শিশু কি একদিকে হেলে হাঁটে? মেরুদণ্ড বাঁকা হওয়ার লক্ষণ চিনুন

শিশুর বেড়ে ওঠার সময়ে হাড়ের গঠনে কিছু কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে, যা শুরুতে বাবা-মায়ের চোখ এড়িয়ে যায়। এমনই একটি সমস্যার নাম স্কোলিওসিস, যেখানে মেরুদণ্ড সোজা না থেকে ডানে বা বাঁয়ে খানিকটা বেঁকে যায়। ফলে হাঁটাচলার সময়ে শরীর একদিকে হেলে পড়তে দেখা যায়। বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও এই সমস্যা বিরল নয় বলে জানাচ্ছেন অর্থোপেডিক চিকিৎসকরা। তাই শিশু হাঁটার সময়ে কোনো একদিকে ঝুঁকে থাকলে বা বসার সময়ে বেশি নুয়ে পড়লে, তা অবহেলা না করে সতর্ক হওয়া জরুরি।
কেন হয় এই সমস্যা
স্কোলিওসিসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে চিকিৎসকদের মতে, পরিবারে কারও অটোইমিউন রোগের ইতিহাস থাকলে বা আগে কোনো সন্তানের এই সমস্যা হয়ে থাকলে, পরের প্রজন্মেও তা হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে জিনগত সম্পর্কও পাওয়া গেছে। হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা হাড়ে টিউমার হলেও এই ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্কোলিওসিসের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। জন্মগত ধরনটিতে গর্ভাবস্থাতেই ভ্রূণের মেরুদণ্ডের হাড় ঠিকমতো গঠিত হয় না, ফলে জন্মের পর থেকেই তা বাঁকা হয়ে বাড়তে থাকে। আবার সাধারণত দশ বছর বয়সের পর দেখা দেয় ইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিস, যেখানে হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে পিঠের একপাশ উঁচু হয়ে যায়। এ ছাড়া সেরিব্রাল পালসি বা মাসকুলার ডিসট্রফির মতো স্নায়বিক রোগ থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে নিউরোমাস্কুলার স্কোলিওসিস।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
শুরুর দিকে এই সমস্যা বোঝা কঠিন। তবে কিছু লক্ষণ দেখে বাবা-মায়েরা আগেভাগে সতর্ক হতে পারেন। যেমন—
শিশুর শরীর সবসময় একদিকে হেলে থাকা
বসার সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নুয়ে পড়া
পিঠ বা কোমরের একপাশের হাড় বাইরে থেকেও উঁচু মনে হওয়া
বসতে বা শুতে গিয়ে অস্বস্তি হওয়া
দুই কাঁধের উচ্চতায় স্পষ্ট পার্থক্য থাকা—একদিক উঁচু, অন্যদিক নিচু
নিতম্বের গঠনেও অসামঞ্জস্য দেখা যাওয়া
সময়মতো চিকিৎসা না করালে মেরুদণ্ডের বক্রতা আরও বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে পাঁজরের হাড়েও। এতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে যার চাপ পড়ে হৃদযন্ত্রের ওপরও। এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমেই সাধারণত স্কোলিওসিস শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে বিশেষ বেল্ট পরিয়ে চিকিৎসা করা হয়, আর বক্রতা বেশি হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হতে পারে।
বাংলাদেশের শিশু-অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্কুলে শারীরিক ভঙ্গি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা সম্ভব, যা পরবর্তী জটিলতা এড়াতে সাহায্য করে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

২২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

শিশু কি একদিকে হেলে হাঁটে? মেরুদণ্ড বাঁকা হওয়ার লক্ষণ চিনুন

আপডেট সময় ০৪:৫১:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

শিশুর বেড়ে ওঠার সময়ে হাড়ের গঠনে কিছু কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে, যা শুরুতে বাবা-মায়ের চোখ এড়িয়ে যায়। এমনই একটি সমস্যার নাম স্কোলিওসিস, যেখানে মেরুদণ্ড সোজা না থেকে ডানে বা বাঁয়ে খানিকটা বেঁকে যায়। ফলে হাঁটাচলার সময়ে শরীর একদিকে হেলে পড়তে দেখা যায়। বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও এই সমস্যা বিরল নয় বলে জানাচ্ছেন অর্থোপেডিক চিকিৎসকরা। তাই শিশু হাঁটার সময়ে কোনো একদিকে ঝুঁকে থাকলে বা বসার সময়ে বেশি নুয়ে পড়লে, তা অবহেলা না করে সতর্ক হওয়া জরুরি।
কেন হয় এই সমস্যা
স্কোলিওসিসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে চিকিৎসকদের মতে, পরিবারে কারও অটোইমিউন রোগের ইতিহাস থাকলে বা আগে কোনো সন্তানের এই সমস্যা হয়ে থাকলে, পরের প্রজন্মেও তা হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে জিনগত সম্পর্কও পাওয়া গেছে। হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা হাড়ে টিউমার হলেও এই ঝুঁকি বাড়তে পারে।
স্কোলিওসিসের বিভিন্ন ধরন রয়েছে। জন্মগত ধরনটিতে গর্ভাবস্থাতেই ভ্রূণের মেরুদণ্ডের হাড় ঠিকমতো গঠিত হয় না, ফলে জন্মের পর থেকেই তা বাঁকা হয়ে বাড়তে থাকে। আবার সাধারণত দশ বছর বয়সের পর দেখা দেয় ইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিস, যেখানে হাড়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে পিঠের একপাশ উঁচু হয়ে যায়। এ ছাড়া সেরিব্রাল পালসি বা মাসকুলার ডিসট্রফির মতো স্নায়বিক রোগ থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে নিউরোমাস্কুলার স্কোলিওসিস।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
শুরুর দিকে এই সমস্যা বোঝা কঠিন। তবে কিছু লক্ষণ দেখে বাবা-মায়েরা আগেভাগে সতর্ক হতে পারেন। যেমন—
শিশুর শরীর সবসময় একদিকে হেলে থাকা
বসার সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি নুয়ে পড়া
পিঠ বা কোমরের একপাশের হাড় বাইরে থেকেও উঁচু মনে হওয়া
বসতে বা শুতে গিয়ে অস্বস্তি হওয়া
দুই কাঁধের উচ্চতায় স্পষ্ট পার্থক্য থাকা—একদিক উঁচু, অন্যদিক নিচু
নিতম্বের গঠনেও অসামঞ্জস্য দেখা যাওয়া
সময়মতো চিকিৎসা না করালে মেরুদণ্ডের বক্রতা আরও বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে পাঁজরের হাড়েও। এতে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে যার চাপ পড়ে হৃদযন্ত্রের ওপরও। এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমেই সাধারণত স্কোলিওসিস শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে বিশেষ বেল্ট পরিয়ে চিকিৎসা করা হয়, আর বক্রতা বেশি হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হতে পারে।
বাংলাদেশের শিশু-অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও স্কুলে শারীরিক ভঙ্গি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা সম্ভব, যা পরবর্তী জটিলতা এড়াতে সাহায্য করে।

Share this news as a Photo Card