চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম খাচ্ছেন? ডেকে আনছেন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি!

পাইলট ছাড়াই বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম খাচ্ছেন? অজান্তেই বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

​আজকাল একটু বয়স হলেই কিংবা হাঁটু-কোমরে ব্যথা দেখা দিলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজেই ক্যালসিয়ামের বড়ি খাওয়া শুরু করেন। কিন্তু হাড় শক্ত করতে গিয়ে আপনি নিজের অজান্তেই হৃদযন্ত্রের বড় ক্ষতি করছেন না তো? চিকিৎসকেরা বলছেন, অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে রক্তনালিতে ক্যালসিয়াম জমে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীরের মোট ক্যালসিয়ামের ৯৯ শতাংশ থাকে হাড় এবং দাঁতে। মাত্র ১ শতাংশ থাকে রক্তে, যা হৃদস্পন্দন সচল রাখা, স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান এবং পেশির সংকোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তা থেকে শরীর খুব ধীরগতিতে ক্যালসিয়াম শোষণ করে। কিন্তু যখনই আলাদাভাবে সাপ্লিমেন্ট বা বড়ি খাওয়া হয়, তখন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়।

​রক্তে বারবার এভাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকলে তা ধমনী বা রক্তনালির দেওয়ালে জমতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ভাসকুলার ক্যালসিফিকেশন’। এর ফলে রক্তনালি শক্ত ও সরু হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

​বাংলাদেশি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে নিজে নিজে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট কেনার প্রবণতা অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবয়সী নারীরা অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ভয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ক্যালসিয়াম সেবন করেন। তবে শুধু হৃদরোগী নয়— ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকিও বাড়ায়।

​সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১,০০০ থেকে ১,২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই চাহিদা মেটানোর সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো প্রাকৃতিক খাদ্যতালিকা। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, টকদই, ছানা, ছোট মাছ (যেমন মলা, ঢেলা), সবুজ শাকসবজি ও বাদাম রাখলে সহজেই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। তাই গাঁটে গাঁটে ব্যথা হলেই ফার্মেসি থেকে ক্যালসিয়ামের বড়ি কিনে খাওয়া বন্ধ করতে হবে। যেকোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম খাচ্ছেন? ডেকে আনছেন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি!

আপডেট সময় ০৩:৩৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

পাইলট ছাড়াই বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম খাচ্ছেন? অজান্তেই বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

​আজকাল একটু বয়স হলেই কিংবা হাঁটু-কোমরে ব্যথা দেখা দিলে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজেই ক্যালসিয়ামের বড়ি খাওয়া শুরু করেন। কিন্তু হাড় শক্ত করতে গিয়ে আপনি নিজের অজান্তেই হৃদযন্ত্রের বড় ক্ষতি করছেন না তো? চিকিৎসকেরা বলছেন, অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ফলে রক্তনালিতে ক্যালসিয়াম জমে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের শরীরের মোট ক্যালসিয়ামের ৯৯ শতাংশ থাকে হাড় এবং দাঁতে। মাত্র ১ শতাংশ থাকে রক্তে, যা হৃদস্পন্দন সচল রাখা, স্নায়ুর সংকেত আদান-প্রদান এবং পেশির সংকোচন-প্রসারণ নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, তা থেকে শরীর খুব ধীরগতিতে ক্যালসিয়াম শোষণ করে। কিন্তু যখনই আলাদাভাবে সাপ্লিমেন্ট বা বড়ি খাওয়া হয়, তখন রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়।

​রক্তে বারবার এভাবে ক্যালসিয়ামের মাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকলে তা ধমনী বা রক্তনালির দেওয়ালে জমতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ভাসকুলার ক্যালসিফিকেশন’। এর ফলে রক্তনালি শক্ত ও সরু হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

​বাংলাদেশি হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে নিজে নিজে ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট কেনার প্রবণতা অনেক বেশি। বিশেষ করে মধ্যবয়সী নারীরা অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ভয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ক্যালসিয়াম সেবন করেন। তবে শুধু হৃদরোগী নয়— ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম কিডনিতে পাথর তৈরির ঝুঁকিও বাড়ায়।

​সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১,০০০ থেকে ১,২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকদের মতে, এই চাহিদা মেটানোর সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো প্রাকৃতিক খাদ্যতালিকা। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় দুধ, টকদই, ছানা, ছোট মাছ (যেমন মলা, ঢেলা), সবুজ শাকসবজি ও বাদাম রাখলে সহজেই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। তাই গাঁটে গাঁটে ব্যথা হলেই ফার্মেসি থেকে ক্যালসিয়ামের বড়ি কিনে খাওয়া বন্ধ করতে হবে। যেকোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি।

Share this news as a Photo Card