ঢাকা শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে ১ উইকেটের এক রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের দেওয়া ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন অ্যাডাম জাম্পা। তবে এই হারেও তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
ম্যাচের শেষভাগে মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের ভাগ্য যেভাবে দুই দলের দিকেই দুলছিল, তা মিরপুরের দর্শকদের শেষ বল পর্যন্ত গ্যালারিতে ধরে রাখে। জয়ের জন্য শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩ রান, আর বাংলাদেশের দরকার ছিল ১টি উইকেট।
তাসকিন আহমেদের করা ওভারের প্রথম বলে ১ রান নিয়ে সিডনি মেরেডিথ স্ট্রাইক দেন জাম্পাকে। দ্বিতীয় বলটি ডট হলেও তৃতীয় বলে চার মেরে অস্ট্রেলিয়া শিবিরে স্বস্তির জয় এনে দেন এই লেগ স্পিনার। এর আগে ওপেনার কুপার কনোলির ১৪৯ রানের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের ভিত্তিমূল গড়ে দেয়।
টস জয় ও বাংলাদেশের ইনিংসের মিশ্র শুরু
আজকের ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাথায় আঘাত পাওয়ার কারণে একাদশের বাইরে ছিলেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সকালে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ।
তবে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ব্যক্তিগত ২ রানে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। এরপর তানজিদ হাসান তামিম (১৯) এবং ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন (২৪) প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও থিতু হতে পারেননি। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে একপর্যায়ে বেশ চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
হৃদয়, লিটন ও মোসাদ্দেকের ব্যাটে লড়াকু পুঁজি
চতুর্থ উইকেটে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব নেন তাওহিদ হৃদয় ও লিটন দাস। এই দুজনের ব্যাটে চড়ে শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তবে দলীয় সংগ্রহ যখন দেড়শর কাছাকাছি, তখন পায়ের পেশির টানে (ক্র্যাম্প) ৪৮ রান করে ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন লিটন।
লিটনের বিদায়ের পর চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয়। হৃদয় খেলেন ৮৮ বলে ৮৩ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস। তিনি আউট হওয়ার পর মাঠে ফিরে নিজের অর্ধশতক তুলে নেন লিটন দাস। অন্যপ্রান্তে মোসাদ্দেক হোসেনও এই সিরিজে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি (৫৩) তুলে নেন। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২৭৪ রান।
কুপার কনোলির সেঞ্চুরি ও শরিফুলের বিধ্বংসী স্পেল
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। জশ ইংলিশের ২১ এবং ম্যাট রেনশর বিদায়ের পর এক প্রান্ত আগলে রেখে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন ওপেনার কুপার কনোলি। মার্নাস লাবুশেন ও ক্যামেরন গ্রিনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন।
তবে ম্যাচে আসল নাটকের শুরু হয় ইনিংসের শেষ দিকে। বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলাম নিজের দ্বিতীয় স্পেলে এসে একের পর এক আঘাত হানেন অস্ট্রেলিয়া শিবিরে। ৪টি ওয়ানডে উইকেট শিকারের পর শেষ দিকে এক ওভারে জোড়া আঘাত হেনে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তিনি। ১০ ওভারে ৪৮ রান খরচায় ৬টি উইকেট শিকার করেন শরিফুল, যা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা এবং ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পঞ্চম সেরা বোলিং ফিফগার।
শেষ ওভারের রোমাঞ্চ ও হাতছাড়া হওয়া সুযোগ
ইনিংসের শেষ দিকে মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল বাংলাদেশ, ঠিক তখনই কিছু ভুলের খেসারত দিতে হয় স্বাগতিকদের। ম্যাচের ৪৮তম ওভারে শরিফুলের বলে গালিতে অ্যাডাম জাম্পার একটি সহজ ক্যাচ লুফে নিতে ব্যর্থ হন তানজিদ হাসান তামিম।
এর ঠিক পরের ওভারেই কুপার কনোলিকে ১৪৯ রানে বোল্ড করে ম্যাচ আবার বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। কনোলির বিদায়ের পর শেষ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল মাত্র ৪ রান। কিন্তু শেষ ওভারের স্নায়ুযুদ্ধে তাসকিন আহমেদের বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
হোয়াইটওয়াশের লক্ষ্য পূরণ না হলেও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই সিরিজ জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















