শুধু মদ নয়, নিয়মিত ওষুধেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লিভার

লিভারের সমস্যার কথা উঠলে সাধারণত মদ্যপান বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কথাই মাথায় আসে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ব্যবহৃত অনেক ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টও নীরবে লিভারের ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি’ বা সংক্ষেপে ডিআইএল (DILI)।
বাংলাদেশে ফার্মেসি থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ কেনার প্রবণতা দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। জ্বর, সর্দি-কাশি বা শরীরে ব্যথা হলে অনেকেই নিজের বিচার-বুদ্ধিতে ওষুধ খেয়ে থাকেন, যা রোগের প্রকৃত কারণ যাচাই না করেই শুরু হয়। এতে ভুল ওষুধ প্রয়োগ, অতিরিক্ত মাত্রা বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ঝুঁকি বেড়ে যায়—আর এসবই লিভারের ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কী ভাবে ক্ষতি হয়
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওষুধজনিত লিভারের ক্ষতি মূলত দুই ধরনের হতে পারে। প্রথমটি হলো সরাসরি মাত্রা-নির্ভর ক্ষতি, যেখানে অতিরিক্ত ডোজ বা ভুল সময়ে ওষুধ সেবনের কারণে লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বিতীয়টি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে—একই ওষুধ একজনের জন্য নিরাপদ হলেও অন্যজনের ক্ষেত্রে জিনগত কারণে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া ওষুধ বা ভেষজ সাপ্লিমেন্ট সেবন করলে এই দ্বিতীয় ধরনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
কোন ওষুধে ঝুঁকি বেশি
চিকিৎসকরা কয়েকটি ওষুধের শ্রেণিকে বিশেষভাবে সতর্কতার আওতায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। জ্বর নিরাময়ে ব্যবহৃত সাধারণ ওষুধ দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় সেবন করলে লিভারে চাপ পড়তে পারে। কান-নাক-গলার সংক্রমণ বা যক্ষ্মার চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবায়োটিকও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করলে ক্ষতিকর হতে পারে।
ব্যথানাশক ওষুধের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রদাহনাশক এই শ্রেণির ওষুধ দীর্ঘদিন একটানা সেবন করলে লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এ ছাড়া ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কেমোথেরাপির কিছু ওষুধও লিভারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, যেগুলো একান্তই চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ভেষজ বা প্রাকৃতিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রবণতাও বাড়ছে, যা অনেকেই নিরাপদ মনে করেন। তবে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা হলো, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব সাপ্লিমেন্ট সেবনের ফলেও ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সতর্কতাই সমাধান
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যেকোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নির্দিষ্ট মাত্রা ও সময়সীমা মেনে চলা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত লিভার পরীক্ষা করানো ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। সচেতনতাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

২২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

শুধু মদ নয়, নিয়মিত ওষুধেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লিভার

আপডেট সময় ০১:০৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

লিভারের সমস্যার কথা উঠলে সাধারণত মদ্যপান বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কথাই মাথায় আসে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ব্যবহৃত অনেক ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টও নীরবে লিভারের ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ড্রাগ-ইনডিউসড লিভার ইনজুরি’ বা সংক্ষেপে ডিআইএল (DILI)।
বাংলাদেশে ফার্মেসি থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ কেনার প্রবণতা দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। জ্বর, সর্দি-কাশি বা শরীরে ব্যথা হলে অনেকেই নিজের বিচার-বুদ্ধিতে ওষুধ খেয়ে থাকেন, যা রোগের প্রকৃত কারণ যাচাই না করেই শুরু হয়। এতে ভুল ওষুধ প্রয়োগ, অতিরিক্ত মাত্রা বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ঝুঁকি বেড়ে যায়—আর এসবই লিভারের ক্ষতির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কী ভাবে ক্ষতি হয়
চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওষুধজনিত লিভারের ক্ষতি মূলত দুই ধরনের হতে পারে। প্রথমটি হলো সরাসরি মাত্রা-নির্ভর ক্ষতি, যেখানে অতিরিক্ত ডোজ বা ভুল সময়ে ওষুধ সেবনের কারণে লিভারের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বিতীয়টি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে—একই ওষুধ একজনের জন্য নিরাপদ হলেও অন্যজনের ক্ষেত্রে জিনগত কারণে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া ওষুধ বা ভেষজ সাপ্লিমেন্ট সেবন করলে এই দ্বিতীয় ধরনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
কোন ওষুধে ঝুঁকি বেশি
চিকিৎসকরা কয়েকটি ওষুধের শ্রেণিকে বিশেষভাবে সতর্কতার আওতায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। জ্বর নিরাময়ে ব্যবহৃত সাধারণ ওষুধ দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় সেবন করলে লিভারে চাপ পড়তে পারে। কান-নাক-গলার সংক্রমণ বা যক্ষ্মার চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবায়োটিকও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করলে ক্ষতিকর হতে পারে।
ব্যথানাশক ওষুধের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রদাহনাশক এই শ্রেণির ওষুধ দীর্ঘদিন একটানা সেবন করলে লিভারের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। এ ছাড়া ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কেমোথেরাপির কিছু ওষুধও লিভারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, যেগুলো একান্তই চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে ব্যবহার করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ভেষজ বা প্রাকৃতিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের প্রবণতাও বাড়ছে, যা অনেকেই নিরাপদ মনে করেন। তবে চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা হলো, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব সাপ্লিমেন্ট সেবনের ফলেও ফ্যাটি লিভার বা লিভার সিরোসিসের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সতর্কতাই সমাধান
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যেকোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নির্দিষ্ট মাত্রা ও সময়সীমা মেনে চলা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মিত লিভার পরীক্ষা করানো ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। সচেতনতাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ।

Share this news as a Photo Card