শিরোনাম :
পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ কে এই খাইরুল দেওয়ান ? শুক্রবার সারা ভারতে জুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির ভেনিস উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও বিতর্কের জেরে জামাত নেতা গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, ইসি-স্পিকারকে চিঠি শাহজাদপুরে ১৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে ঝুঁকিতে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, যেভাবে সতর্ক হবেন

স্মার্টফোন ব্রেন’: অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে ঝুঁকিতে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, যেভাবে সতর্ক হবেন

বর্তমানে তরুণ ও শিশুদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছে স্মার্টফোনের পর্দায়। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কেবল চোখের ক্ষতিই করছে না, বরং মস্তিষ্কের গঠনে আনছে বিপজ্জনক পরিবর্তন। নিউরোলজিস্টদের ভাষায় এই উদীয়মান সমস্যাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্মার্টফোন ব্রেন’।

​সম্প্রতি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের কারণে শিশুদের মস্তিষ্কের স্মৃতিনির্ভর অংশ ‘হিপ্পোক্যাম্পাস’ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অংশ ‘প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

​বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই ছবিটা বেশ উদ্বেগজনক। ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অতিরিক্ত গেম খেলাপটুতা এবং সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির কারণে শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

​লক্ষণগুলো কী কী?

​চিকিৎসকদের মতে, ‘স্মার্টফোন ব্রেন’-এ আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ দেখা দেয়:

  • ঘন ঘন মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা: একটানা স্ক্রিনের নীল আলোর (Blue Light) কারণে শিশুদের চোখে চাপের পাশাপাশি শুরু হয় তীব্র মাথাব্যথা।
  • মনোযোগের ঘাটতি ও সিদ্ধান্তহীনতা: দ্রুত স্ক্রলিং ও বারংবার নোটিফিকেশন পাওয়ার ফলে মস্তিষ্ক দীর্ঘক্ষণ কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।
  • স্মৃতিভ্রম ও ‘ব্রেন ফগ’: মস্তিষ্কের প্রসেসিং ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিষয়বস্তু ভুলে যাওয়া বা চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
  • অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা: রাতের বেলা স্ক্রিনের নীল আলো মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্ল্যান্ড থেকে ‘মেলাটোনিন’ নামক ঘুম উৎপন্নকারী হরমোন ক্ষরণে বাধা দেয়। ফলে শিশুরা রাতে সময়মতো ঘুমাতে পারে না।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এবং গুগল-নির্ভরতা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ছোটদের নিজস্ব সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

​অভিভাবকেরা যা করতে পারেন

​বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান যুগে সন্তানদের প্রযুক্তি থেকে একদম বিচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব নয়, তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব:

​১. একটানা ব্যবহার বন্ধ করা: ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে একটানা ফোন দেখতে দেবেন না।

২. খাবার ও ঘুমানোর টেবিল মুক্ত রাখা: খাওয়ার সময় এবং রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৩. স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ: সারাদিনে ফোন ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিন এবং বাইরের খেলাধুলায় উৎসাহিত করুন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে ঝুঁকিতে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, যেভাবে সতর্ক হবেন

আপডেট সময় ০৬:৫৩:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

স্মার্টফোন ব্রেন’: অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে ঝুঁকিতে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, যেভাবে সতর্ক হবেন

বর্তমানে তরুণ ও শিশুদের একটি বড় অংশ প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছে স্মার্টফোনের পর্দায়। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কেবল চোখের ক্ষতিই করছে না, বরং মস্তিষ্কের গঠনে আনছে বিপজ্জনক পরিবর্তন। নিউরোলজিস্টদের ভাষায় এই উদীয়মান সমস্যাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্মার্টফোন ব্রেন’।

​সম্প্রতি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের কারণে শিশুদের মস্তিষ্কের স্মৃতিনির্ভর অংশ ‘হিপ্পোক্যাম্পাস’ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অংশ ‘প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।

​বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এই ছবিটা বেশ উদ্বেগজনক। ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অতিরিক্ত গেম খেলাপটুতা এবং সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির কারণে শারীরিক ও মানসিক নানা জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

​লক্ষণগুলো কী কী?

​চিকিৎসকদের মতে, ‘স্মার্টফোন ব্রেন’-এ আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ দেখা দেয়:

  • ঘন ঘন মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা: একটানা স্ক্রিনের নীল আলোর (Blue Light) কারণে শিশুদের চোখে চাপের পাশাপাশি শুরু হয় তীব্র মাথাব্যথা।
  • মনোযোগের ঘাটতি ও সিদ্ধান্তহীনতা: দ্রুত স্ক্রলিং ও বারংবার নোটিফিকেশন পাওয়ার ফলে মস্তিষ্ক দীর্ঘক্ষণ কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।
  • স্মৃতিভ্রম ও ‘ব্রেন ফগ’: মস্তিষ্কের প্রসেসিং ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিষয়বস্তু ভুলে যাওয়া বা চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
  • অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা: রাতের বেলা স্ক্রিনের নীল আলো মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্ল্যান্ড থেকে ‘মেলাটোনিন’ নামক ঘুম উৎপন্নকারী হরমোন ক্ষরণে বাধা দেয়। ফলে শিশুরা রাতে সময়মতো ঘুমাতে পারে না।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই এবং গুগল-নির্ভরতা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ছোটদের নিজস্ব সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতাও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

​অভিভাবকেরা যা করতে পারেন

​বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান যুগে সন্তানদের প্রযুক্তি থেকে একদম বিচ্ছিন্ন রাখা সম্ভব নয়, তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব:

​১. একটানা ব্যবহার বন্ধ করা: ২০ মিনিটের বেশি সময় ধরে একটানা ফোন দেখতে দেবেন না।

২. খাবার ও ঘুমানোর টেবিল মুক্ত রাখা: খাওয়ার সময় এবং রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে ফোন দূরে রাখার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৩. স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ: সারাদিনে ফোন ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিন এবং বাইরের খেলাধুলায় উৎসাহিত করুন।

Share this news as a Photo Card