শিরোনাম :
আবুধাবিতে জয় থেকে ৭ উইকেট দূরে বাংলাদেশ, ড্রয়ের আশায় আফগানরা ‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ অপবাদ দিয়ে গৃহবধূর চুল কাটা, যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রা, নয়াদিল্লিতে হাজারো মানুষের ঢল ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, চলতি বছর প্রাণহানি ৩০৭ জান্নাতুন হত্যা: ফরেনসিক পরীক্ষায় যাচ্ছে সোয়াব মন্দা ও মূল্যস্ফীতির সময় নীতি প্রবর্তনে নোবেল জিতলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তা (অব:) গ্রেপ্তার ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক পরিচয়েই অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকায় নামাতে সরকারকে আইনি নোটিশ

গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার দাবিতে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সরকারি সংস্থার ছয়জন কর্মকর্তাকে প্রাপক করা হয়েছে। দাম কমানোর লক্ষ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত হালাল প্যাকেটজাত মাংস আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাওয়া হয়েছে আমদানি শুল্কের যৌক্তিকীকরণ।

বর্তমান বাজারদর নিয়ে নোটিশের বক্তব্য

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে এখন প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এই দামের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শিশুদের পুষ্টি এবং প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

আমদানির পক্ষে যুক্তি

দাবির সপক্ষে নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’-এর কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, যে দেশ কম খরচে কোনো পণ্য উৎপাদন করতে পারে, সেখান থেকে আমদানি করলে ক্রেতারা কম দামে পণ্যটি পেতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। নোটিশের ভাষ্য, বিদেশ থেকে কম খরচে গরুর মাংস আনার সুযোগ থাকলে দেশের বাজারেও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

দেশে মাংস উৎপাদনের খরচ কেন বেশি, সে বিষয়েও নোটিশে ব্যাখ্যা আছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চারণভূমি কম, পশুখাদ্যের দাম চড়া এবং গবাদিপশু পালনেও খরচ বেশি। বিপরীতে বিশ্বের কয়েকটি দেশে বিস্তীর্ণ চারণভূমি আছে এবং বড় পরিসরে পশু পালনের সুযোগ রয়েছে। ফলে সেসব দেশে তুলনামূলক কম খরচে মাংস উৎপাদন সম্ভব বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ভিত্তি

নোটিশে সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে খাদ্য, পুষ্টি ও জীবনধারণের অধিকারের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, পুষ্টির মান উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

নোটিশে সরকারকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আমদানি শুল্কের যৌক্তিকীকরণ এবং গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকার মধ্যে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

আবুধাবিতে জয় থেকে ৭ উইকেট দূরে বাংলাদেশ, ড্রয়ের আশায় আফগানরা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক পরিচয়েই অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

১২ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকায় নামাতে সরকারকে আইনি নোটিশ

আপডেট সময় ০৬:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার দাবিতে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সরকারি সংস্থার ছয়জন কর্মকর্তাকে প্রাপক করা হয়েছে। দাম কমানোর লক্ষ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত হালাল প্যাকেটজাত মাংস আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাওয়া হয়েছে আমদানি শুল্কের যৌক্তিকীকরণ।

বর্তমান বাজারদর নিয়ে নোটিশের বক্তব্য

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে এখন প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এই দামের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শিশুদের পুষ্টি এবং প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

আমদানির পক্ষে যুক্তি

দাবির সপক্ষে নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’-এর কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, যে দেশ কম খরচে কোনো পণ্য উৎপাদন করতে পারে, সেখান থেকে আমদানি করলে ক্রেতারা কম দামে পণ্যটি পেতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। নোটিশের ভাষ্য, বিদেশ থেকে কম খরচে গরুর মাংস আনার সুযোগ থাকলে দেশের বাজারেও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

দেশে মাংস উৎপাদনের খরচ কেন বেশি, সে বিষয়েও নোটিশে ব্যাখ্যা আছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চারণভূমি কম, পশুখাদ্যের দাম চড়া এবং গবাদিপশু পালনেও খরচ বেশি। বিপরীতে বিশ্বের কয়েকটি দেশে বিস্তীর্ণ চারণভূমি আছে এবং বড় পরিসরে পশু পালনের সুযোগ রয়েছে। ফলে সেসব দেশে তুলনামূলক কম খরচে মাংস উৎপাদন সম্ভব বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ভিত্তি

নোটিশে সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে খাদ্য, পুষ্টি ও জীবনধারণের অধিকারের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, পুষ্টির মান উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

নোটিশে সরকারকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আমদানি শুল্কের যৌক্তিকীকরণ এবং গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকার মধ্যে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card