রোগা হলেও হতে পারে ফ্যাটি লিভার, যেসব লক্ষণ ও ঝুঁকি জানা জরুরি

বাংলাদেশে ফ্যাটি লিভার রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। অনেকের ধারণা, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলেই কেবল এ রোগ হয়। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ওজন স্বাভাবিক বা কম হলেও লিভারে চর্বি জমতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে ‘লিন ফ্যাটি লিভার’ বা Lean MASLD বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শরীরের ওজন দেখে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বিচার করা ঠিক নয়। জিনগত কারণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স—এসব কারণেও রোগা মানুষের লিভারে চর্বি জমতে পারে। আবার দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবন, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলেও ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বাংলাদেশের হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে দুর্বল লাগা, ডান পাশের ওপরের পেটে অস্বস্তি, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া বা লিভারের এনজাইম বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়া, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকাও জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, ৪০ বছরের পর বছরে অন্তত একবার লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT) এবং প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাম করানো ভালো, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা পারিবারিকভাবে লিভারের রোগের ইতিহাস রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, রোগা হওয়া মানেই সুস্থ থাকা নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু ওজন নয়, সামগ্রিক জীবনযাত্রার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রোগা হলেও হতে পারে ফ্যাটি লিভার, যেসব লক্ষণ ও ঝুঁকি জানা জরুরি

আপডেট সময় ০২:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে ফ্যাটি লিভার রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। অনেকের ধারণা, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলেই কেবল এ রোগ হয়। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ওজন স্বাভাবিক বা কম হলেও লিভারে চর্বি জমতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে ‘লিন ফ্যাটি লিভার’ বা Lean MASLD বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শরীরের ওজন দেখে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বিচার করা ঠিক নয়। জিনগত কারণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স—এসব কারণেও রোগা মানুষের লিভারে চর্বি জমতে পারে। আবার দীর্ঘদিন স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ সেবন, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলেও ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বাংলাদেশের হেপাটোলজি বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, ফ্যাটি লিভারের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে দুর্বল লাগা, ডান পাশের ওপরের পেটে অস্বস্তি, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া বা লিভারের এনজাইম বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০–৪৫ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার কম খাওয়া, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকাও জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, ৪০ বছরের পর বছরে অন্তত একবার লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT) এবং প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাম করানো ভালো, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল বা পারিবারিকভাবে লিভারের রোগের ইতিহাস রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, রোগা হওয়া মানেই সুস্থ থাকা নয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শুধু ওজন নয়, সামগ্রিক জীবনযাত্রার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

Share this news as a Photo Card