট দিতে পারছেন না বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে আছেন খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সঙ্গে রয়েছেন নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভোটগ্রহণের সূচনালগ্নের প্রথম বিশ মিনিট সরাসরি সম্প্রচারে দেখানো হয় প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভোটদানের দৃশ্য।
বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পর প্রকাশ্যে খোলা হবে ব্যালট বাক্স। ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজেই।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবরের পর রাষ্ট্রপতি পদে আর কোনো ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়েনি। একাধিক প্রার্থী না থাকায় ১৯৯৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একাধিক নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে সাড়ে তিন দশক পর সংসদ সদস্যদের ব্যালটের মাধ্যমে আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাক্ষী হচ্ছে জাতি।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠেছে— শেষ পর্যন্ত দুই প্রার্থী কে কত ভোট পান।
নির্বাচনে জয়ী প্রার্থী আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















