আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে গত কয়েক দিনের অস্থিরতার ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। আগের সেশনে প্রায় ৫ সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থানে নামার পর আজ মঙ্গলবার (৫ মে) স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে স্বর্ণের এই দাম বাড়ার গতি কিছুটা সীমিত রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৩ দশমিক ৩৩ ডলারে লেনদেন হতে দেখা গেছে। গতকাল সোমবার এক দিনেই সোনার দাম ২ শতাংশেরও বেশি কমে গিয়েছিল, যা ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় পতন। অন্যদিকে, আগামী জুন মাসে সরবরাহ করা হবে এমন গোল্ড ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫৩ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই অস্থিরতা?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক মাস ধরেই সোনার বাজারে ‘ওয়ার ট্রেড‘ বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গতকাল লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বড় ধরনের দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা আজ কিছুটা সতর্ক অবস্থানে আছেন।
জ্বালানি তেলের প্রভাব : হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নাটকীয়ভাবে বাড়ছে। তেলের এই দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়, যার ফলে মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ড এবং ডলারের মানও শক্তিশালী হচ্ছে।
সুদের হার ও ডলারের মান : ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য সোনা কেনা দামি হয়ে পড়েছে। এছাড়া উচ্চ সুদের হারের কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার আবেদন কিছুটা কমে গেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা এখন বন্ডের মতো সম্পদ থেকে বেশি মুনাফা পাচ্ছেন।
চলতি বছরের শুরুতে সোনার দাম আউন্স প্রতি ৫ হাজার ৫৮৯ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছালেও বর্তমানে তা ৪ হাজার ৫০০ ডলারের ঘরে ওঠানামা করছে। জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, যদি ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত না হয় তবে বছরের শেষ দিকে সোনার দাম আবারও ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আপাতত বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। স্বর্ণের বর্তমান দামকে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য একটি সুযোগ হিসেবেও দেখছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 




















